রাজেশ চন্দ্র দেবনাথ, সাশ্রয় নিউজ প্রতিনিধি ★ আগরতলা: সাহিত্য ও সংস্কৃতির জগতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাওয়া দুই প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব ড. ভাস্কর রায় বর্মন (Dr. Bhaskar Ray Barman) এবং অধ্যাপক সুজিত চক্রবর্তী (Prof. Sujit Chakraborty) -এর স্মরণে একটি আবেগঘন অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকল আগরতলা। সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, বাংলা আকাদেমি আগরতলা (Bangla Akademi Agartala) -এর উদ্যোগে মঠচৌমুহনী এলাকার লার্নেক্স পরিসরে আয়োজিত হল এই শ্রদ্ধা অনুষ্ঠান, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্টজন, অনুরাগী এবং সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ।
অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন ড. মানিক দেব (Dr. Manik Deb)। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত ড. ভাস্কর রায় বর্মন (Dr. Bhaskar Ray Barman) -এর সহধর্মিণী শ্রীমতী শ্যামলী রায়বর্মণ (Shyamali Ray Barman)। তাঁদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও গভীর ও আবেগময়। এদিন শুরুতেই পরলোকগত দুই গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘ওম শান্তি’ মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সেই নীরবতার মধ্য দিয়ে যেন উপস্থিত সকলে তাঁদের স্মৃতিকে অন্তরে ধারণ করেন। এরপর স্বাগত ভাষণ রাখেন বাংলা আকাদেমির সম্পাদক ড. রবীন্দ্রকুমার দত্ত (Dr. Rabindra Kumar Dutta)। তিনি তাঁর বক্তব্যে এই দুই ব্যক্তিত্বের সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের কথা তুলে ধরেন এবং তাঁদের স্মৃতি চিরজাগরুক রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আগরতলার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অধ্যাপক যোগেশ দেবনাথ (Prof. Jogesh Debnath), অধ্যাপক খেলন দাস হালদার (Prof. Khelen Das Haldar), শ্রী গৌতম বণিক (Gautam Banik), অধ্যাপক পদ্ম কুমারী চাকমা (Prof. Padma Kumari Chakma), অধ্যাপক মলয় দেব (Prof. Malay Deb), শ্রী অরিজিৎ চৌধুরী (Arijit Chowdhury) প্রমুখ তাঁদের স্মৃতিচারণায় দুই প্রয়াত ব্যক্তিত্বের জীবন, কর্ম ও মানবিক দিক তুলে ধরেন। তাঁদের কথায় উঠে আসে, কীভাবে ড. ভাস্কর রায় বর্মন (Dr. Bhaskar Ray Barman) এবং অধ্যাপক সুজিত চক্রবর্তী (Prof. Sujit Chakraborty) দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্যচর্চা ও সংস্কৃতি বিকাশে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছিলেন।
অনুষ্ঠানে কেবল বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি অংশগ্রহণকারীরা। আবৃত্তি, কবিতা পাঠ এবং সংগীতের মধ্য দিয়েও তাঁদের স্মরণ করা হয়। শ্রী সজল সেন (Sajal Sen) তাঁর স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন, যা উপস্থিতদের মন ছুঁয়ে যায়। অন্যদিকে, শ্রী সমীর দাস (Samir Das) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুঃসময়’ কবিতা আবৃত্তি করে অনুষ্ঠানে একটি অন্য মাত্রা যোগ করেন। সঙ্গীত পরিবেশনে অংশ নেন শ্রী মনিষ রুদ্রপাল (Manish Rudrapal), তিনি একটি রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন। এই অনুষ্ঠানের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল অধ্যাপক গীতা দেবনাথ (Prof. Gita Debnath) -এর পাঠানো শোকবার্তা। অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে না পারলেও তাঁর অনুভূতি পৌঁছে যায় উপস্থিত সকলের কাছে। তাঁর প্রেরিত বার্তাটি সভায় পাঠ করা হলে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
এছাড়াও, অধ্যাপক নির্মল দাশ (Prof. Nirmal Das) তাঁর বক্তব্যে প্রয়াত দুই ব্যক্তিত্বের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন। তাঁর কথায় ছিল গভীর শ্রদ্ধা এবং স্মৃতির প্রতি আন্তরিকতা। অনুষ্ঠানের সূচনা এবং সমাপ্তি, দুই ক্ষেত্রেই ছিল রবীন্দ্রসংগীতের আবহ। ‘তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা’ দিয়ে শুরু হওয়া এই স্মরণসভা শেষ হয় ‘জীবন মরণের সীমানা ছাড়ায়ে’ গানের মাধ্যমে। সংগীত পরিবেশন করেন ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কৈলাশ দেববর্মা (Kailash Debbarma)। তাঁর কণ্ঠে সেই গান যেন অনুষ্ঠানের আবেগকে আরও গভীর করে তোলে। ড. ভাস্কর রায় বর্মন (Dr. Bhaskar Ray Barman) এবং অধ্যাপক সুজিত চক্রবর্তী (Prof. Sujit Chakraborty) তাঁদের কাজের মাধ্যমে যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গড়ে তুলেছিলেন, সেই স্মৃতিই এই অনুষ্ঠানে নতুন করে ফিরে এল। তাঁদের অবদান শুধু একটি সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আগামী প্রজন্মের পথচলায়ও প্রভাব ফেলবে, এমনটাই মনে করছেন উপস্থিতরা। বাংলা আকাদেমি আগরতলার (Bangla Akademi Agartala) এই উদ্যোগ সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম যাতে এই ধরনের মানুষদের কথা মনে রাখে, সেই লক্ষ্যেই এই আয়োজন।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : প্রয়াত বাংলা আকাদেমি আগরতলা-র সভাপতি ড. ভাস্কর রায় বর্মণ




