সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি/মুম্বাই: একটি ছোট্ট ভিডিয়ো, মাত্র ১২ সেকেন্ড আর তাতেই দালাল স্ট্রিটে চাঞ্চল্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি (Giorgia Meloni) -এর একটি হালকা মেজাজের মুহূর্ত ঘিরে শেয়ার বাজারে তৈরি হল অদ্ভুত পরিস্থিতি। ‘পার্লে মেলোডি’ (Parle Melody) চকোলেটকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিয়োর পরেই বিনিয়োগকারীদের একাংশ ভুলবশত কিনতে শুরু করেন ‘পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ়’ (Parle Industries) -এর শেয়ার যার সঙ্গে ওই চকোলেটের কোনও সম্পর্কই নেই। ঘটনার সূত্রপাত বুধবার বেলা প্রায় ১১টা ৫০ মিনিট নাগাদ। ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি নিজের সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে একটি ছোট ভিডিয়ো পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া ‘মেলোডি’ টফি হাতে নিয়ে তিনি বলছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদী আমার জন্য একটি উপহার এনেছেন। দারুণ টফি।’ তারপর দু’জন একসঙ্গে বলেন, ‘মেলোডি’, এবং হাসিতে ফেটে পড়েন। এই সহজ মুহূর্ত মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়।

ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পর মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যেই শেয়ার বাজারে অস্বাভাবিক গতি লক্ষ্য করা যায়। ‘পার্লে’ নামটি চোখে পড়তেই অনেক বিনিয়োগকারী ‘পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ়’ -এর শেয়ার কেনায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে ওই সংস্থার শেয়ার দামে দ্রুত উত্থান ঘটে। বাজারে এই অপ্রত্যাশিত চাহিদা তৈরি হওয়ায় লেনদেনের পরিমাণও বেড়ে যায়। কিন্তু এখানে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য যে ‘মেলোডি’ চকোলেট নিয়ে এত আলোচনা, সেটি তৈরি করে ‘পার্লে প্রোডাক্ট্স’ (Parle Products) নামে এক ভিন্ন সংস্থা। ‘পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ’ -এর সঙ্গে এর কোনও যোগসূত্র নেই। নামের মিল থেকেই এই বিভ্রান্তির সূত্রপাত বলে বাজারের একাংশের মত। ‘পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ়’ মূলত রিয়্যাল এস্টেট ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি কাগজ ও কাগজজাত পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্য উৎপাদনেও কাজ করে তারা। অন্যদিকে ‘পার্লে প্রোডাক্ট্স’ দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যপণ্য, বিশেষত বিস্কুট ও কনফেকশনারি সামগ্রী তৈরির জন্য পরিচিত। একসময় এই সংস্থা ‘পার্লে-বিসলেরি লিমিটেড’ (Parle Bisleri Limited)-এর অংশ ছিল, তবে পরবর্তী সময়ে আলাদা হয়ে যায়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ‘পার্লে প্রোডাক্ট্স’ শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত নয়। ফলে সরাসরি সেই সংস্থার শেয়ার কেনার সুযোগ নেই। এই তথ্য না জানার কারণেই বহু লগ্নিকারী নাম দেখে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সময়সূচী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভিডিয়ো প্রকাশের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বিষয়টি দ্রুত ট্রেডিং মনোভাবকে প্রভাবিত করে। অনেকেই ভেবেছেন, ‘পার্লে’ নাম থাকা মানেই ওই চকোলেট প্রস্তুতকারক সংস্থা। এই ভুল ধারণার জেরেই শেয়ারের চাহিদা বেড়ে যায়। এদিকে মোদী ও মেলোনির এই মুহূর্ত কূটনৈতিক সফরের অংশ হিসেবেই সামনে এসেছে। ইউরোপ সফরের শেষ পর্যায়ে ইতালি সফরে গিয়ে রোমের ঐতিহাসিক কলোসিয়ামে (Colosseum) একসঙ্গে সময় কাটান দুই রাষ্ট্রনেতা। সেখানে তোলা ছবি এবং পরবর্তী ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ভিডিয়োটির সহজ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পায়। তবে তারই প্রভাব পড়ে আর্থিক বাজারে, যা অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তথ্য যাচাই না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, এই ঘটনাটি তার একটি উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। শেয়ার বাজারে নামের মিলজনিত বিভ্রান্তি নতুন নয়। অতীতেও একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে, যেখানে একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড বা খবরের সঙ্গে যুক্ত নাম দেখে অন্য সংস্থার শেয়ারে বিনিয়োগ বেড়েছে। তবে মোদী-মেলোনির মতো আন্তর্জাতিক নেতাদের একটি মুহূর্তকে কেন্দ্র করে এমন প্রতিক্রিয়া বিরল বলেই মনে করা হচ্ছে।
বাজারের চলমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে অনেকেই বলছেন, সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব এখন সরাসরি বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। কোনও তথ্য ভাইরাল হলেই তার প্রভাব পড়ছে বাজারে। ফলে বিনিয়োগের আগে সংস্থার প্রকৃতি, কার্যক্ষেত্র এবং তালিকাভুক্তির তথ্য যাচাই করা জরুরি হয়ে উঠছে। এই ঘটনার পর বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে এলেও দিনের শুরুতে তৈরি হওয়া অস্থিরতা নজর কেড়েছে সকলের। ‘মেলোডি’ টফিকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি বিনিয়োগ জগতের জন্য একটি শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi speech economy | ওয়ার্ক ফ্রম হোম থেকে সোনা কেনা বন্ধ, দেশবাসীর কাছে বড় আহ্বান নরেন্দ্র মোদীর




