প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই : বিনোদন জগতের উজ্জ্বল আলোয় ঢাকা পড়ে যায় অনেক অপ্রকাশিত অভিজ্ঞতা। সেই আড়াল ভেঙে এবার নিজের এক অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা সামনে আনলেন অভিনেত্রী প্রিয়া বাপট (Priya Bapat)। একটি ছবির শুটিং চলাকালীন সহ-অভিনেতার আচরণ তাঁকে বারবার অস্বস্তিতে ফেলেছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। বহু বছর পর সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলতেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে প্রিয়া জানান, একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিং করতে গিয়ে তিনি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। দৃশ্য অনুযায়ী একটি চুম্বনের মুহূর্ত ছিল, কিন্তু সেই দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় সহ-অভিনেতা বারবার একই কাজ করে যাচ্ছিলেন। তাঁর কথায়, ‘ওই দৃশ্যের জন্য বারবার চেষ্টা হচ্ছিল, আর প্রতিবারই আমাকে চুম্বন করতে হচ্ছিল। এতে আমি ভেতরে ভেতরে অস্বস্তি অনুভব করছিলাম।’
প্রিয়া আরও জানান, শুরু থেকেই সেই দৃশ্য নিয়ে তাঁর সংশয় ছিল। চিত্রনাট্য পড়ার সময়েই তিনি পরিচালকের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ওই দৃশ্যটি আদৌ প্রয়োজনীয় কি না। তিনি বলেন, ‘আমি বারবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এই দৃশ্যটা রাখা জরুরি কি না।’ তবে শেষ পর্যন্ত দৃশ্যটি রাখা হয় এবং শুটিংয়ের সময় তা তাঁর কাছে কঠিন হয়ে ওঠে। অভিনেত্রীর দাবি, চিত্রনাট্যে যতটা ছিল, বাস্তবে শুটিংয়ের সময় সহ-অভিনেতা তার থেকেও বেশি এগিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘স্ক্রিপ্টে যা লেখা ছিল, সেটার সীমা কিছুটা অতিক্রম করা হচ্ছিল।’ এই অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে অস্বস্তিতে ফেলেছিল, কিন্তু সেই সময় কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা বুঝতে পারেননি। উল্লেখ্য, ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’ (Munna Bhai M.B.B.S.)-এ অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া প্রিয়া বাপট বলেন, ‘আমি তখন বুঝতেই পারিনি কী করা উচিত। প্রতিবাদ করার কথা মাথায় এলেও, কীভাবে বলব সেটা জানতাম না।’ তাঁর এই মন্তব্যে বোঝা যায়, পরিস্থিতির মধ্যে থেকেও অনেক সময় শিল্পীরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে তুলতে পারেন না।
শুটিং শেষ হওয়ার পরেও সেই অস্বস্তি কাটেনি বলে জানান তিনি। প্রিয়া বলেন, ‘পুরো বিষয়টা আমার মনে রয়ে গিয়েছিল। শুটিং শেষ হলেও সেই অনুভূতি সহজে দূর হয়নি।’ এই অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত জীবনের একটি কঠিন অধ্যায় হয়ে রয়েছে। প্রিয়া আরও জানান, শুটিং চলাকালীন তাঁরা একই হোটেলে ছিলেন। সেই সময় সহ-অভিনেতা তাঁকে একাধিক বার প্রাতরাশ বা নৈশভোজে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে তিনি সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর কথায়, ‘আমি বারবার না বলেছি, তবুও আমন্ত্রণ আসত।’ এই পরিস্থিতির কথা জানার পর তাঁর স্বামী উমেশ কামাত (Umesh Kamat) ভোপাল (Bhopal) থেকে শুটিংয়ের জায়গায় পৌঁছে যান। প্রিয়ার পাশে থাকার জন্যই তিনি সেখানে যান বলে জানা যায়। এরপর বাকি শুটিংয়ের দিনগুলিতে উমেশ তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এই সমর্থন তাঁর কাছে বড় ভরসা হয়ে উঠেছিল।
প্রিয়া বাপটের এই অভিজ্ঞতা সামনে আসার পর চলচ্চিত্র জগতে কাজের পরিবেশ নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিংয়ে সীমা, সম্মতি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমান সময়ে অনেক প্রযোজনা সংস্থা এবং নির্মাতারা ‘ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর’ রাখার দিকে জোর দিচ্ছেন, যাতে এই ধরনের দৃশ্য শুটিংয়ের সময় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের স্বস্তি বজায় থাকে। তবে অতীতে এই ধরনের ব্যবস্থা সব সময় ছিল না, যার ফলে অনেক শিল্পীকেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। প্রিয়ার এই অভিজ্ঞতা সেই দিকটিকেই সামনে এনে দিয়েছে। তিনি সরাসরি কাউকে আক্রমণ না করলেও, তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, শুটিং সেটে পারস্পরিক সম্মান এবং সীমারেখা বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
বিনোদন জগতের অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে এলে ভবিষ্যতে কাজের পরিবেশ আরও উন্নত হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের শিল্পীরাও নিজেদের অবস্থান নিয়ে সচেতন হতে পারবেন। প্রিয়া বাপটের সাহসী এই স্বীকারোক্তি শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা নয়, বরং গোটা ইন্ডাস্ট্রির কাজের সংস্কৃতি নিয়ে ভাবনার জায়গা তৈরি করেছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে এক বাস্তবতা, যা অনেক সময় আলোচনার বাইরে থেকে যায়। কিন্তু, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আসছে, কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতাগুলি সামনে এলে সেই পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি করে অনুভূত হয়। প্রিয়ার এই খোলামেলা মন্তব্য সেই পরিবর্তনের আলোচনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Priyanka Chopra bedroom secret | রবিবার মানেই ঘনিষ্ঠতা! বেডরুম সিক্রেট ফাঁস করলেন প্রিয়াঙ্কা-নিক, নিন্দুকদের মুখে ফের তালা



