সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ তিরুবন্তপুরম : কেরলের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর তল্লাশি অভিযানকে ঘিরে। নিজের বাসভবনে ইডির হানার পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম (CPM) পলিটব্যুরোর সদস্য পিনারাই বিজয়ন (Pinarayi Vijayan) সরাসরি কংগ্রেস (Congress) -এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন। তাঁর দাবি, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলিকে চাপে রাখতে ইডিকে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় কংগ্রেসও নীরব সমর্থন দিচ্ছে। বুধবার ‘কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড’ (CMRL) সংক্রান্ত একটি দুর্নীতি মামলার সূত্র ধরে তিরুবন্তপুরমে বিজয়নের ভাড়াবাড়ি এবং কান্নুরে তাঁর পারিবারিক বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডির দল। একই সঙ্গে কেরলের বিভিন্ন প্রান্তে আরও কয়েকটি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এই অভিযান চলার পর সাংবাদিকদের সামনে মুখ খুলে বিজয়ন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই আমার বাড়িতে তল্লাশি চালানোর চেষ্টা হচ্ছিল। এই ঘটনার ফলে কিছু মানুষ খুশি হবেন, বিশেষ করে রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) -এর মতো কেউ।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে বিজয়ন বলেন, ‘তাদের অবস্থান এমন যে, নিজেদের দল ছাড়া অন্যদের বিরুদ্ধে ইডির হস্তক্ষেপ চলুক, এটাই তারা চায়।’
কেরল বিধানসভা নির্বাচনে সম্প্রতি সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ (LDF) জোট পরাজিত হয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF)-এর কাছে। টানা দশ বছর ক্ষমতায় থাকার পর মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়েছে বিজয়নকে। এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইডির এই অভিযানকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিজয়নের মতে, ‘রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের দুর্বল করতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে কাজে লাগানো হচ্ছে এবং তাতে বিরোধী দল হিসেবেও কংগ্রেস সুবিধা নিচ্ছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘রাহুল গান্ধী নিজেই প্রশ্ন তুলেছিলেন কেন তাঁর বাড়িতে তল্লাশি হয়নি, কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, কংগ্রেস একদিকে কেন্দ্রের বিজেপি (BJP) সরকারের সমালোচনা করলেও, অন্যদিকে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সেই সরকারের পদক্ষেপে আপত্তি করছে না। এই মামলায় ইতিমধ্যেই বিজয়নের কন্যা বীণা থাইক্কান্দিইল (Veena Thayikkandi) -এর নাম জড়িয়েছে বলে সূত্রের খবর। তাঁর স্বামী মহম্মদ রিয়াজ় (Mohammed Riyas) কেরলের বাম সরকারের সময় পূর্তমন্ত্রী ছিলেন এবং সিপিএমের সক্রিয় নেতা। ফলে এই তদন্ত রাজনৈতিকভাবে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিন তল্লাশি চলাকালীন তিরুঅনন্তপুরমের বেকারি জংশন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, সিপিএমের কর্মী-সমর্থকদের একাংশ ইডির দলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন। পরিস্থিতি ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কিছু ক্ষেত্রে সহিংসতার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তারক্ষীদের দিকে প্লাস্টিকের বোতল, হেলমেট ও পাথর ছোঁড়া হয়, এমনকী কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও সামনে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে সিপিএম নেতৃত্ব হস্তক্ষেপ করে এবং বিক্ষোভকারীদের শান্ত করে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং তল্লাশি অভিযান নির্বিঘ্নে শেষ করতে সক্ষম হয় ইডির দল। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ মনে করছে, কেরলের সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতির মধ্যেই এই অভিযান বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলির একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এই ঘটনার পর কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে—ইডির অভিযান কি শুধুই আইনি প্রক্রিয়া, না কি এর পেছনে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশল? উল্লেখ্য, কেরলের রাজনীতিতে এই ঘটনার প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে পিনারাই বিজয়নের মন্তব্য ইডির এই পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়েছে, তা বলাই যায়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Assam Uniform Civil Code bill, live-in registration law India, Himanta Biswa Sarma UCC Assam | একত্রবাসে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করতে উদ্যোগ, অসমে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক




