সংবেদন শীল ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, নতুন দিল্লি : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ (ICC T20 World Cup 2026) ঘিরে নাটক যেন কিছুতেই শেষ হচ্ছে না। এক সময় যে বাংলাদেশ (Bangladesh) দলকে ভারতে খেলতে আসতে না চাওয়ার কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছেঁটে ফেলেছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসি (International Cricket Council- ICC), সেই দলকেই আবার বিশ্বমঞ্চে ফেরানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ক্রিকেট দুনিয়ার অন্দরমহলে জোর আলোচনা, যদি পাকিস্তান (Pakistan) শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ থেকে নাম তুলে নেয়, তা হলে গ্রুপ এ-তে তাদের জায়গায় সুযোগ পেতে পারে বাংলাদেশ। অর্থাৎ, এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি লিটন দাসদের (Liton Das) বিশ্বকাপ স্বপ্ন। ভারতে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। সেই টানাপড়েনের প্রভাব পড়ে ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তেও। বাংলাদেশ দল শুরুতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেও, নিরাপত্তা ও ভেন্যু সংক্রান্ত আপত্তির কারণে ভারতে খেলতে না চাওয়ার অবস্থান নেয়। শেষ পর্যন্ত আইসিসি কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্টের বাইরে রাখে। কিন্তু পরিস্থিতি যে এতটা দ্রুত বদলাতে পারে, তা বোধহয় কেউ ভাবেনি।
‘হিন্দুস্তান টাইমস’ (Hindustan Times)-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়, তা হলে আইসিসি প্রথম বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশকেই ডাকতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, আইসিসির এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘যদি পাকিস্তান বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়, তা হলে গ্রুপ এ-তে তাদের বদলে বাংলাদেশকে খেলার প্রস্তাব দেওয়া হবে। পাকিস্তানের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় (Sri Lanka) হওয়ার কথা ছিল। বাংলাদেশেরও একই দাবি ছিল। ফলে সূচিতে বড় কোনও পরিবর্তন করতে হবে না এবং আয়োজনের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হবে না।’ এই তথ্য সামনে আসার পরই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কারণ, বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বেশি দিন বাকি নেই। এই অবস্থায় যদি কোনও দল নাম তুলে নেয়, তা হলে বিকল্প দল খুঁজে পাওয়া সহজ কাজ নয়। সেই জায়গায় বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখার অন্যতম কারণ, তারা ইতিমধ্যেই মানসিক ও কৌশলগত ভাবে বিশ্বকাপ খেলার জন্য প্রস্তুত ছিল।
পাকিস্তান আদৌ বিশ্বকাপ খেলবে কি না, তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সোমবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (Pakistan Cricket Board- PCB) প্রধান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi) জানিয়েছেন, তিনি এই বিষয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের (Shehbaz Sharif) সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সমস্ত পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। নকভির কথায়, আগামী শুক্রবার অথবা সোমবারের মধ্যে পাক বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারে। এই অনিশ্চয়তা আইসিসির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। কারণ, বিশ্বকাপের সূচী, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, সব কিছুই একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনার উপর দাঁড়িয়ে থাকে। শেষ মুহূর্তে যদি পাকিস্তানের মতো একটি বড় দল সরে দাঁড়ায়, তা হলে পুরো ব্যবস্থাই চাপে পড়বে। সেই কারণেই আইসিসি আগাম বিকল্প ভাবনায় রেখেছে বাংলাদেশকে।
কিন্তু, পাকিস্তানের জন্য বিষয়টি মোটেই সহজ নয়। যদি তারা পুরো বিশ্বকাপ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেয়, তা হলে আইসিসি, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (Board of Control for Cricket in India- BCCI) এবং পিসিবির মধ্যে হওয়া ত্রিপাক্ষিক চুক্তি ভেঙে যাবে। ওই চুক্তির ভিত্তিতেই ‘হাইব্রিড মডেল’-এ খেলার অনুমতি পেয়েছিল পাকিস্তান। এক আইসিসি কর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের দাবিতেই হাইব্রিড মডেলে খেলার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। যদি তারা শেষ পর্যন্ত না খেলে, তা হলে সেই চুক্তি ভঙ্গ হবে এবং কড়া শাস্তির মুখে পড়তে পারে পাকিস্তান।’
এই আশঙ্কার কারণেই পুরো বিশ্বকাপ বয়কটের পথে হাঁটতে চাইছে না পাকিস্তান, এমনটাই দাবি করেছে সে দেশের সংবাদমাধ্যম ‘জিয়ো নিউজ়’ (Geo News)। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য শাস্তির কথা মাথায় রেখেই পাক বোর্ড সম্পূর্ণ বয়কটের বদলে শুধু ভারতের (India) বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যদিও এই সিদ্ধান্তও আইসিসির কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এর মধ্যেই পাকিস্তান তাদের ১৫ সদস্যের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেছে। তবে নকভি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দল ঘোষণা মানেই বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত নয়। এই বক্তব্যই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। এক দিকে দল ঘোষণা, অন্য দিকে বয়কটের হুমকি, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত ধোঁয়াশাপূর্ণ।
এই ধোঁয়াশার মধ্যেই বাংলাদেশ শিবিরে আবার নতুন করে আশার আলো। লিটন দাস, সাকিব আল হাসান (Shakib Al Hasan), নাজমুল হোসেন শান্তদের (Najmul Hossain Shanto) মতো ক্রিকেটাররা এখনও প্রকাশ্যে কিছু না বললেও, বিসিবি (BCB) সূত্রে জানা যাচ্ছে যে সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য তারা প্রস্তুত। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, যদি পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ায়, তা হলে বাংলাদেশকে নেওয়াই আইসিসির জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হবে। প্রসঙ্গত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতি আরও জটিল আকার নিচ্ছে। পাকিস্তানের সিদ্ধান্তই এখন নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। বিশ্বকাপের দরজা কী আবার খুলবে লিটনদের জন্য, নাকি এই আশা শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে যাবে, সেই উত্তর মিলবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Union Budget 2026-27, Nirmala Sitharaman Budget | রবিবারেই বাজেটের অঙ্ককষা: আড়াই দশক পর সংসদের ইতিহাসে ব্যতিক্রমী ১ ফেব্রুয়ারি




