Kalbaishakhi rain West Bengal, Bengal weather rain update | দহন ভেঙে স্বস্তির বার্তা! কালবৈশাখীর ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজল বাংলা, একাধিক জেলায় তাপমাত্রা নামল হঠাৎ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : দীর্ঘদিনের তীব্র গরমের দাপটের মাঝে অবশেষে স্বস্তির স্পর্শ পেল পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)। দুপুরের পর থেকেই ঝাড়খণ্ড (Jharkhand) ও ওড়িশা (Odisha) দিক থেকে আসা বজ্রগর্ভ মেঘ রাজ্যের আকাশ ঢেকে ফেলতেই একাধিক জেলায় নেমে এল কালবৈশাখী (Kalbaishakhi)। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাবে এক ধাক্কায় নেমে গেল তাপমাত্রা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা দাবদাহ থেকে সাময়িক মুক্তি পেয়ে স্বস্তি অনুভব করছেন সাধারণ মানুষ।

আরও পড়ুন : India fuel price comparison, petrol diesel price India vs world | বিশ্বজুড়ে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ঝড়, ভারতে মাত্র সাড়ে ৭ টাকার বৃদ্ধি, হরমুজ সঙ্কটে তুলনামূলক চিত্রে চমক

আবহাওয়া দফতর আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল, বিকেলের পর পরিস্থিতি বদলাতে পারে। সেই পূর্বাভাস অনুযায়ী বুধবার বিকেল গড়াতেই আকাশের চেহারা বদলে যায়। প্রথমে কালো মেঘ জমে, তারপর শুরু হয় ঝোড়ো হাওয়া, আর তার পরেই বজ্রপাতের শব্দে নামে বৃষ্টি। এই আবহাওয়ার পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে। বাঁকুড়া (Bankura) জেলায় গত কয়েক দিন ধরেই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল। রোদের তেজ এতটাই বেশি ছিল যে দুপুরের পর রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যেত। কিন্তু বুধবার বিকেলে হঠাৎ করেই আকাশ কালো হয়ে আসে। স্থানীয়দের কথায়, ‘হঠাৎ করে যেন দিনটাই বদলে গেল।’ কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় ঝোড়ো হাওয়া এবং তার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি। ফলে তাপমাত্রা দ্রুত নেমে যায় এবং পরিবেশে স্বস্তি ফিরে আসে।

একই পরিস্থিতি দেখা যায় পুরুলিয়া (Purulia) জেলাতেও। সেখানে টানা গরমে নাজেহাল অবস্থা ছিল। কিন্তু বিকেলের দিকে কালবৈশাখীর আগমনে পরিস্থিতি বদলে যায়। কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ, শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া এবং তার সঙ্গে বৃষ্টি। বাসিন্দারা বলেন, ‘অনেক দিন পর এমন স্বস্তি পেলাম।’ তবে বজ্রপাতের আশঙ্কায় কিছুটা সতর্কতাও দেখা গিয়েছে। শিল্পাঞ্চল আসানসোলে (Asansol) দিনভর গরম থাকলেও বিকেলের পর আবহাওয়ার আমূল পরিবর্তন হয়। সকাল থেকে তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকলেও বৃষ্টির পর তা নেমে দাঁড়ায় প্রায় ২৬ ডিগ্রিতে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়, যা পরিবেশকে আরও আরামদায়ক করে তোলে। স্থানীয়দের মতে, ‘গরমে হাঁসফাঁস করছিলাম, বৃষ্টি নামতেই যেন প্রাণ জুড়িয়ে গেল।’ পূর্ব বর্ধমান (Purba Bardhaman) জেলাতেও বিকেলের দিকে একই চিত্র দেখা যায়। কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ, শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টি। কিছু এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনাও ঘটেছে। তবে বড় ধরনের ক্ষতির খবর মেলেনি। বৃষ্টির পর তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় পরিবেশ অনেকটাই মনোরম হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুর (Purba Medinipur) জেলায় দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া গেছে। সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার দাপটও ছিল চোখে পড়ার মতো। মৎস্যজীবীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আবহাওয়া দফতরের মতে, এই বৃষ্টিপাত মূলত কালবৈশাখীর প্রভাবে হয়েছে, যা সাধারণত গ্রীষ্মকালে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় দেখা যায়। এই ঝড়-বৃষ্টি স্বল্প সময়ের জন্য হলেও তাপমাত্রা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এর সঙ্গে বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়ার ঝুঁকিও থাকে, যা নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ দিন রাতের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা কমলেও আকাশ মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে তাপমাত্রা আপাতত খুব বেশি বাড়বে না বলেই মনে করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিন এই ধরনের আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে হাওয়া অফিস। উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ক্রমাগত ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে এই বৃষ্টি অনেকটাই স্বস্তি এনে দিয়েছে। কিন্তু, আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। গরম আবার বাড়তে পারে, যদিও মাঝে মধ্যে কালবৈশাখীর দাপট দেখা যেতে পারে। ফলে মানুষকে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই বৃষ্টির প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে। কৃষিক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বজ্রপাতের ঝুঁকি মাথায় রেখে সতর্কতা অবলম্বনের কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছে প্রশাসন।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Neelam Meena, West Bengal CEO | পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নীলম মিনা, প্রশাসনে অভিজ্ঞতার নতুন অধ্যায়

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন