সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: এক সময় যাঁকে গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, আজ (সোমবার) তাঁর হাতেই তুলে দেওয়া হল রাজ্যের নারী সুরক্ষার অন্যতম দায়িত্ব। আইপিএস দময়ন্তী সেন (Damayanti Sen), যাঁর নাম একসময় পার্ক স্ট্রিট ঘটনার তদন্তে সামনে এসেছিল, তিনি ফের প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে। নতুন সরকারের সিদ্ধান্তে নারী নির্যাতন সংক্রান্ত কমিশনের সদস্যসচিব করা হয়েছে তাঁকে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই দায়িত্বপ্রাপ্তি নিয়ে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
নবান্নে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) দু’টি গুরুত্বপূর্ণ কমিশন গঠনের কথা ঘোষণা করেন। একটি দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে, অন্যটি গত কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতনের ঘটনা পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে। এই দ্বিতীয় কমিশনের সদস্যসচিব হিসেবে দময়ন্তী সেনের নাম ঘোষণা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তাঁকে ‘বাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় আইপিএস অফিসার’ বলে উল্লেখ করেন। দময়ন্তী সেন (Damayanti Sen) -এর কর্মজীবনের দিকে তাকালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সামনে আসে। ১৯৯৬ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের এই আইপিএস অফিসার অল্প বয়সেই নিজের দক্ষতার ছাপ রেখেছিলেন। অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর মাত্র ২৬ বছর বয়সে তিনি আইপিএস-এ যোগ দেন। পরে কলকাতা পুলিশের ইতিহাসে প্রথম মহিলা গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১০ সালে কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ দমন) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সেই সময়ই অপরাধ তদন্তে তাঁর দৃঢ়তা নজর কেড়েছিল। তবে ২০১২ সালের পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণকাণ্ড তাঁর কর্মজীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেই ঘটনায় দ্রুত তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল। কিন্তু সেই তদন্ত ঘিরেই তৎকালীন সরকারের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয় বলে জানা যায়। ঘটনার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে কলকাতা পুলিশ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ব্যারাকপুর পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে ডিআইজি পদে পাঠানো হয় তাঁকে। এরপর দার্জিলিং রেঞ্জে বদলি এবং পরে সিআইডিতে দায়িত্ব, একাধিক জায়গায় তিনি কাজ করেছেন।
এই সময় অনেকেই মনে করেছিলেন, প্রশাসনের মূল কেন্দ্র থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে দময়ন্তী সেনকে (Damayanti Sen)। কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি। বিভিন্ন দায়িত্ব সামলে ধীরে ধীরে আবার প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে তিনি ফের কলকাতা পুলিশে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে এডিজি (আর্মড ফোর্স) পদে দায়িত্বে রয়েছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও তিনি নিজের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তে তাঁর দায়িত্ব আরও বেড়েছে। নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলি খতিয়ে দেখা, তার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা, এই সবই থাকবে তাঁর কাজের মধ্যে। গত কয়েক বছরে রাজ্যে নারী সুরক্ষা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার প্রেক্ষিতে এই কমিশনের গুরুত্ব অনেকটাই।
ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ মনে করছে, এই দায়িত্বপ্রাপ্তি দময়ন্তী সেনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং অতীত কাজের স্বীকৃতি। আবার অন্য একটি অংশ বলছে, প্রশাসনিক কাঠামোয় নতুন ভারসাম্য তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ। দময়ন্তী সেন (Damayanti Sen)-এর নাম ঘিরে মানুষের মনে এখনও পার্ক স্ট্রিট ঘটনার স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। সেই সময় তাঁর নেওয়া পদক্ষেপ অনেকের নজরে আসে। ফলে নারী সুরক্ষা সংক্রান্ত কমিশনে তাঁর উপস্থিতি নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। নবান্নে ঘোষণার সময় তাঁর উপস্থিতিও নজর কেড়েছে। প্রশাসনিক স্তরে তাঁর গুরুত্ব যে আবার বেড়েছে, তা এই সিদ্ধান্ত থেকেই পরিষ্কার।
এখন প্রশ্ন, এই নতুন দায়িত্বে তিনি কীভাবে কাজ এগিয়ে নিয়ে যান। অতীত অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তিনি রাজ্যের নারী সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলিকে কীভাবে সামলান, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে রাজ্যবাসী। দময়ন্তী সেনের এই প্রত্যাবর্তন শুধুই একটি প্রশাসনিক নিয়োগ নয়, বরং একটি দীর্ঘ যাত্রার নতুন অধ্যায়। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে, বদলেছে প্রশাসনিক অগ্রাধিকারও। সেই পরিবর্তনের মধ্যেই আবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ফিরে এলেন এই আইপিএস অফিসার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari Nandigram meeting | নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর প্রথম বৈঠক, উন্নয়ন রূপরেখা ও উপনির্বাচন কৌশলে জোর




