Fiscal Health Index 2026 India | রাজ্যগুলির আর্থিক শক্তি মাপতে নতুন মানদণ্ড, ‘ফিসকাল হেলথ ইনডেক্স ২০২৬’ প্রকাশ করল নীতি আয়োগ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের আর্থিক অবস্থার স্বচ্ছ ও তুলনামূলক মূল্যায়ন করতে ‘ফিসকাল হেলথ ইনডেক্স ২০২৬ (Fiscal Health Index 2026)’ প্রকাশ করল নীতি আয়োগ (NITI Aayog)। মঙ্গলবার নতুন দিল্লিতে এই সূচকের দ্বিতীয় বার্ষিক সংস্করণ প্রকাশ করেন সংস্থার ভাইস-চেয়ারম্যান সুমন বেরি (Suman Bery) এবং সিইও নিধি ছিব্বর (Nidhi Chhibber)। উপস্থিত ছিলেন সংস্থার আরও কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিক। সরকারি সূত্রে উল্লেখ, এই সূচকের লক্ষ্য হল দেশের বিভিন্ন রাজ্যের আর্থিক স্বাস্থ্য বা ‘ফিসকাল পারফরম্যান্স’-এর একটি বিস্তৃত ও তথ্যনির্ভর মূল্যায়ন তৈরি করা। অর্থনীতি ও প্রশাসনের ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে উৎসাহিত করা এবং রাজ্যগুলিকে আর্থিক সংস্কারের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই সূচক তৈরির মূল উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন : West Bengal Assembly Election 2026 | পশ্চিমবঙ্গের ভোট রাজনীতির লড়াই-কে এগিয়ে? (আজ দ্বিতীয় কিস্তি)

বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন সরকারি অর্থব্যবস্থার উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে, তখন রাজ্য পর্যায়ের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে ‘ফিসকাল হেলথ ইনডেক্স’ রাজ্যগুলির আর্থিক ব্যবস্থাপনার শক্তি ও দুর্বলতা বোঝার একটি কার্যকর উপায় হিসেবে সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘রাজ্যগুলির আর্থিক ব্যবস্থাপনা মজবুত না হলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।’ ভারতের আর্থিক কাঠামোতে রাজ্য সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দেশের মোট সরকারি ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই রাজ্য সরকারের ওপর নির্ভরশীল। ফলে রাজ্যগুলির ঋণনীতি, ব্যয় এবং রাজস্ব সংগ্রহের ধরন সরাসরি জাতীয় অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যগুলির আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। এই পরিস্থিতিতে ‘ফিসকাল হেলথ ইনডেক্স’ রাজ্যগুলির আর্থিক পারফরম্যান্সের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে একটি মানদণ্ড তৈরি করতে সাহায্য করবে। এর মাধ্যমে রাজ্য সরকারগুলি নিজেদের অবস্থান বুঝতে পারবে এবং কোথায় সংস্কার প্রয়োজন তা নির্ধারণ করতে পারবে।

এই সূচকের দ্বিতীয় সংস্করণে আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রথম সংস্করণে যেখানে দেশের ১৮টি বড় রাজ্যের আর্থিক অবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়েছিল, সেখানে এবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে উত্তর-পূর্ব ও হিমালয় অঞ্চলভুক্ত ১০টি রাজ্যকেও। এর ফলে সূচকটি এখন ভারতের আর্থিক বৈচিত্র্যকে আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত করছে। কিন্তু কাঠামোগত পার্থক্যের কারণে উত্তর-পূর্ব এবং হিমালয় অঞ্চলের রাজ্যগুলিকে বড় রাজ্যগুলির সঙ্গে একসঙ্গে মূল্যায়ন করা হয়নি। এই অঞ্চলগুলির অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং আর্থিক কাঠামো আলাদা হওয়ায় তাদের জন্য আলাদা মূল্যায়ন ও র‍্যাঙ্কিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজ্যের আর্থিক পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে অধিকাংশ বড় রাজ্যের ‘ফিসকাল হেলথ ইনডেক্স’ স্কোর আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে, যা ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপের ইঙ্গিত দেয়। একইভাবে উত্তর-পূর্ব ও হিমালয় অঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যেও আর্থিক পারফরম্যান্সে বড় ধরনের বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা গিয়েছে। প্রতিবেদনে রাজ্যগুলির আর্থিক অবস্থাকে শক্তিশালী করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো, বিশেষ করে রাজ্যের নিজস্ব কর আদায়ের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি বাধ্যতামূলক ব্যয় বা ‘কমিটেড এক্সপেন্ডিচার’ কমিয়ে আর্থিক নমনীয়তা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

এছাড়া মূলধনী ব্যয়ের গুণগত মান উন্নত করা এবং দীর্ঘস্থায়ী আর্থিক পরিকল্পনা গ্রহণের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘মাঝারি মেয়াদের আর্থিক পরিকল্পনা কাঠামো গ্রহণ করলে ঘাটতি এবং ঋণের প্রবণতা আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।’ উল্লেখ্য, সরকারি আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়ানোর বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাচাই করা আর্থিক তথ্য ব্যবহার করে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা এবং বাজেটের বাইরে নেওয়া ঋণ বা ‘অফ-বাজেট বোরোয়িং’-এর উপর আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। সূচক প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুমন বেরি বলেন, ‘ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে হলে রাজ্য স্তরে আর্থিক শাসন আরও শক্তিশালী করা জরুরি।’ তাঁর মতে, ‘ফিসকাল হেলথ ইনডেক্স’-এর মতো সূচক রাজ্যগুলিকে তাদের কাঠামোগত আর্থিক সমস্যাগুলি চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে এবং লক্ষ্যভিত্তিক নীতি সংস্কার গ্রহণের পথ দেখাবে।

অন্যদিকে নিধি ছিব্বর এই সূচক তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘রাজ্যগুলির আর্থিক স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোই দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের অন্যতম চাবিকাঠি।’ তিনি আরও বলেন, এই ধরনের বিশ্লেষণাত্মক কাঠামো আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে এবং দেশের উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে। উল্লেখ্য যে, নীতিনির্ধারক, গবেষক এবং অর্থনীতি বিশ্লেষকদের কাছে এই সূচক একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডার হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এর মাধ্যমে রাজ্যগুলির আর্থিক শক্তি, দুর্বলতা এবং উন্নয়নের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মত, ভারতের মতো বৃহৎ ও বৈচিত্র্যময় অর্থনীতিতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাজ্যগুলির আর্থিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘ফিসকাল হেলথ ইনডেক্স ২০২৬’ সেই দিকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে রাজ্যগুলিকে আরও কার্যকর আর্থিক নীতি গ্রহণে সাহায্য করবে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : মোবাইল রিচার্জের দাম ঊর্ধ্বমুখী: ভারতে বাড়ছে ডিজিটাল খরচের চাপ, বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার

Sasraya News
Author: Sasraya News