Papia Adhikari Tollywood, Technicians Studio controversy | টালিগঞ্জে গঙ্গাজল ছিটিয়ে বিতর্কে পাপিয়া অধিকারী, অভিনেত্রী নিরাপত্তায় কড়া নির্দেশ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: টালিগঞ্জের বিনোদন জগতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন বিজেপি বিধায়ক ও অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী (Papia Adhikari)। টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োর (Technicians Studio) ফেডারেশন অফিসে গিয়ে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’-এর কথা ঘোষণা, পাশাপাশি শিল্পীদের কাজের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক কড়া নির্দেশ, এসব মিলিয়ে বুধবারের ঘটনাপ্রবাহে সরগরম টলিউড মহল। উল্লেখ্য, সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress) -এর প্রার্থী অরূপ বিশ্বাসকে (Aroop Biswas) বড় ব্যবধানে পরাজিত করার পর টালিগঞ্জে প্রথমবার প্রবেশ করেন পাপিয়া অধিকারী। স্টুডিয়ো চত্বরে তাঁকে সংবর্ধনা জানান কলাকুশলী ও বিভিন্ন গিল্ডের সদস্যরা। উপস্থিত ছিলেন ভেন্ডার গিল্ডের সম্পাদক সৈকত দাস (Saikat Das) -সহ একাধিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের কাছ থেকে শুভেচ্ছা পেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়।

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi, Kerala Development Projects 11000 Crore | কেরলের উন্নয়নে ১১ হাজার কোটির প্রকল্প উদ্বোধন, কোচিতে বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, জোর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও সবুজ শক্তিতে

কিন্তু সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসে ফেডারেশন অফিসে তাঁর কার্যকলাপ। বোতলে করে আনা গঙ্গাজল চারদিকে ছিটিয়ে তিনি বলেন, ‘শুদ্ধিকরণ করব বলেই গঙ্গাজল এনেছিলাম। এ বার শুদ্ধ হল চারপাশ।’ এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। তাঁর পাশে ছিলেন প্রখ্যাত জাদুকর পি.সি. সরকার (P. C. Sorcar) -এর দুই কন্যা মুমতাজ সরকার (Mumtaz Sorcar) ও মানেকা সরকার (Maneka Sorcar)। ফেডারেশন অফিসে দাঁড়িয়ে পাপিয়া অধিকারী আরও বলেন, ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স-এর জমানা শেষ। অরূপ এবং স্বরূপ বিশ্বাসের (Swarup Biswas) দাদাগিরি আর চলবে না। এখন থেকে সবাই নিজের মতো করে কাজ করতে পারবেন।’ তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত কলাকুশলীদের একাংশের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

শুধু রাজনৈতিক মন্তব্যেই থেমে থাকেননি পাপিয়া। টলিউডে কাজের পরিবেশ উন্নত করতে তিনি বেশ কিছু নির্দেশও দেন। বিশেষ করে মহিলা শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, ‘শুটিং শেষ হতে যদি রাত হয়ে যায়, তাহলে অভিনেত্রীদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।’ তাঁর মতে, এই বিষয়টি প্রযোজনা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। এছাড়া কলটাইম নিয়েও কড়া অবস্থান নেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘শিল্পী এবং কলাকুশলীদের কলটাইম অন্তত তিন দিন আগে জানাতে হবে।’ এতে কাজের পরিকল্পনা ও ব্যক্তিগত সময় ব্যবস্থাপনায় সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত কলাকুশলীদের একাংশ তাঁদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। কেউ কেউ জানান, কাজের অভাবে অনেকেই বাড়িতে বসে রয়েছেন। অর্থনৈতিক চাপে পড়ে সমস্যায় পড়ছেন বহু পরিবার। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে পাপিয়ার কাছে আবেদন জানান তাঁরা। সব শুনে পাপিয়া অধিকারী আশ্বাস দেন, ‘টলিউডে আরও বেশি কাজ আনার চেষ্টা করা হবে। যাতে সবাই কাজ পান, সেই দিকেই নজর দেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ব্যান সংস্কৃতি আর থাকবে না। কারও কাজ কেড়ে নেওয়া যাবে না।’

টালিগঞ্জের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সবাই মিলে কাজ করি। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরিশ্রম করলে আবার এই ইন্ডাস্ট্রি আগের জায়গায় ফিরবে।’ তাঁর এই মন্তব্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে। পাপিয়ার বক্তব্যে রাজনৈতিক সুরও ছিল প্রবল। পূর্বতন পরিচালন কাঠামোকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘অনেকদিন ধরে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ চলছিল। এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন দরকার।’ তাঁর এই মন্তব্য টলিউডের সংগঠনগুলির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দিকেও নতুন করে নজর টেনেছে। এদিনের ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। একাংশ পাপিয়ার উদ্যোগকে সমর্থন করলেও, অন্য অংশ প্রশ্ন তুলছে এই ধরনের প্রতীকী পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। বিশেষ করে ‘শুদ্ধিকরণ’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

কিন্তু পাপিয়া অধিকারী নিজের অবস্থানে অনড়। তাঁর মতে, ‘পরিবর্তন আনতেই এই উদ্যোগ।’ তিনি মনে করেন, টলিউডের সার্বিক উন্নতির জন্য কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, আগামী দিনে এই ঘোষণাগুলির বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়েই এখন নজর রয়েছে। কলাকুশলীদের কাজের সুযোগ বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং সংগঠনগুলির ভূমিকা, সব নিয়ে টালিগঞ্জের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোয়, তা সময়ই বলবে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kangana Ranaut Birthday Meeting Modi | ৪০ -এ কঙ্গনা: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জন্মদিন উদ্‌যাপন, কী উপহার পেলেন?

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন