সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বহরমপুর: বাংলা সাহিত্য জগতে নীরব অথচ গভীর প্রভাব বিস্তারকারী কণ্ঠস্বর হারাল পাঠকসমাজ। প্রয়াত হলেন কবি সমরেন্দ্রনাথ রায় (Samarendranath Roy)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। গত শনিবার মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে জেলার সাহিত্যচর্চার পরিমণ্ডলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সমরেন্দ্রনাথ রায়। তিনি শুধু কবি নন, এক জন নিষ্ঠাবান সম্পাদক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর সম্পাদিত ‘সমিধ’ (Samidh) পত্রিকা বাংলা ছোট পত্রিকা জগতের একটি উল্লেখযোগ্য নাম। এই পত্রিকার মাধ্যমে বহু নবীন ও প্রবীণ লেখক তাঁদের লেখার সুযোগ পেয়েছেন। জেলা ছাড়িয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও লেখকরা যুক্ত হয়েছিলেন এই পত্রিকার সঙ্গে।
সমরেন্দ্রনাথ রায়ের সাহিত্যজীবন ছিল সংগ্রামের ভিতর দিয়ে গড়ে ওঠা। জীবনের কঠিন বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করেই তিনি নিজের লেখালেখির পথ তৈরি করেছিলেন। কখনও দোকানের খাতা লেখার কাজ করেছেন, কখনও বা প্রাইভেট টিউশন নিয়েছেন। পাশাপাশি কারিগরি দক্ষতারও ব্যবহার করেছেন জীবিকার তাগিদে। এই বহুমুখী জীবনের অভিজ্ঞতাই তাঁর কবিতায় এক আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে বলে মনে করেন পাঠকেরা। তাঁর লেখায় বাস্তব জীবন, মানুষের অনুভূতি এবং সময়ের পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠত। মুর্শিদাবাদ জেলার পাশাপাশি বাইরের বিভিন্ন পত্রপত্রিকাতেও তিনি নিয়মিত লেখালেখি করেছেন। তাঁর একাধিক কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে, যা সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে সমাদৃত। সমরেন্দ্রনাথ রায়ের সাহিত্যজীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কবি প্রভাত চৌধুরীর (Prabhat Chowdhury) নামও। ‘কবিতা পাক্ষিক’ (Kabita Pakshik) পত্রিকার সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ ছিল। এই পত্রিকার মাধ্যমে তিনি সাহিত্যজগতের আরও বিস্তৃত পরিসরে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। প্রভাত চৌধুরীর স্নেহধন্য হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন।
‘সমিধ’ পত্রিকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল, এটি শুধু লেখালেখির ক্ষেত্র নয়, সাহিত্যিকদের সম্মান জানানোর একটি মঞ্চ হিসেবেও কাজ করত। পত্রিকার পক্ষ থেকে নিয়মিত সম্মাননা প্রদান করা হত, যা অনেক লেখকের কাছে বিশেষ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সমরেন্দ্রনাথ রায়ের প্রয়াণে সাহিত্যিকদের মধ্যে গভীর শোকের সঞ্চার হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না থেকেও নীরবে কাজ করে গিয়েছেন। নতুন প্রজন্মের লেখকদের উৎসাহ দেওয়া এবং তাঁদের লেখার সুযোগ করে দেওয়া ছিল তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। শনিবার বহরমপুরেই সম্পন্ন হয় তাঁর শেষকৃত্য। শেষ বিদায়ে উপস্থিত ছিলেন পরিবার, পরিচিতজন এবং সাহিত্যপ্রেমীরা। তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা। তাঁদের পাশাপাশি তিনি অসংখ্য পাঠক ও গুণগ্রাহীকে রেখে গেলেন। বাংলা ছোট পত্রিকা আন্দোলনের ইতিহাসে সমরেন্দ্রনাথ রায়ের নাম বিশেষ জায়গা দখল করে থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তাঁর সম্পাদনা, তাঁর কবিতা এবং তাঁর সাহিত্যচর্চা আগামী দিনেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রসঙ্গত, সময়ের সঙ্গে অনেক নাম হারিয়ে যায়, কিন্তু কিছু মানুষ তাঁদের কাজের মাধ্যমে থেকে যান পাঠকের মনে। সমরেন্দ্রনাথ রায় সেই ধরনেরই এক নাম, যিনি হয়ত আলোচনার শীর্ষে ছিলেন না, কিন্তু সাহিত্যের ভিতরে তাঁর অবদান অস্বীকার করা যায় না।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sasraya News Sunday’s Literature Special | 10th May 2026, Sunday, Issue 109| সাশ্রয় নিউজ রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল, ৯ মে ২০২৬, রবিবার, সংখ্যা ১০৯



