BJP Foundation Day, Narendra Modi speech | বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবসে মোদীর বার্তা, কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেওয়া এই ভাষণে তিনি দলের কর্মীদের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, ত্যাগ ও নিষ্ঠার কথা স্মরণ করেন এবং তাঁদের ভূমিকাকে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি দেশের বিভিন্ন রাজ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন এবং ভবিষ্যতের কিছু বড় লক্ষ্য সম্পর্কেও ইঙ্গিত দেন।

আরও পড়ুন : Narendra Modi Assam Visit 2026 | অসমে উন্নয়নের মেগা ঝড়! ৪৭,৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, উত্তর-পূর্বে রেল-সড়ক-গ্যাস অবকাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) ও কেরল (Kerala) -এর রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘বাংলা ও কেরলে হিংসাকে রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, এই ধরনের প্রতিকূল পরিবেশেও বিজেপির কর্মীরা পিছিয়ে যাননি এবং নিজেদের অবস্থান দৃঢ় রেখেছেন। তাঁর কথায়, ‘এই পরিস্থিতিতেও আমাদের কর্মীরা ভয় পাননি, মাথা নত করেননি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আজও তারা দেশসেবার কাজে নিয়োজিত, তাঁদের প্রত্যেককে আমি প্রণাম জানাই।’ দলের আদর্শ ও ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, বিজেপি এমন একটি সংগঠন যেখানে কর্মীরা দলকে ‘মা’ হিসেবে দেখেন। তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রভাবশালী নেতাদের স্মরণ করেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shyama Prasad Mukherjee), দীনদয়াল উপাধ্যায় (Deendayal Upadhyaya), লালকৃষ্ণ আডবাণী (Lal Krishna Advani) এবং মুরলী মনোহর যোশী (Murli Manohar Joshi) -এর নাম উল্লেখ করে তাঁদের অবদানকে সম্মান জানান।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, একসময় যখন বিজেপি ক্ষমতায় ছিল না, তখনও কর্মীরা দেশজুড়ে ঘুরে সংগঠনকে শক্তিশালী করে তুলেছিলেন। সেই সময়কার পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তখন কর্মীদের এক পা থাকত রেলে, আরেক পা জেলে।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান যে কঠিন সময়েও দলের কর্মীরা নীতির প্রশ্নে আপস করেননি। প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেস (Congress) -এর সমালোচনাও করেন। তিনি ১৯৮৪ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেই সময় কংগ্রেস বিপুল আসনে জয়লাভ করলেও জনগণ পরে তাদের কার্যকলাপে হতাশ হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘মানুষ তখন দেখেছিল ক্ষমতা পাওয়ার পর কীভাবে বিশ্বাসভঙ্গ করা হয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস ‘পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি’-তে বিশ্বাসী এবং তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অন্যদিকে বিজেপির কার্যকলাপ তুলে ধরে মোদী বলেন, তাঁর দল দেশের বিভিন্ন মহান ব্যক্তিত্বকে সম্মান দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু (Netaji Subhas Chandra Bose) -এর জন্মদিনকে ‘পরাক্রম দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে আজাদ হিন্দ ফৌজকে সম্মান জানানো হয়েছে।

সরকারি কাজের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘একটা সময় মনে করা হত জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়, কিন্তু আমরা তা করে দেখিয়েছি।’ এছাড়াও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA), তিন তালাক প্রথা বন্ধ করা এবং অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের মতো পদক্ষেপগুলোর কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে এখানেই থেমে থাকেননি মোদী। তিনি জানান, এখনও বেশ কিছু বড় পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। তাঁর কথায়, ‘মিশন এখনও শেষ হয়নি।’ তিনি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) এবং ‘এক দেশ, এক ভোট’ (One Nation, One Election)-এর মতো বিষয় নিয়ে দেশে আলোচনা চলছে বলে উল্লেখ করেন।

দেশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ‘জনবিন্যাসের পরিবর্তন’-কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং জানান, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার কাজ করে চলেছে। এই ভাষণের মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদী একদিকে যেমন দলের অতীত সংগ্রাম ও বর্তমান সাফল্য তুলে ধরলেন, তেমনি ভবিষ্যতের দিকনির্দেশও স্পষ্ট করে দিলেন। তাঁর বক্তব্যে কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও ছিল সুস্পষ্ট, যা আগামী দিনে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari CM face Bengal | বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মুখ কি শুভেন্দু? ভবানীপুরে শাহর উপস্থিতিতে বাড়ছে জল্পনা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন