সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজ্যে সদ্য ঘোষিত অন্নপূর্ণা যোজনাকে (Annapurna Yojana) ঘিরে ইতিমধ্যেই আগ্রহ তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের আবেদনপত্র প্রকাশ করার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে আবেদন করার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। শুক্রবার থেকে বহু আবেদনকারী ফর্ম পূরণ করতে নামবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে ১২ পাতার দীর্ঘ আবেদনপত্র সামনে আসতেই একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কীভাবে পূরণ করবেন এত তথ্য? কোথায় পাবেন সাহায্য? এই প্রশ্নের উত্তরেই সামনে এল গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা।
অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে একাধিক তথ্য চাওয়া হয়েছে, যা অনেকের কাছে জটিল মনে হতে পারে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা, প্রবীণ নাগরিক বা প্রথমবার সরকারি প্রকল্পে আবেদন করতে যাঁরা এগোচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি হওয়াই স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘ফর্ম পূরণ করতে সমস্যা হলে আবেদনকারীরা সরাসরি স্থানীয় বিডিও অফিস বা পুরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।’ অর্থাৎ, সরকারি স্তরেই সাহায্যের দরজা খোলা রাখা হয়েছে। সূত্রের খবর, বিডিও অফিস (BDO Office) এবং পুরসভার (Municipality) আধিকারিকরাই এই প্রকল্পের আবেদন যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকবেন। ফলে ফর্মের কোনও অংশ বুঝতে সমস্যা হলে বা কীভাবে তথ্য পূরণ করতে হবে তা নিয়ে সংশয় থাকলে সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে সরাসরি পরামর্শ নেওয়া যাবে। প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘মানুষ যাতে সহজে আবেদন করতে পারেন, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’
এই প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ডোর-টু-ডোর যাচাই প্রক্রিয়া। রাজ্যজুড়ে প্রায় ৩০ দিন ধরে এই বিশেষ যাচাই অভিযান চলবে। প্রশাসনিক কর্মীরা আবেদনকারীদের বাড়িতে গিয়ে তথ্য মিলিয়ে দেখবেন। ফলে ফর্মে যদি কোনও ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থেকে যায়, তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে। তবে কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের উদ্দেশে জানিয়েছেন, ‘প্রথম থেকেই যতটা সম্ভব নির্ভুল তথ্য দেওয়া প্রয়োজন, যাতে পরবর্তী যাচাই প্রক্রিয়ায় সমস্যা না হয়।’ অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্রে ব্যক্তিগত পরিচয়, পরিবারের আর্থিক অবস্থা, ঠিকানা, রেশন কার্ডের তথ্য, পরিচয়পত্রের বিবরণ সহ একাধিক তথ্য দিতে বলা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় নথির কপি জমা দিতে হবে। তাই ফর্ম পূরণের আগে সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতের কাছে রাখা জরুরি। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ‘ফর্ম পূরণের আগে আবেদনকারীরা প্রয়োজনীয় নথি গুছিয়ে নিলে কাজ অনেক সহজ হবে।’
যদিও এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পের জন্য আলাদা কোনও টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর চালু হয়নি। ফলে ফোন বা অনলাইন মাধ্যমে সাহায্য পাওয়ার সুযোগ সীমিত। এই অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসনিক অফিসই ভরসা। অনেক এলাকায় পঞ্চায়েত স্তরে সহায়তা শিবির আয়োজনের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে সূত্রের খবর। যদিও সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। অন্নপূর্ণা যোজনার মূল লক্ষ্য হল রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হবেন বহু পরিবার, এমনটাই আশা করা হচ্ছে। ফলে আবেদন প্রক্রিয়া যতটা সহজ করা যায়, সেই চেষ্টা চলছে প্রশাসনের তরফে। ফর্মের দৈর্ঘ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও প্রশাসন মনে করছে, তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই বিস্তারিত কাঠামো রাখা হয়েছে। কারণ আবেদনকারীদের প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করে তবেই সুবিধা দেওয়া হবে। সেই কারণে প্রতিটি তথ্যই গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক আবেদনকারী ইতিমধ্যেই ফর্ম ডাউনলোড করে প্রস্তুতি শুরু করেছেন। শহর ও গ্রাম দুই জায়গাতেই সমান আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তবে যাঁরা প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত নন, তাঁদের জন্য সরাসরি অফিসে গিয়ে সাহায্য নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, ‘মানুষের মধ্যে যেন কোনও ভয় না থাকে। ধাপে ধাপে সাহায্য করা হবে।’ এই বক্তব্যে আবেদনকারীদের উদ্বেগ কিছুটা হলেও কমতে পারে। কারণ, দীর্ঘ ফর্ম হলেও সঠিক দিশা পেলে তা পূরণ করা কঠিন নয়। আবেদনকারীদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হল, তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে ফর্ম পূরণ করা। প্রতিটি তথ্য যাচাই করে লিখলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমবে। প্রয়োজন হলে পরিবারের অন্য সদস্যদের সাহায্য নেওয়াও যেতে পারে।
আগামী কয়েক সপ্তাহ অন্নপূর্ণা যোজনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ব্যস্ততা বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। আবেদন গ্রহণ, যাচাই এবং অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করতে একাধিক দফতর একযোগে কাজ করবে। প্রসঙ্গত, অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের সামনে নতুন সুযোগের দরজা খুলেছে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সঠিকভাবে ফর্ম পূরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আর সেই কাজে পাশে থাকছে স্থানীয় প্রশাসন, এই বার্তাই তুলে ধরা হচ্ছে সরকারি স্তর থেকে।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : DBT link online, Annapurna Bhandar scheme | অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পেতে DBT লিঙ্ক করুন ঘরে বসেই, জানুন সহজ উপায়




