সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে জমে উঠেছে সমীকরণের লড়াই। এক ম্যাচেই বদলে গেল গ্রুপের ছবি। ইংল্যান্ডের দাপুটে প্রত্যাবর্তনে থমকে গেল নিউ জিল্যান্ডের (New Zealand) সেমিফাইনালের রাস্তা, আর সেই ফলেই নতুন করে প্রদীপ জ্বলে উঠল পাকিস্তান শিবিরে। শনিবার গ্রুপের শেষ ম্যাচের আগে এখন সব নজর সমীকরণে। নিউ জিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচেই জয় তুলে নিল ইংল্যান্ড (England), আর তাতেই সলমনদের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা এখনও অটুট। এই ম্যাচে শুরুটা ছিল নিউ জিল্যান্ডেরই। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার (Mitchell Santner)। আগের ম্যাচে একই কৌশলে সাফল্য পাওয়ায় সেই রাস্তাতেই হাঁটেন তিনি। ওপেনিং জুটিতে আক্রমণাত্মক সূচনা দেন টিম সেইফার্ট (Tim Seifert) ও ফিন অ্যালেন (Finn Allen)। পাওয়ারপ্লেতেই রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন তাঁরা। সেইফার্ট ২৫ বলে ৩৫ ও অ্যালেন ১৯ বলে ২৯ রান করে চাপ তৈরি করেন ইংল্যান্ড বোলারদের উপর।
তিন নম্বরে নেমে এ দিন বড় রান পাননি রাচিন রবীন্দ্র (Rachin Ravindra)। মাত্র ১১ রান করে ফিরে যান। মাঝের ওভারে ইনিংসের দায়িত্ব কাঁধে তোলেন গ্লেন ফিলিপ্স (Glenn Phillips)। তাঁর ২৮ বলে ৩৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস নিউ জিল্যান্ডকে লড়াইয়ের জায়গায় রাখে। কিন্তু শেষ দিকে পরপর উইকেট পড়তে থাকায় বড় স্কোর গড়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়। যেখানে এক সময় ১৮০ রানের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছিল, সেখানে শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রানেই থামে কিউইরা। ইংল্যান্ডের স্পিন ত্রয়ী ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আদিল রশিদ (Adil Rashid), রেহান আহমেদ (Rehan Ahmed) ও উইল জ্যাকস (Will Jacks) প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট তুলে নেন। মিডল ওভারে তাঁদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংই নিউ জিল্যান্ডকে বড় স্কোর থেকে দূরে রাখে।
১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের। ওপেনার ফিল সল্ট (Phil Salt) মাত্র ২ রানে আউট হন। অধিনায়ক জস বাটলার (Jos Buttler) শূন্য হাতে ফেরেন। শুরুতেই দুই প্রধান ব্যাটারের বিদায়ে চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। এরপর ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন হ্যারি ব্রুক (Harry Brook)। তাঁকে সঙ্গ দেন জেকব বেথেল (Jacob Bethell)। তবে ব্রুক ২৬ রানে থেমে গেলে আবারও দুশ্চিন্তা বাড়ে ইংল্যান্ড শিবিরে। বেথেলও ২১ রান করে বিদায় নেন। মাঝের ওভারে ম্যাচ ক্রমশ নিউ জিল্যান্ডের দিকে ঝুঁকতে থাকে। বল হাতে ফের নজর কাড়েন রাচিন। চার ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে তিনি ৩ উইকেট তুলে নেন। তাঁর শিকার হন টম ব্যান্টন (Tom Banton) ও স্যাম কারেন (Sam Curran)। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, ইংল্যান্ডের পথ প্রায় বন্ধ। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক ওভারই বদলে দিতে পারে পুরো গল্প। ইনিংসের ১৭তম ওভারে গ্লেন ফিলিপ্সের বলে ২২ রান তোলেন উইল জ্যাকস ও রেহান আহমেদ। সেই ওভারেই ম্যাচ ঘুরে যায়। জ্যাকস ১৮ বলে ৩২ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন। অন্য প্রান্তে রেহান মাত্র ৭ বলে ১৯ রান করে ম্যাচের রাশ টেনে ধরেন। শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ইংল্যান্ড।
এই জয়ে সুপার এইটে তিন ম্যাচেই অপরাজিত রইল ইংল্যান্ড এবং আগেই তারা সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। এবং নিউ জিল্যান্ডের হারের ফলে গ্রুপে সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে। নিউ জিল্যান্ড যদি এই ম্যাচ জিতত, তাহলে তারাই শেষ চারে চলে যেত। সুযোগ এসেও কাজে লাগাতে না পারায় এখন তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচের ফলাফলের দিকে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের জন্য এই ফল বড় স্বস্তি। সলমনদের সামনে এখন সম্ভাবনার দরজা খোলা। শনিবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে ফল নির্ধারণ করবে কারা সেমিফাইনালে উঠবে। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ এখন সেই ম্যাচের দিকেই। বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ মুহূর্তের নাটক যে কতটা রোমাঞ্চকর হতে পারে, তারই প্রমাণ দিল ইংল্যান্ড বনাম নিউ জিল্যান্ড দ্বৈরথ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India vs Zimbabwe, Suryakumar Yadav Captaincy | জিম্বাবোয়ে আরও একবার প্রমাণ করল নিজেদের




