গণনাকেন্দ্রে ঢুকতে ‘QR কোড’ বাধ্যতামূলক, জালিয়াতি রুখতে কড়া পদক্ষেপ কমিশনের
আজ ভোট গণনাকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) এবার গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের নিয়মে বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে। শুধু পরিচয়পত্র দেখালেই আর প্রবেশাধিকার মিলবে না, বরং চালু করা হচ্ছে QR কোড (QR Code Based Digital Identity) নির্ভর ডিজিটাল ফটো আইডেন্টিটি কার্ড। জানা গিয়েছে, আগামী ২ মে থেকেই এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হবে এবং রাজ্য-সহ পাঁচটি রাজ্যের ভোট গণনায় পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গণনাকেন্দ্রগুলিতে তিন স্তরের কড়া নিরাপত্তা বলয় (Three-tier Security System) গড়ে তোলা হয়েছে। প্রথম দুই স্তরে সাধারণ পরিচয়পত্র যাচাইয়ের পর শেষ স্তরে QR কোড স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে অনুমোদন দেওয়া হবে। এই স্ক্যানিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে কোনওভাবেই ভেতরে প্রবেশ করা যাবে না। গণনাকর্মী, প্রার্থীর এজেন্ট এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। এক কমিশন আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘এই ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থা অননুমোদিত প্রবেশ রোধ করবে এবং গণনার স্বচ্ছতা (Transparency in Counting Process) নিশ্চিত করবে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কমিশনের তরফে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে, এই পদ্ধতি সফল হলে আগামী দিনে লোকসভা (Lok Sabha Election) এবং বিধানসভা (Assembly Election)–সহ দেশের সব নির্বাচনে বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। ডিজিটাল নিরাপত্তা (Digital Security in Elections) বাড়ানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে, দ্বিতীয় দফার ভোটে বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির অভিযোগ সামনে আসায় কড়া অবস্থান নিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক Manoj Kumar Agarwal। বৃহস্পতিবার তিনি জানিয়েছেন, প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং রি-পোল (Re-poll) বা পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে স্ক্রুটিনি চলছে। এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলের প্রার্থী, নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং ফিল্ড লেভেল অফিসাররা উপস্থিত রয়েছেন। প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ মিললে নির্দিষ্ট বুথগুলিতে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, গণনাকেন্দ্রগুলির প্রস্তুতিতে কোনওরকম খামতি রাখা হচ্ছে না। বিদ্যুৎ সংযোগ (Power Backup), ওয়েব কাস্টিং ক্যামেরা (Webcasting Surveillance), এবং ডেটা ট্রান্সমিশন সিস্টেমের উপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নিজে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গণনাকেন্দ্র সশরীরে পরিদর্শন করবেন বলেও জানিয়েছেন। প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, ‘গণনার প্রতিটি ধাপকে সুরক্ষিত ও নির্ভুল রাখতে সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’ পর্ণশ্রীর সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় কমিশন আরও সতর্ক হয়েছে। এই বিষয়ে Kolkata Police – এর কমিশনারের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যেকোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করছে প্রশাসন ও পুলিশ। রাজনৈতিক মহলেও এই নতুন ব্যবস্থাকে ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, QR কোড নির্ভর প্রবেশ ব্যবস্থা জালিয়াতি ও ভুয়ো পরিচয়ের ব্যবহার অনেকটাই কমিয়ে দেবে। অন্যদিকে, কিছু মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা নেটওয়ার্ক সমস্যার সম্ভাবনা নিয়েও। যদিও কমিশনের দাবি, এই ব্যবস্থায় একাধিক ব্যাকআপ প্ল্যান রাখা হয়েছে, যাতে কোনও ধরনের বিঘ্ন না ঘটে। সব মিলিয়ে, ভোট গণনাকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে কমিশনের এই উদ্যোগ নতুন দিশা দেখাচ্ছে। গণনার দিন যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে, সেটাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।



