সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্যের প্রবীণ নাগরিক ও প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য বড় আর্থিক স্বস্তির ইঙ্গিত দিল নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন প্রশাসন বার্ধক্য ভাতার পরিমাণ এক লাফে দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সূত্রের খবর। এতদিন যেখানে মাসে ১০০০ টাকা দেওয়া হত, তা বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী ভাতার ক্ষেত্রেও একই রকম বৃদ্ধি আনা হচ্ছে। নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতর (Department of Women, Child and Social Welfare) সূত্রে এই তথ্য সামনে এসেছে।
সরকারি স্তরে এখনও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি না হলেও, এই সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে। কবে থেকে নতুন হারে ভাতা দেওয়া শুরু হবে, তা শীঘ্রই ঘোষণা করা হতে পারে। রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্য ভাতা চালু রয়েছে। পূর্বতন সরকারের আমলে মহিলাদের জন্য ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ (Lakshmir Bhandar) প্রকল্প বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ওই প্রকল্পে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলাদের মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হত। প্রথমে ১০০০ টাকা করে দেওয়া হলেও, নির্বাচনের আগে তা বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা করা হয়। তফসিলি জাতি ও জনজাতির মহিলাদের ক্ষেত্রে সেই অঙ্ক পৌঁছয় ১৭০০ টাকায়। উল্লেখ্য, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানিয়েছিলেন, ৬০ বছর বয়স পেরোলেই ওই সুবিধাভোগীরা বার্ধক্য ভাতার আওতায় চলে যাবেন এবং একই পরিমাণ অর্থ পাবেন। কিন্তু বাস্তবে সেই অঙ্ক নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর বর্ধিত অর্থ কি প্রবীণদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে? এই বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না মেলায় অসন্তোষ তৈরি হয়।
নতুন সরকার সেই বিভ্রান্তি দূর করতে উদ্যোগী হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিজেপি নির্বাচনের আগে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ (Annapurna Bhandar) নামে নতুন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিল, যেখানে মহিলাদের মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ‘চালু থাকা কোনও প্রকল্প বন্ধ করা হবে না, তবে প্রকৃত উপভোক্তাদেরই সুবিধা পৌঁছবে তা নিশ্চিত করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, অপ্রাপ্য বা ভুয়ো নাম বাদ দিয়ে প্রকল্পগুলিকে আরও কার্যকর করা হবে। এই প্রেক্ষাপটে বার্ধক্য ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী মানুষের মাসিক খরচ সামলানো কঠিন হয়ে উঠেছে। চিকিৎসা, ওষুধ, দৈনন্দিন প্রয়োজন, এসব ক্ষেত্রেই ব্যয় বেড়েছে। সেই জায়গা থেকে এই ভাতা বৃদ্ধি অনেকের কাছে স্বস্তি এনে দিতে পারে। নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul), তিনি সম্প্রতি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁর দফতর থেকেই এই ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব এসেছে বলে জানা গেছে। প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত, ‘দুই ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন ধরে একই অঙ্ক বজায় ছিল, তাই তা পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।’
রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে এটি জনমুখী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে এর আর্থিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এদিকে, ১ জুন থেকে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্প চালু করার কথাও জানানো হয়েছে। সেই প্রকল্প কার্যকর হলে রাজ্যের মহিলারা মাসিক ৩০০০ টাকা পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে সামাজিক সুরক্ষার বিভিন্ন স্তরে একাধিক প্রকল্প একসঙ্গে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বার্ধক্য ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে যেখানে অনেক প্রবীণ মানুষ এই ভাতার উপর নির্ভরশীল, সেখানে এই সিদ্ধান্ত বড় পরিবর্তন আনতে পারে। প্রতিবন্ধী ভাতার ক্ষেত্রেও একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
তবে চূড়ান্ত চিত্র পরিষ্কার হবে সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরেই। নতুন হারে ভাতা কবে থেকে কার্যকর হবে, কী ভাবে তা বিতরণ করা হবে, পুরনো উপভোক্তাদের ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন আসবে কি না, এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ মানুষ। রাজ্যের নতুন সরকারের এই পদক্ষেপ আগামী দিনে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এখন নজর রয়েছে, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কত দ্রুততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Annapurna Bhandar scheme details, 3000 rupees women scheme WB | অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার: ১ জুন থেকে ৩ হাজার টাকা, কারা পাবেন না জানালেন মন্ত্রী



