সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লী : মাসের শেষ, হাতে টানাটানি, আর ঠিক তখনই সামনে হাজির চিকিৎসা খরচ, সন্তানের স্কুল ফি বা ব্যবসার জরুরি পেমেন্ট, এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। অনেকেই তখন উচ্চ সুদের ধার বা মহাজনি ঋণের দিকে ঝোঁকেন। অথচ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স শূন্য থাকলেও নির্দিষ্ট শর্তে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত তোলার সুযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা (PM Jan Dhan Yojana) -এর আওতায় খোলা অ্যাকাউন্টে মিলতে পারে এই ওভারড্রাফ্ট সুবিধা। PM Jan Dhan Yojana 2026 ঘিরে আবারও সামনে এসেছে এই আর্থিক সহায়তার বিষয়টি, যা বহু সাধারণ পরিবারের জন্য তাৎক্ষণিক ভরসা হতে পারে। সরকারি নীতিমালায় বলা হয়েছে, জন ধন অ্যাকাউন্ট যদি নির্দিষ্ট সময় ধরে সক্রিয় থাকে এবং গ্রাহকের লেনদেনের রেকর্ড সন্তোষজনক হয়, তবে ব্যাংক ওভারড্রাফ্ট অনুমোদন করতে পারে। অর্থাৎ, আপনার অ্যাকাউন্টে এক টাকাও না থাকলেও প্রয়োজনে ব্যাংকের কাছ থেকে অগ্রিম হিসেবে টাকা তোলা সম্ভব সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত। তবে এটি অনুদান নয়; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুদসহ ফেরত দিতে হবে।
ধরা যাক, হঠাৎ অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করতে হল পরিবারের কাউকে। হাতে নগদ নেই, কিন্তু সময় নষ্ট করারও উপায় নেই। আবার অনেকের ক্ষেত্রে কলেজ বা স্কুলের ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ এগিয়ে আসে। ছোট ব্যবসায়ীরাও উৎসবের আগে পণ্য তুলতে গিয়ে নগদের অভাবে সমস্যায় পড়েন। কৃষকের ক্ষেত্রে বীজ, সার বা মৌসুমি খরচ মেটানো জরুরি হয়ে ওঠে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে ব্যাংক-সমর্থিত ওভারড্রাফ্ট উচ্চ সুদের বেসরকারি ঋণের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ বিকল্প।
মালদার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রমেশ -এর অভিজ্ঞতা এই সুবিধার বাস্তব দিকটি তুলে ধরে। উৎসবের আগে দোকানে নতুন পণ্য তুলতে চেয়েও তিনি নগদের অভাবে পিছিয়ে পড়ছিলেন। বাইরে থেকে ধার নিলে মোটা সুদ গুনতে হতো। তাঁর জন ধন অ্যাকাউন্ট এক বছরের বেশি পুরনো এবং নিয়মিত ব্যবহার করা হত। ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তিনি ৮,০০০ টাকা ওভারড্রাফ্ট পান। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা শোধ করে তিনি ব্যবসার চাকা সচল রাখতে পেরেছেন। এ ধরনের সুবিধা বহু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার অস্থায়ী আর্থিক চাপ সামলাতে সহায়তা করছে।
জন ধন অ্যাকাউন্টের আরেকটি বড় দিক হল জিরো ব্যালেন্স সুবিধা। ন্যূনতম টাকা রাখার বাধ্যবাধকতা নেই। অ্যাকাউন্টে শূন্য ব্যালেন্স থাকলেও তা নিষ্ক্রিয় হয় না। ফলে গ্রাহক ইচ্ছেমতো টাকা জমা বা উত্তোলন করতে পারেন। পাশাপাশি কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের অনুদান সরাসরি এই অ্যাকাউন্টে জমা হয়, গ্যাস ভর্তুকি, কৃষি সহায়তা বা সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের অর্থ। এতে মধ্যস্বত্বভোগীর ঝামেলা কমে এবং টাকা সরাসরি উপভোক্তার হাতে পৌঁছয়। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় গ্রাহককে রুপে ডেবিট কার্ড দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে এটিএম থেকে নগদ তোলা, ডিজিটাল লেনদেন এবং শর্তসাপেক্ষে দুর্ঘটনা বিমা কভার পাওয়া যায়। গ্রামীণ এলাকায় ব্যাংক মিত্র বা CSP কেন্দ্রের মাধ্যমে সহজে লেনদেন করা সম্ভব, যা দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষ সহায়ক। কারা এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন? ভারতীয় নাগরিক, বয়স ১০ বছর বা তার বেশি হলেই আবেদন করা যায়। যাঁদের আগে কোনও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই, তাঁরা সরাসরি আবেদন করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যমান সেভিংস অ্যাকাউন্টকে জন ধন অ্যাকাউন্টে রূপান্তর করার সুযোগও থাকে, ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী।
অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়াও সহজ। নিকটবর্তী ব্যাংক শাখায় গিয়ে জন ধন অ্যাকাউন্টের ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে। সঠিকভাবে পূরণ করে আধার, ভোটার আইডি বা অন্য বৈধ পরিচয়পত্র জমা দিতে হয়। অ্যাকাউন্ট সক্রিয় হলে গ্রাহক পাসবুক ও রুপে কার্ড পান। গ্রামীণ অঞ্চলে ব্যাংক মিত্র কেন্দ্র থেকেও একই পরিষেবা পাওয়া যায়। কিন্তু ওভারড্রাফ্ট নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় জানা জরুরি। এটি বিনামূল্যের অর্থসাহায্য নয়। সুদের হার ব্যাংকভেদে ভিন্ন হতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত চার্জ আরোপ হতে পারে। নিয়মিত লেনদেন, অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রাখা এবং সুষ্ঠু ব্যাংকিং আচরণ অনুমোদনের সম্ভাবনা বাড়ায়। শেষ সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হাতেই থাকে। উল্লেখ্য, PM Jan Dhan Yojana 2026 -এর প্রেক্ষিতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির এই উদ্যোগ নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। দেশে কোটি কোটি মানুষ প্রথমবার ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় এসেছেন এই প্রকল্পের মাধ্যমে। ব্যালেন্স শূন্য থাকলেও প্রয়োজনের সময়ে সীমিত অঙ্কের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ অনেক পরিবারকে অনিশ্চয়তা থেকে রক্ষা করতে পারে। তবে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করাই বাঞ্ছনীয়, কারণ এটি ঋণের মতোই ফেরতযোগ্য। আপনার যদি জন ধন অ্যাকাউন্ট ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে সক্রিয় থাকে, তবে নিকটবর্তী ব্যাংকে যোগাযোগ করে ওভারড্রাফ্ট সুবিধা সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারেন। সঠিক তথ্য জানা থাকলে আর্থিক সঙ্কটের মুহূর্তে বিকল্প পথ খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। ব্যাংকিং শৃঙ্খলা বজায় রেখে এই সুযোগ কাজে লাগালে ভবিষ্যতের বড় সমস্যাও সামাল দেওয়া সম্ভব।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : NCERT Class 8 Textbook Banned: PM Modi Raises Tough Questions from Israel | এনসিইআরটি অষ্টম শ্রেণির বই নিষিদ্ধ, ইজরায়েল থেকে কড়া প্রশ্ন নরেন্দ্র মোদীর



