সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ আহমেদাবাদ: আইপিএল ফাইনালের রোমাঞ্চ শেষ হতে না হতেই ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। গুজরাত টাইটান্স (Gujarat Titans) দলের টিম বাসে আচমকা আগুন লাগার জেরে রাতের শহরে প্রায় এক ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হল শুভমন গিলদের (Shubman Gill)। যদিও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি, তবুও এই ঘটনাকে ঘিরে আইপিএল (IPL) মহলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
রবিবার রাতে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম (Narendra Modi Stadium) থেকে হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল গুজরাতের দল। ফাইনালে পরাজয়ের হতাশা তখনও কাটেনি ক্রিকেটারদের। তার মাঝেই আচমকা বাসের ভিতর থেকে ধোঁয়া বেরোতে শুরু করে। পরে জানা যায়, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে পারত, তবে সতর্কতার সঙ্গে দ্রুত বাস থামিয়ে দেওয়া হয় এবং ক্রিকেটারদের নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়। দলের এক সদস্যের কথায়, ‘হঠাৎ করেই বাসের ভিতরে ধোঁয়া জমতে থাকে। আমরা বুঝতে পারি কিছু একটা সমস্যা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে সবাইকে নামানো হয়।’ উপস্থিত সাপোর্ট স্টাফরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেন। আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই বাস খালি করে দেওয়া সম্ভব হয়। তবে বাসটি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে পড়ে।
এই ঘটনার জেরে রাস্তার ধারে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় গিল, মহম্মদ সিরাজ (Mohammed Siraj), কাগিসো রাবাডাদের (Kagiso Rabada)। পরে অন্য একটি বাসের ব্যবস্থা করা হয়। সেই বাসে করেই ক্রিকেটাররা নিরাপদে হোটেলে ফিরে যান। দলের সকল সদস্য সুরক্ষিত আছেন বলেই উল্লেখ।
এই ঘটনা সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে গুজরাত টাইটান্সের টানা সফর ও ম্যাচ সূচি নিয়ে। ২৭ মে ধর্মশালা (Dharamshala) থেকে পাঞ্জাবের মুল্লানপুর (Mullanpur) পৌঁছতে হয়েছিল দলকে। সেখানে ২৯ মে রাজস্থান রয়্যালস (Rajasthan Royals) -এর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে জয় পায় তারা। এরপর পরিকল্পনা ছিল দ্রুত আহমেদাবাদে পৌঁছনোর। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেই যাত্রায় বিলম্ব ঘটে। অবশেষে শনিবার গভীর রাতে আমদাবাদে পৌঁছয় দল। টানা সফর, ম্যাচের চাপ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব, ক্রিকেটারদের ক্লান্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমর্থকদের একাংশের মতে, এই ধকল ফাইনালের পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও দল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বিক্রম সোলাঙ্কি (Vikram Solanki) এই যুক্তিকে সরাসরি মেনে নিতে চাননি।
রবিবার ম্যাচের শেষে সাংবাদিক বৈঠকে বিক্রম সোলাঙ্কি বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে অনেকগুলো ম্যাচ খেলেছি, তাই ক্লান্তি থাকতেই পারে। তবে শুধু এই কারণ দেখিয়ে প্রতিপক্ষের সাফল্যকে ছোট করা ঠিক নয়।’ তাঁর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয় পেশাদার মনোভাব এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান। অন্যদিকে, রবিবার ফাইনালে গুজরাতের ব্যাটিং খুব একটা জমেনি। নির্ধারিত ওভারে মাঝারি মানের স্কোর তুলেই থেমে যায় দল। পরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (Royal Challengers Bangalore) সেই লক্ষ্য সহজেই অতিক্রম করে। বিরাট কোহলির (Virat Kohli) ব্যাটে শেষ হয় ম্যাচ। ফলে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় গুজরাতকে। এই অবস্থায় বাসে আগুন লাগার ঘটনা যেন দলের জন্য আরও এক ধাক্কা। যদিও বড় কোনও দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে, তবুও এমন পরিস্থিতি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে আঙুল তুলছে। বিশেষ করে এত বড় টুর্নামেন্টে দলগুলির যাতায়াত ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।
আইপিএলের মতো উচ্চমানের প্রতিযোগিতায় যেখানে প্রতিটি দল ও ক্রিকেটারের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা, সেখানে এই ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে আয়োজকদের আরও সচেতন হতে হবে, এই দাবিও উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহল থেকে। ঘটনার পর যদিও গুজরাত টাইটান্সের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো হয়নি, তবে সূত্রের খবর, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাসে আগুন লাগার সঠিক কারণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে তদন্ত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। প্রসঙ্গত, রবিবারের রাত তাই গুজরাত দলের জন্য শুধুই হারের স্মৃতি নয়, বরং এক অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়ে রইল। মাঠের লড়াই শেষ হওয়ার পরেও যে এমন ঘটনা অপেক্ষা করছিল, তা কেউ ভাবেনি। তবে সবচেয়ে স্বস্তির খবর, সবাই নিরাপদে রয়েছেন।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shubman Gill Success Story | অবিনাশের হাত ধরে আজকের তারকা ব্যাটার শুভমন গিল



