সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: নির্বাচনী প্রচারের সময় দেওয়া বক্তব্য ঘিরে দায়ের হওয়া এফআইআর (FIR) এবার পৌঁছে গেল আদালতের দোরগোড়ায়। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়ে ওই এফআইআর খারিজের দাবি তুলেছেন। বিধাননগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। সূত্রের খবর, নির্বাচনী প্রচারের সময় একাধিক সভা এবং জনসমাবেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) যে মন্তব্যগুলি করেছিলেন, সেগুলিকে ঘিরেই অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগকারীর তরফে তাঁর বক্তব্যের ভিডিও লিঙ্ক ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ জমা দেওয়া হয় পুলিশের কাছে। সেই প্রেক্ষিতে বিধাননগর সাইবার সেল পাঁচটি পৃথক ধারায় মামলা রুজু করে।
এই ঘটনার পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। শাসকদলের শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়া এবং তার পরপরই আদালতের দ্বারস্থ হওয়া, পুরো বিষয়টি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। আইনি নথি অনুযায়ী, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (Bharatiya Nyaya Sanhita) একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৯২ ধারায় দাঙ্গা উস্কে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা জামিনযোগ্য। ১৯৬ ধারায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে, যা জামিন অযোগ্য। এছাড়াও ৩৫১(২) ধারায় ভয় দেখানো ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা গুরুতর অপরাধের মধ্যে পড়ে। ৩৫৩(১)(c) ধারায় মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (Representation of the People Act) -এর ১২৩(২) ও ১২৫ ধারাও প্রযোজ্য করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারের সময় এমন কিছু বক্তব্য রাখা হয়েছে, যা ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে এবং সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) -এর পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন করে বলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর আইনের দৃষ্টিতে টেকসই নয় এবং তা খারিজ করা উচিত। তাঁর আইনজীবীদের দাবি, বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করে এই মামলা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৫ মে বাগুইআটি থানায় প্রথম অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে সেটি সাইবার ক্রাইম শাখায় স্থানান্তরিত হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর রুজু করা হয়। অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী সময়কালে নেতাদের বক্তব্য নিয়ে আইনি প্রশ্ন ওঠা নতুন নয়। তবে এই ক্ষেত্রে যেভাবে দ্রুত এফআইআর দায়ের এবং তার পর আদালতের দ্বারস্থ হওয়া, তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) -এর অন্দরে কী প্রতিক্রিয়া, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসেনি। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের তরফে এই ইস্যু নিয়ে সরব হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আইনি মহলের একাংশ মনে করছে, আদালত এই মামলায় কী অবস্থান নেয়, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত মামলা নয়, বরং নির্বাচনী বক্তব্যের সীমা ও দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ যে, এই ধরনের ঘটনা ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে আরও বেশি করে সামনে আসছে, যেখানে প্রতিটি বক্তব্য এবং তার প্রভাব বিচার করা হচ্ছে সূক্ষ্মভাবে। এখন নজর কলকাতা হাইকোর্টের দিকে। আদালত কি এই এফআইআর খারিজ করবে, নাকি তদন্ত চলবে, সেই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই মামলার ভবিষ্যৎ। এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) -এর আইনি পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী দিনে এই মামলার শুনানি ঘিরে রাজনৈতিক এবং আইনি দুই মহলেই উত্তেজনা বজায় থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Nandigram bypoll 2026, Suvendu Adhikari meeting | নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘিরে তৎপরতা তুঙ্গে, ‘ঘরে বসে নয়, মানুষের পাশে’ : কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর




