সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করার দাবি তুলে পশ্চিমবঙ্গে চালু হল VB-G RAM G (VB-G RAM G) প্রকল্প। পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তরের এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। হাওড়ার উলুবেড়িয়া ২ ব্লকের জোয়ারগোড়ি গ্রামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি নিজেই কোদাল হাতে নেমে পড়েন খাল পরিষ্কারের কাজে। প্রশাসনের তরফে এই দৃশ্যকে প্রতীকী সূচনা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। নতুন প্রকল্পের মূল আকর্ষণ, বছরে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের আশ্বাস। এতদিন গ্রামীণ স্তরে ১০০ দিনের কাজই বেশি পরিচিত ছিল। VB-G RAM G প্রকল্পে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ১২৫ দিনে উন্নীত করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এর ফলে গ্রামীণ এলাকার বহু পরিবার আরও বেশি কর্মদিবস পাবে, যা সরাসরি তাদের আয়ের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই এই প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি আবাস যোজনা এবং সড়ক প্রকল্পের কাজও শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্প দুর্নীতি ও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে ছিল। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই এই উদ্যোগ। VB-G RAM G প্রকল্পের আওতায় দক্ষ, অর্ধদক্ষ এবং অদক্ষ তিন ধরনের শ্রমিকেরজন্য কাজের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ, খাল ও নিকাশি সংস্কার, পুকুর খনন, জলধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি, এবং বিভিন্ন সামাজিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার মতো কাজে শ্রমিকদের যুক্ত করা হবে। এছাড়া প্রতিটি পরিবারের জন্য শৌচাগার নির্মাণের লক্ষ্যও নেওয়া হয়েছে, যা স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘আমরা চাই গ্রাম থেকেই উন্নয়নের গতি শুরু হোক। কর্মসংস্থান তৈরি হলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে বৃহত্তর জাতীয় পরিকল্পনার সঙ্গেও এই প্রকল্পের সংযোগ। ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে দাবি।
প্রশাসনিক স্তরে ইতিমধ্যেই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করার চেষ্টা চলছে। ই-কেওয়াইসি (e-KYC) যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সুবিধা পৌঁছয়। অতীতে ভুয়ো জব কার্ড এবং অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসায় এবার শুরু থেকেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ নিয়েও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। মন্ত্রীর দাবি, এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ রাস্তা, শৌচাগার এবং অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ সঠিক ভাবে ব্যবহার করা গেলে গ্রামাঞ্চলে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্ত রাখা হয়েছে। জানানো হয়েছে, যাঁদের নাম বৈধ ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাঁরাই এই প্রকল্পের আওতায় কাজ পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন। এর পাশাপাশি অনিয়ম রুখতে কঠোর অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যোগ্য মানুষের হাতে কাজ পৌঁছে দেওয়া আমাদের লক্ষ্য।’
উলুবেড়িয়ার গ্রামে উদ্বোধনের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসাহ চোখে পড়ার মতো ছিল। অনেকেই মনে করছেন, কাজের দিন বাড়লে তাঁদের সংসারে আর্থিক স্বস্তি আসতে পারে। আবার কেউ কেউ দেখছেন দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সম্ভাবনা, বিশেষ করে রাস্তা, জলনিকাশি ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে। গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই জায়গায় প্রশাসন কতটা দ্রুত এবং কার্যকর ভাবে কাজ করতে পারে, তার উপর নির্ভর করবে VB-G RAM G প্রকল্পের সাফল্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে গ্রামীণ কর্মসংস্থানে একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বর্তমান সময়ে যখন কর্মসংস্থান একটি বড় প্রশ্ন, তখন এই ধরনের উদ্যোগ স্বাভাবিক ভাবেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। ১২৫ দিনের কাজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়ে নজর থাকবে রাজ্যের বিভিন্ন মহলে। দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) -এর এই ঘোষণা এবং প্রকল্প উদ্বোধন রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিসরে নতুন করে আলোড়ন তৈরি করেছে। গ্রামীণ মানুষের জীবনে এই প্রকল্প কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে, তবে শুরুটা যে জোরাল, তা বলাই যায়।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mobile Recharge Cost in India | মোবাইল রিচার্জের বাড়তি চাপ: সংকটে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার, জরুরি পদক্ষেপের দাবি



