সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ দুর্গাপুর: নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বিভিন্ন ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্য রাজনীতি। সেই আবহেই বড় বিতর্ক তৈরি হল দুর্গাপুরে (Durgapur), যেখানে ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড বা বিএসএনএল (BSNL) -এর প্রায় ৩০০ অস্থায়ী কর্মী হঠাৎ কাজ হারানোর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা এই শ্রমিকদের একাংশ সরাসরি সংস্থার অফিসের ভিতরেই বসে অবস্থান শুরু করেছেন, যা ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। বুধবার দুপুরে দুর্গাপুরের বিএসএনএল অফিস চত্বরে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। প্রথমে প্রায় ২৫ জন কর্মী অবস্থানে বসেন, পরে ধীরে ধীরে সংখ্যাটা বাড়তে থাকে। আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সংস্থার বিদ্যুৎ বিভাগে অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করছিলেন। কিন্তু চলতি মাসের ১ তারিখ হঠাৎই মৌখিকভাবে তাঁদের জানানো হয়, আর কাজে যোগ দিতে হবে না। কোনও লিখিত নির্দেশ বা স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
কর্মীদের কথায়, ‘একদিনে আমাদের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হল। কেউ কিছু জানাল না। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে কোনও জবাব মেলেনি।’ এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই তাঁরা অফিসের ভিতরে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন বলে জানিয়েছেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মচ্যুত শ্রমিক সুবীর সরকার (Subir Sarkar) বলেন, ‘আমাদের বলা হচ্ছে সংস্থা লোকসানে চলছে, তাই এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু এতদিন কাজ করানোর পর হঠাৎ করে আমাদের বসিয়ে দিলে আমরা কোথায় যাব? সংসার কীভাবে চলবে?’ তাঁর কথায়, কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক এবং ক্ষোভ দুই-ই বাড়ছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ (Soumitra Khan) সরাসরি কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে দাবি তুলেছেন, ‘যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন, তাঁদের স্থায়ী করা উচিত। কেন্দ্র বা রাজ্য, যে সরকারের অধীনেই হোক, এই শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে হবে।’ তাঁর এই মন্তব্যের পর বিষয়টি রাজনৈতিক স্তরেও গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।
অন্যদিকে, দুর্গাপুর পূর্বের তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) প্রার্থী প্রদীপ মজুমদারও (Pradip Majumdar) ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যখন তখন কর্মীদের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন।’ তাঁর দাবি, এই ধরনের সিদ্ধান্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিক্ষোভস্থলে গিয়ে দেখা গিয়েছে, কর্মীরা প্ল্যাকার্ড হাতে বসে আছেন এবং সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার দাবি জানাচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য, কোনও বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বহালের নিশ্চয়তা না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এদিকে, বিএসএনএল কর্তৃপক্ষের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। যদিও আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁদের জানানো হয়েছে যে সংস্থা আর্থিক সমস্যার মুখে রয়েছে, সেই কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কর্মীরা এই যুক্তি মানতে নারাজ।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনের মুখে এই ধরনের ঘটনা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, শ্রমিকদের সমস্যা বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়। দুর্গাপুরের মতো শিল্পাঞ্চলে এই ধরনের কর্মচ্যুতি আরও বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোটের আগে এই ঘটনা বিভিন্ন দলের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। ইতিমধ্যেই দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবির এই বিষয়ে অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে, ফলে আগামী দিনে বিষয়টি আরও তীব্র হতে পারে। অন্যদিকে, কর্মীদের দুশ্চিন্তা এখন বাস্তব। অনেকেই জানিয়েছেন, তাঁদের পরিবার সম্পূর্ণভাবে এই আয়ের উপর নির্ভরশীল। হঠাৎ কাজ হারিয়ে তাঁরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। একজন আন্দোলনকারী বলেন, ‘আমাদের কোনও সঞ্চয় নেই। প্রতিদিনের রোজগারেই সংসার চলে। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।’
দুর্গাপুরের এই বিক্ষোভ বৃহত্তর শ্রমনীতি এবং অস্থায়ী কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। দীর্ঘদিন কাজ করার পরেও স্থায়ী নিয়োগ না পাওয়া এবং হঠাৎ কাজ হারানোর আশঙ্কা, এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে বহু পরিবার। কিন্তু, পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন দেখার। তবে আপাতত বিএসএনএল অফিসের ভিতরে বসে থাকা এই কর্মীদের আন্দোলনই দুর্গাপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Indian Railways passenger experience, Ashwini Vaishnaw railway meeting | গরিব ও মধ্যবিত্তের আরামদায়ক যাত্রায় জোর ভারতীয় রেলে, দুর্ঘটনা কমায় সন্তোষ, নতুন নির্দেশে স্টেশন সংস্কার ও আন্ডারপাসে গুরুত্ব




