Election Commission 2026 | ভোটের আগে কড়া নজরদারি, ৪০০ কোটির বেশি বাজেয়াপ্ত, অভিযোগে রেকর্ড, তৎপর নির্বাচন কমিশন

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দেশজুড়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ও উপনির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোট ঘোষণার পর থেকেই নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ৪০০ কোটিরও বেশি মূল্যের বেআইনি সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবমুক্ত রাখতে একাধিক কঠোর ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই বছরের ১৫ মার্চ অসম, কেরল, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গ এই পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচন এবং ছয়টি রাজ্যে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে জারি হয় আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct)। কমিশন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে নির্দেশ দেয়, ‘আচরণবিধি কঠোর ভাবে মেনে চলতে হবে এবং কোনওরকম লঙ্ঘন বরদাস্ত করা হবে না।’ নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে কমিশন আগেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে। সেই বৈঠকে সীমান্তবর্তী ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়। প্রশাসনকে জানানো হয়, ‘ভয়ভীতি, হিংসা ও প্রলোভনমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য।’

আরও পড়ুন : Rajanya Haldar Sonarpur, Niamal Nasir Raninagar Independent candidate | সোনারপুরে নির্দল লড়াইয়ে রাজন্যা, রানিনগরে কবি নিয়ামাল নাসির, বিধানসভা ভোটে নতুন সমীকরণে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ

নজরদারি বাড়াতে মাঠে নামানো হয়েছে ৫১৭৩টিরও বেশি ফ্লাইং স্কোয়াড। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ মিনিট। পাশাপাশি ৫২০০টিরও বেশি স্ট্যাটিক সার্ভিল্যান্স টিম (SST) বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ‘ইলেকট্রনিক সিজার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (ESMS) চালু হওয়ার পর একাধিক সংস্থার যৌথ অভিযানে মোট ৪০৮.৮২ কোটি টাকার বেআইনি সামগ্রী বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৭.৪৪ কোটি টাকা নগদ, প্রায় ৩৭.৬৮ কোটি টাকার মদ (প্রায় ১৬.৩ লক্ষ লিটার), ১৬৭.৩৮ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য, ২৩ কোটি টাকার মূল্যবান ধাতু এবং ১৬৩ কোটিরও বেশি মূল্যের বিভিন্ন উপহার সামগ্রী, যা ভোটারদের প্রভাবিত করতে ব্যবহার করা হতে পারত। এই অভিযানের লক্ষ্য নিয়ে কমিশনের একজন আধিকারিক জানান, ‘নির্বাচনের সময় কোনও বেআইনি অর্থ বা সামগ্রী ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা রুখতেই এই পদক্ষেপ।’ একই সঙ্গে প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে, তল্লাশি বা নজরদারির সময় সাধারণ মানুষ যেন অযথা সমস্যায় না পড়েন। অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। সি-ভিজিল (cVigil) অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলি সহজেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাতে পারছেন। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত মোট ৭০,৯৪৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে। তার মধ্যে ৭০,৮৩১টির নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, ৬৭,৮৯৯টি অভিযোগ, অর্থাৎ প্রায় ৯৫.৮ শতাংশ অভিযোগ ১০০ মিনিটের মধ্যে মেটানো হয়েছে।

এই দ্রুত নিষ্পত্তির হার নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির দিকটি তুলে ধরছে। কমিশনের বক্তব্য, ‘অভিযোগ দ্রুত মেটানো গেলে ভোটারদের আস্থা বাড়ে এবং নির্বাচনী পরিবেশ সুস্থ থাকে।’ পাশাপাশি ১৯৫০ নম্বরের কল সেন্টার চালু রাখা হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন। উল্লেখ্য, প্রতিটি জেলায় অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কোনও নাগরিক যদি মনে করেন যে তল্লাশি বা নজরদারির সময় তাঁর সঙ্গে অন্যায় আচরণ হয়েছে, তবে তিনি সেই কমিটির কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন। নির্বাচন ঘিরে বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা একযোগে কাজ করছে। পুলিশ, আবগারি দফতর, আয়কর বিভাগ ও অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে এই অভিযান চলছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ‘নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে সব রকম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’ প্রসঙ্গত, ভোটের আগে এই ধরনের কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার বার্তা দিচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলিকেও নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করছে। নির্বাচন কমিশনের এই সক্রিয় ভূমিকা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : West Bengal election guidelines | ২০২৬ ভোটে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কড়া নির্দেশ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন