সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজ্য রাজনীতিতে একের পর এক নাটকীয় ঘটনার মধ্যে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল তৃণমূল কংগ্রেস ঘিরে। দলীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ হারানোর অল্প সময়ের মধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছে গেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি (Enforcement Directorate বা ED)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা, উঠছে নানা প্রশ্ন।
সূত্রের খবর, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন করে শমন পৌঁছে দিতেই বুধবার বিকেলে ইডি আধিকারিকরা তাঁর কালীঘাট (Kalighat) ও হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট (Harish Chatterjee Street) -এর বাসভবনে যান। যদিও তদন্তকারী সংস্থার তরফে এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে আসেনি, তবুও ঘটনাটি ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক সমালোচকদের মতে, এই ঘটনার সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ঠিক এর আগেই তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) তাদের সমস্ত সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে পূর্বতন পদাধিকারীদের পদ কার্যত বিলুপ্ত হয়েছে এবং নতুন কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত পুরনো কাঠামো কার্যকর থাকছে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদও আর বহাল নেই।
এই প্রেক্ষাপটে ইডি (Enforcement Directorate) -এর এই পদক্ষেপ আরও বেশি করে রাজনৈতিক গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে। একাধিক সূত্রের দাবি, তদন্তের গতি গত কয়েক সপ্তাহে আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই রাজ্যের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সেই তালিকায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নতুন করে সামনে আসায় উত্তেজনা বাড়ছে। এর আগে বিধায়কদের স্বাক্ষর সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত মামলাতেও রাজ্য সিআইডি (CID) এবং পুলিশের তরফে তাঁর বাসভবনে নোটিশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কেন্দ্রীয় সংস্থার পদক্ষেপ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) -ঘনিষ্ঠ মহল এই ঘটনাকে অন্যভাবে দেখছে। তাদের দাবি, ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে কেন্দ্রীয় সংস্থার ব্যবহার নতুন নয়।’ তাঁদের মতে, ‘নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করার কৌশল হিসেবেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’ এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে বিজেপি (BJP) -এর একাংশের বক্তব্য, ‘দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তদন্তকারী সংস্থা তাদের কাজ করবে, সেটাই স্বাভাবিক।’ তাঁদের মতে, আইনের পথে তদন্ত চলা উচিত এবং কোনও ব্যক্তি বিশেষের জন্য আলাদা নিয়ম হতে পারে না।
জানা গিয়েছে, ইডি আধিকারিকরা যখন কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছন, তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। সূত্রের দাবি, তিনি সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। ফলে ইডি আধিকারিকরা সরাসরি তাঁর হাতে শমন তুলে দিতে পারেননি। পরে আবার তাঁরা এসে নোটিশ প্রদান করবেন বলে জানা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, আগামী কয়েক দিনে এই মামলার গতিপ্রকৃতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) রাজনৈতিক অবস্থান এবং দলের ভেতরের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের সঙ্গে এই তদন্তের যোগসূত্র নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে নজর রয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এই শমনের জবাব কীভাবে দেন এবং তদন্তকারী সংস্থা পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী করে। আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়, তা নির্ভর করবে তাঁর উপস্থিতি, জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রাপ্ত তথ্যের উপর। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) -এর সংগঠনিক পুনর্গঠন এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত, দু’টি বিষয়ই একসঙ্গে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। আগামী দিনে এই দুই প্রক্রিয়ার ফলাফল রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Abhishek Banerjee Lok Sabha, TMC internal conflict news | লোকসভায় অভিষেককে ঘিরে অনাস্থার গুঞ্জন! তৃণমূলের অন্দরে টানাপোড়েন, দিল্লি থেকে কলকাতা : চর্চায় নতুন সমীকরণ




