Santiniketan Sonajhuri, Khoyai Haat rules | সোনাঝুরি হাটে কড়া বিধিনিষেধ, জেসিবি নামিয়ে রাস্তা বন্ধ, পর্যটকদের গাড়ি প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বোলপুর: শান্তিনিকেতন (Santiniketan) মানেই প্রকৃতির স্নিগ্ধতা, খোয়াইয়ের অনন্য ভূপ্রকৃতি আর সোনাঝুরি (Sonajhuri) জঙ্গলের ছায়াঘেরা পরিবেশ। বছরের বিভিন্ন সময়ে হাজার হাজার পর্যটক এখানে ভিড় জমালেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে অবশেষে কড়া পদক্ষেপ নিল বনদফতর। সোনাঝুরি হাট এলাকায় চারচাকা গাড়ির প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকী, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে জেসিবি (JCB) নামিয়ে সংযোগকারী কাঁচা রাস্তা কেটে দেওয়া হয়েছে। বহুদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, সপ্তাহান্তে খোয়াইয়ের হাটে পর্যটকদের গাড়ির ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে সোনাঝুরি জঙ্গল ও খোয়াই অঞ্চলের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি ছিল, ‘অতিরিক্ত গাড়ির চাপে মাটির গঠন নষ্ট হচ্ছে, যা এই এলাকার বৈশিষ্ট্যকে বদলে দিচ্ছে।’ এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই বনদফতর কঠোর অবস্থান নেয়।

আরও পড়ুন : Mamata Banerjee statement, Kerala renamed Keralam | ‘কেরলম’ অনুমোদনের পর তীব্র সুর মমতার, ‘বিজেপি-সিপিএম যোগ এখন লিখিত’ : পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’ করেই ছাড়বেন দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

সূত্রের খবর, বনদফতরের আধিকারিকরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখেন, যত্রতত্র চারচাকা গাড়ি ঢুকে পড়ায় খোয়াইয়ের প্রাকৃতিক ঢাল ও মাটির স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, শব্দদূষণ ও বর্জ্য ফেলার সমস্যাও ক্রমশ বাড়ছিল। ফলে পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়। সেই মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে হাটের সঙ্গে যুক্ত একাধিক কাঁচা রাস্তা গভীরভাবে খুঁড়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনওভাবেই চারচাকা যান ঢুকতে না পারে। এই পদক্ষেপের ফলে এখন থেকে সোনাঝুরি হাট এলাকায় পর্যটকদের হেঁটেই বা নির্দিষ্ট পরিবেশবান্ধব যানবাহন ব্যবহার করে প্রবেশ করতে হবে। বনদফতরের তরফে জানানো হয়েছে, ‘খোয়াইয়ের প্রাকৃতিক রূপ অক্ষুণ্ণ রাখতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ ইতিমধ্যেই এলাকাজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং নিয়ম ভাঙলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

শান্তিনিকেতন ও বোলপুর (Bolpur) অঞ্চলের পর্যটন অর্থনীতির সঙ্গে সোনাঝুরি হাট গভীরভাবে যুক্ত। স্থানীয় কারিগর, শিল্পী এবং হস্তশিল্প বিক্রেতাদের জন্য এই হাট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তবে পরিবেশের ক্ষতির প্রশ্নে প্রশাসন এবার কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। ফলে পর্যটনের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগেও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। চলতি বছর বসন্ত উৎসব বা দোলের সময় সোনাঝুরি এলাকায় রং খেলা নিষিদ্ধ করা হয়। সেই সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কয়েকদিনের জন্য হাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। এবার গাড়ির প্রবেশ বন্ধ করে আরও একধাপ এগোল বনদফতর।

স্থানীয়দের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁদের মতে, ‘প্রকৃতি বাঁচাতে হলে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হয়।’ অন্যদিকে, পর্যটকদের একাংশের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষও দেখা যাচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, দূর থেকে আসা পর্যটকদের জন্য এই বিধিনিষেধ কিছুটা অসুবিধা তৈরি করবে। তবে প্রশাসনের অবস্থান পরিষ্কার, পরিবেশ রক্ষা সর্বাগ্রে। সোনাঝুরি জঙ্গল ও খোয়াইয়ের হাট শুধুমাত্র একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক পরিসরও বটে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore)-এর স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতনের আবহে এই হাটের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই এই এলাকার স্বকীয়তা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলেই মনে করছে প্রশাসন। বর্তমানে বনদফতর ও স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে। নিয়ম কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও কিছু নির্দেশিকা জারি হতে পারে বলেও জানা যাচ্ছে।

পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে এই ধরনের উদ্যোগ রাজ্যের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলির জন্যও একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে। পর্যটনের চাপ সামলাতে গিয়ে প্রকৃতির ক্ষতি হলে তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হয়। তাই সময় থাকতে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোনাঝুরি হাটে নতুন এই নিয়ম চালু হওয়ায় পর্যটকদের পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন আনতে হতে পারে। তবে প্রকৃতির স্বার্থে এই ধরনের পদক্ষেপ যে প্রয়োজনীয়, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এখন দেখার, এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হয় এবং খোয়াইয়ের সেই চিরচেনা রূপ কতটা ফিরে পাওয়া যায়।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : মোবাইল রিচার্জের দাম ঊর্ধ্বমুখী: ভারতে বাড়ছে ডিজিটাল খরচের চাপ, বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন