সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : নতুন দিল্লির আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত এআই সম্মেলনে একদল কংগ্রেস কর্মীর খালি গায়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। উত্তরপ্রদেশের মেরঠে এক জনসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিশ্বমঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হয়েছে।’ তাঁর ভাষায়, আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানকে ‘নোংরা এবং নগ্ন রাজনীতি’র মঞ্চে পরিণত করেছে শতাব্দীপ্রাচীন দল কংগ্রেস। শুক্রবার দিল্লির প্রগতি ময়দান চত্বরে অবস্থিত ভারত মণ্ডপম (Bharat Mandapam) প্রেক্ষাগৃহে চলছিল আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলন। দেশ-বিদেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, নীতি নির্ধারক এবং শিল্পপতিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেই সময় আচমকাই কয়েক জন যুবক সভাকক্ষে ঢুকে পোশাক খুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের হাতে ধরা ছিল পোশাক, এবং তাঁরা ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সমঝোতার বিরোধিতায় স্লোগান তোলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত তাঁদের সরিয়ে নিয়ে যান।

এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বিজেপির একাধিক নেতা প্রথম থেকেই কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রবিবার মেরঠের সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা তো ইতিমধ্যেই নগ্ন রাজনীতি করছেন, তা হলে আর পোশাক খোলার প্রয়োজন কী ছিল?’ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল ক্ষোভ ও কটাক্ষের সুর। প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, ‘এটি কোনও রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠান ছিল না। এটি গোটা দেশের সম্মেলন। সেখানে বিজেপির কোনও নেতাও উপস্থিত ছিলেন না। আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সামনে এই আচরণ ভারতের মর্যাদাকে আঘাত করেছে।’ তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস দেশের সাফল্য ‘হজম করতে পারছে না’ এবং ভারতের অগ্রগতিকে খাটো করার চেষ্টা করছে। ব্যক্তিগত আক্রমণের প্রসঙ্গেও সরব হন মোদী। তিনি বলেন, ‘আমাকে আক্রমণ করতে গিয়ে আমার মাকেও রেহাই দেয় না ওরা। আমার কবর খুঁড়তে চায়। কিন্তু দেশের মানুষ সব দেখছে।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এআই সম্মেলনে বিক্ষোভ নিয়ে বিরোধী শিবিরের মধ্যেও মতভেদ দেখা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) নেতা ও রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo) এই ঘটনাকে ‘দুর্বল বিচারবুদ্ধির প্রতিফলন’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, ‘আন্তর্জাতিক নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সামনে এ ধরনের আচরণ দেশের অগ্রাধিকারের প্রশ্নে ভুল বার্তা দেয়। গণতন্ত্রে প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে, কিন্তু দায়িত্ববোধও থাকা প্রয়োজন।’ দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের আদালতে পেশ করে পুলিশ দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিকল্পিত ভাবে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। আদালত পুলিশের আবেদনে সাড়া দিয়ে ধৃতদের পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। রবিবার তাঁদের জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আইনজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্মেলনের নিরাপত্তা ভেঙে এই ধরনের বিক্ষোভ গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। বিশেষত যখন বিদেশি প্রতিনিধি ও শিল্পমহলের শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকেন, তখন নিরাপত্তা বিধি আরও কঠোর থাকে। সেক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এআই ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন দেশের ভাবমূর্তি গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। সেখানে বিক্ষোভের ধরন ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। অন্যদিকে কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট নয়, তবে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ‘গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ অপরাধ নয়।’ অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। একদিকে শাসকদলের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ‘নোংরা রাজনীতি’; অন্যদিকে বিরোধীদের বক্তব্য, ‘প্রতিবাদের অধিকার গণতন্ত্রের অংশ।’ তবে এ কথা অস্বীকার করা যায় না যে, আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনের মতো উচ্চপর্যায়ের মঞ্চে এমন বিক্ষোভ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) মন্তব্যের পর বিষয়টি আরও তীব্র রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। আগামী দিনে এই ইস্যু সংসদ থেকে রাজপথ, সব জায়গাতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Emmanuel Macron praises UPI, India AI Summit Delhi | ‘ভারত যা করেছে, অন্য কেউ পারেনি’ : AI সামিটে UPI-র ভূয়সী প্রশংসা ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁর



