DA for teachers West Bengal 2026 | ডিএ বঞ্চনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষক সমাজ, ভোটের মুখে বাড়ছে চাপ ‘৪ শতাংশ ভাতা না পেলে জবাব দেবে শিক্ষকরা’!

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকদের মধ্যে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে অসন্তোষ নতুন করে সামনে এসেছে। রাজ্য বাজেটে ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা হলেও বাস্তবে সেই অর্থ এখনও হাতে না পাওয়ায় ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। নির্বাচনের আবহে এই ইস্যু রাজনৈতিক গুরুত্বও পাচ্ছে, কারণ শিক্ষক মহলের একাংশ সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, ‘বঞ্চনার এই প্রশ্ন ভোটেও প্রভাব ফেলতে পারে।’ উল্লেখ্য, রাজ্য বিধানসভায় (West Bengal Assembly) ঘোষণার সময় জানানো হয়েছিল, ১ এপ্রিল থেকেই এই অতিরিক্ত ৪ শতাংশ ডিএ কার্যকর হবে এবং মে মাসের বেতনে তা প্রতিফলিত হবে। কিন্তু এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়নি। ফলে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন হাজার হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী।

আরও পড়ুন : BSNL temporary workers protest Durgapur | ভোটের আগেই ক্ষোভে ফুঁসছে দুর্গাপুর! BSNL-এ কাজ হারিয়ে অফিসেই ধর্নায় প্রায় ৩০০ অস্থায়ী কর্মী, সরব রাজনীতি

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘মহার্ঘ ভাতা হোক বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা, সব ক্ষেত্রেই শিক্ষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে সরকারের প্রতি ক্ষোভ বাড়ছে।’ তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলতে থাকায় শিক্ষক সমাজে অসন্তোষ জমে উঠেছে, যা প্রশাসনের পক্ষে অস্বস্তিকর হতে পারে। শুধু ডিএ নয়, স্বাস্থ্য প্রকল্প নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। বহু শিক্ষক দাবি করেছেন, সরকারি হেল্থ স্কিমের সুবিধাও তাঁরা নিয়মিত পাচ্ছেন না। ফলে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা, দুই ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, ‘প্রতি মাসে ২ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে পোর্টালে বেতনের তথ্য জমা দিতে হয়। আমরা অপেক্ষা করছিলাম নতুন ডিএ সংক্রান্ত নির্দেশিকা আসবে বলে। কিন্তু ৯ এপ্রিল পর্যন্ত কিছুই না আসায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।’ তাঁর মতে, নির্দেশিকা ছাড়া নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী তথ্য আপলোড করা সম্ভব নয়।

এই পরিস্থিতিতে মে মাসের বেতনে আদৌ ৪ শতাংশ ডিএ যুক্ত হবে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এক শিক্ষক বলেন, ‘দফতর থেকে যদি আবার পোর্টাল খোলা হয়, তবেই সংশোধন করা যাবে। না হলে এই মাসেও বাড়তি ডিএ পাওয়া অনিশ্চিত।’

অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেস (Advanced Society for Headmasters and Headmistresses) -এর সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতি (Chandan Maity) বলেন, ‘সরকারি নানা কাজ আমাদের দিয়ে করানো হচ্ছে, কিন্তু সুবিধার ক্ষেত্রে আমরা বঞ্চিত। মহার্ঘ ভাতা থেকে হেল্থ স্কিম, সব ক্ষেত্রেই একই ছবি।’ তাঁর অভিযোগ, শিক্ষক সমাজের উপর চাপ বাড়ছে, অথচ প্রাপ্য সুবিধা মিলছে না। নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতি (Nikhil Banga Shikshak Samiti) -এর সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাস (Sujit Das) বলেন, ‘বিধানসভায় ঘোষণার প্রায় দু’মাস পরেও কোনও বিজ্ঞপ্তি নেই, এটা দুঃখজনক। আগে কখনও এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি।’ তাঁর বক্তব্যে প্রশাসনিক দেরি নিয়ে হতাশা ফুটে উঠেছে। শিক্ষকদের একাংশ সরাসরি সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি (Bengiya Shikshak O Shikshakarmi Samiti)-র সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল (Swapan Mondal) বলেন, ‘বাজেটে ঘোষণা হয়েছিল এপ্রিল থেকেই ডিএ কার্যকর হবে। কিন্তু দেড় মাস কেটে গেলেও কোনও অর্ডার নেই। লক্ষ লক্ষ শিক্ষক অপেক্ষা করছেন। এখনও অনেকে বেতন বিল জমা দেননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই পোস্টাল ব্যালটে ভোট। এই পরিস্থিতির প্রভাব সেখানে পড়তেই পারে।’ এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ নির্বাচনের আগে শিক্ষক সমাজের এই অসন্তোষ ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, শাসকদলের শিক্ষক সংগঠন অবশ্য পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছে। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (West Bengal Trinamool Secondary Teachers’ Association) -এর রাজ্য সভাপতি প্রীতমকুমার হালদার (Pritam Kumar Haldar) বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যা ঘোষণা করেন, তা বাস্তবায়ন করেন। ইতিমধ্যে বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ৪ শতাংশ ডিএ-ও সবাই পাবেন।’ তাঁর দাবি, নির্বাচনী কাজের চাপে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কিছুটা দেরি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘এই বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা উচিত নয়। কিছু মানুষ পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু বাস্তবে সকলেই প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।’ কিন্তু, ময়দানের বাস্তব চিত্র অন্য কথা বলছে বলেই মনে করছেন অনেক শিক্ষক। বেতন কাঠামো, পোর্টাল সংক্রান্ত জটিলতা এবং নির্দেশিকার অভাব, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। শিক্ষকদের একাংশ এখন অপেক্ষা করছেন কবে সরকারি ভাবে ঘোষণা আসবে এবং কবে তাঁদের বেতনে সেই বৃদ্ধি কার্যকর হবে। নির্বাচনের ঠিক আগে এই ইস্যু যে গুরুত্ব পাচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। শিক্ষক সমাজ রাজ্যের একটি বড় ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত। ফলে তাঁদের অসন্তোষ রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী 
আরও পড়ুন : WB Assembly Elections 2026, Mamata Banerjee NRC statement | ভোটের মঞ্চে মমতার কড়া বার্তা: ‘মানুষ যদি ভোটই দিতে না পারে, ট্রাইবুনাল রেখে লাভ কী?’ হুগলিতে সরব মুখ্যমন্ত্রী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন