সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের অন্যতম চর্চিত কেন্দ্র ভবানীপুর (Bhabanipur Assembly Constituency)। সোমবার সকাল থেকেই ভোটগণনার প্রতিটি রাউন্ডে চোখ ছিল রাজনৈতিক মহলের। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-এর মধ্যে সরাসরি লড়াই ঘিরে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। সপ্তম রাউন্ডের শেষে ছবিটা অনেকটাই পরিষ্কার, বড় ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছেন মমতা। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সপ্তম রাউন্ড গণনা শেষ হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৩২,৮২২টি ভোট, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর ঝুলিতে এসেছে ১৫,৪৫১টি ভোট। অর্থাৎ ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজারেরও বেশি। শুরু থেকেই এই কেন্দ্রে দুই হেভিওয়েট নেতার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল নজরকাড়া, তবে প্রথম কয়েকটি রাউন্ড থেকেই তৃণমূল প্রার্থীর এগিয়ে থাকা প্রবণতা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে।
ভবানীপুর কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কেরিয়ারের সঙ্গে এই কেন্দ্রের সম্পর্ক গভীর। ফলে এই আসনে তাঁর প্রার্থীপদ ঘোষণার পর থেকেই লড়াইটি জাতীয় স্তরেও আলোচনায় উঠে আসে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির থেকে শুভেন্দু অধিকারীর প্রার্থী হওয়া এই লড়াইকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। ভোটগণনার শুরুতেই দেখা যায়, শহুরে ভোটারদের বড় অংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে রায় দিয়েছেন। বিশেষ করে মহিলা ভোটার এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তৃণমূলের প্রতি সমর্থন দৃশ্যমান। রাজনৈতিক মহলে অনেকেই মনে করছেন, এই সমর্থনই ব্যবধান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে, এখনও বহু রাউন্ড বাকি, ফলে চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে এখনই সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়।
সোমবার সকাল থেকে গণনাকেন্দ্রের বাইরে ছিল কড়া নিরাপত্তা। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রত্যেক রাউন্ডের ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বাস ও হতাশার মিশ্র ছবি ধরা পড়েছে গণনাকেন্দ্রের বাইরে। এই কেন্দ্রের লড়াই শুধুমাত্র একটি আসনের ফলাফল নয়, বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ভবানীপুর বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন, যেখানে তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব যথেষ্ট দৃঢ়। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি এই আসনে বিরোধীদের শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হয়েছিল।
গণনা যত এগোচ্ছে, ততই ব্যবধান বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ‘এই মুহূর্তের ট্রেন্ড বজায় থাকলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় পেতে পারেন।’ যদিও চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে কোনও পক্ষই নিশ্চিন্ত হতে চাইছে না। উল্লেখ্য, ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফল রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। এই আসনে জয় বা পরাজয় দুই শিবিরের কাছেই মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে প্রতিটি রাউন্ডের আপডেটই হয়ে উঠছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গণনার পরবর্তী রাউন্ডগুলির দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য। তবে সপ্তম রাউন্ডের শেষে যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাপট স্পষ্ট। শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষে এই ব্যবধান পেরোনো কতটা সম্ভব, সেটাই এখন দেখার।
ছবি : সংগৃহীত



