Nabanna CRPF Security, West Bengal Election 2026, File Deletion Allegation: নবান্ন ঘিরে কেন্দ্রীয় বাহিনী! ফল ঘোষণার দিন ফাইল লোপাটের অভিযোগে তোলপাড় বাংলা (Nabanna CRPF Security West Bengal Election 2026)

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ, কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিনেই রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় দেখা গেল। প্রাথমিক ট্রেন্ডে বিজেপির বিপুল লিড সামনে আসতেই রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্ন-কে ঘিরে ফেলেছে Central Reserve Police Force (CRPF)। শুধু নবান্ন নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বাসভবনের বাইরেও জোরদার করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা বলয়। ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে চরম চাঞ্চল্য এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, নবান্নের সমস্ত প্রবেশপথ, বিশেষ করে VVIP গেট, কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। দফতর থেকে বের হওয়ার আগে সরকারি কর্মচারীদের তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং প্রতিটি নড়াচড়ার উপর নজর রাখা হচ্ছে (High Security Surveillance)। এই নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেন তা নিয়েই উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের দাবি, একাধিক দুর্নীতি মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি সুরক্ষিত রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা (School Recruitment Scam), রেশন (Ration Scam) এবং পুর নিয়োগ (Municipal Recruitment Scam) সংক্রান্ত তদন্তে ইতিমধ্যেই সক্রিয় রয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি (Central Agencies)। সেই সব মামলার গুরুত্বপূর্ণ ফাইল যাতে নষ্ট বা সরানো না হয়, তা নিশ্চিত করতেই নবান্নে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি রাজ্য সরকার বা প্রশাসন।

এই আবহেই সামনে এসেছে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নবান্ন-সহ বিভিন্ন সচিবালয় থেকে গোপনে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সরানো হচ্ছে এবং ডিজিটাল ডেটা মুছে ফেলার কাজ চলছে। সংগঠনের প্রতিনিধি সুবীর সাহা অভিযোগ করে জানিয়েছেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র লোপাটের চেষ্টা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।’ তাঁর দাবি, এই কাজে প্রশাসনের একাংশ জড়িত থাকতে পারে। এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে শাসকদলের তরফে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে (Political Allegation vs Counter Allegation)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষমতার পালাবদলের সম্ভাবনা তৈরি হলে প্রশাসনিক স্তরে এই ধরনের উত্তেজনা অস্বাভাবিক নয়। তবে ফাইল লোপাটের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করতে পারে। এক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের কথায়, ‘এই ঘটনা শুধুমাত্র নিরাপত্তা ইস্যু নয়, এটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির প্রশ্নও তুলে দিচ্ছে।’ উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) শুরু থেকেই বিতর্কে ঘেরা ছিল। ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR), রেকর্ড ভোটদান এবং একাধিক রাজনৈতিক সংঘাতের পর এবার গণনার দিনেই নবান্ন ঘিরে এই পরিস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল। বর্তমানে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) এবং কেন্দ্রীয় প্রশাসন। নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হতে পারে বলেও সূত্রের খবর। এখন দেখার, তদন্তে কী উঠে আসে এবং চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র কোন দিকে মোড় নেয়।

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন