সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও নির্ভুল করতে বড় প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে চালু করা হল নতুন অ্যাপ ‘ইসিআই নেট’ (ECI NET), যার মাধ্যমে ভোটের প্রতিটি মুহূর্তের তথ্য সরাসরি কমিশনের কাছে পৌঁছবে। ভোটগ্রহণের সময় থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিটি আপডেট এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পর্যবেক্ষণ করা হবে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কমিশনের সূত্রে খবর, এতদিন ভোটের আপডেট পাঠাতে এসএমএস ব্যবস্থার উপর নির্ভর করা হত। কিন্তু এই পদ্ধতিতে সময়ের বিলম্ব ও তথ্যের অসামঞ্জস্যের অভিযোগ ছিল। সেই কারণেই এবারে সম্পূর্ণ নতুন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। একজন আধিকারিকের কথায়, ‘এখন থেকে সব তথ্য শুধুমাত্র অ্যাপের মাধ্যমেই পাঠাতে হবে, পুরনো এসএমএস পদ্ধতি আর ব্যবহার করা হবে না।’
‘ইসিআই নেট’ অ্যাপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, ভোটের দিন প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর ভোটদানের শতাংশের আপডেট বাধ্যতামূলক ভাবে আপলোড করতে হবে। এই দায়িত্ব থাকছে প্রিসাইডিং অফিসারদের (Presiding Officer)-এর উপর। তাঁরা সরাসরি অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য পাঠাবেন, যা সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় সার্ভারে পৌঁছে যাবে। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে ভোটগ্রহণের অগ্রগতি রিয়েল-টাইমে নজরে রাখা সম্ভব হবে। কোথায় কত শতাংশ ভোট পড়ছে, কোথায় গতি কম বা বেশি, সব কিছুই মুহূর্তে জানা যাবে। এর ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়াও দ্রুত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অ্যাপটির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এর সতর্কতা ব্যবস্থা। যদি কোনও প্রিসাইডিং অফিসার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপডেট দিতে ব্যর্থ হন, তা হলে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপে অ্যালার্ম বাজবে। এতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত সতর্ক করা সম্ভব হবে। একটি সূত্রের দাবি, ‘সময়ে তথ্য না এলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে, ফলে দেরির সুযোগ কমে যাবে।’
শুধু অ্যাপই নয়, এবার প্রযুক্তির আরও একটি স্তর যুক্ত হয়েছে ভোটকেন্দ্রে। বহু জায়গায় বসানো হয়েছে এআই ক্যামেরা (AI Camera), যা ভোটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সরাসরি তথ্য পাঠাবে কমিশনের সদর দফতরে। ফলে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র এবং অ্যাপের তথ্য, দু’দিক থেকেই নজরদারি চালানো সম্ভব হবে। মক পোলিং (Mock Polling) থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ এই অ্যাপের আওতায় থাকবে। ভোট শুরুর আগে মক পোলিংয়ের তথ্যও আপলোড করতে হবে, যাতে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় থাকে। এরপর ভোট চলাকালীন নির্দিষ্ট সময় অন্তর আপডেট এবং শেষে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার রিপোর্ট, সবই এই এক প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষিত হবে।
এই উদ্যোগকে নির্বাচন ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং পর্যবেক্ষণ, সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। এতে করে ভোট পরিচালনার কাজ আরও সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত হবে। চলতি নির্বাচনে শুধু প্রযুক্তিগত পরিবর্তনই নয়, আরও একাধিক নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভোটের দিনগুলিতে বাইক ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় চলাচল কমানো যায় এবং নিরাপত্তা বজায় থাকে। যদিও এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইতিমধ্যেই হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও (Justice Krishna Rao)-এর এজলাসে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এই ধারাবাহিক পদক্ষেপের লক্ষ্য হল ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভুল ও নিয়ন্ত্রিত রাখা। প্রযুক্তির সাহায্যে তথ্যের গতি বাড়ানো এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা, এই দুই দিকেই জোর দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ভোটের মতো বড় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিটি তথ্যের গুরুত্ব অনেক। সেই কারণেই এই ধরনের অ্যাপ চালু করে প্রতিটি মুহূর্তের আপডেট হাতে রাখতে চাইছে কমিশন। এর ফলে ভবিষ্যতে নির্বাচন ব্যবস্থায় আরও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার দেখা যেতে পারে। এখন নজর থাকবে এই নতুন ব্যবস্থার কার্যকারিতার দিকে। বাস্তবে এটি কতটা সফল হয় এবং ভোট পরিচালনায় কতটা পরিবর্তন আনে, সেটাই দেখার। তবে আপাতত বলা যায়, ‘ইসিআই নেট’ অ্যাপের মাধ্যমে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ডিজিটাল নজরদারির এক নতুন অধ্যায় শুরু হল।
ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : West Bengal Election 2026 Exit Poll : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬, বুথ ফেরত সমীক্ষার সার্বিক বিশ্লেষণ




