Second Marriage, Indian Judiciary | ডিভোর্স না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে মানেই নিষ্ঠুরতা, নাবালক সন্তানের হেফাজতেও অধিকার হারালেন বাবা, গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ রায়পুর: প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও ডিভোর্স না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করা শুধু সামাজিক অসঙ্গতি নয়, তা আইনের চোখেও ‘নিষ্ঠুরতা’ ও ‘অসদাচরণ’ এমনই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল ছত্তীসগঢ় হাইকোর্ট (Chhattisgarh High Court)। একই সঙ্গে আদালত জানিয়ে দিল, এই ধরনের পরিস্থিতিতে বাবা শুধু আর্থিক সহায়তা করলেই নাবালক সন্তানের অভিভাবকত্ব দাবি করতে পারেন না। সন্তানের মানসিক নিরাপত্তা, সামাজিক পরিবেশ ও ভবিষ্যৎই আদালতের কাছে প্রধান বিবেচ্য। এই মামলার শুনানি হয় ছত্তীসগঢ় হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কে আগরওয়াল (Justice Sanjay K. Agrawal) এবং বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ভার্মা -এর (Justice Arvind Kumar Verma) ডিভিশন বেঞ্চে। আদালতের সামনে মূল প্রশ্ন ছিল, প্রথম স্ত্রীকে আইনত ডিভোর্স না দিয়েই দ্বিতীয় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বসবাসকারী কোনও ব্যক্তি কী তাঁর নাবালক সন্তানকে নিজের হেফাজতে রাখার দাবি জানাতে পারেন?

 ছবি : প্রতীকী

ঘটনার সূত্রপাত একটি পারিবারিক বিবাদ থেকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রথম বিয়ে হয় ২০১৩ সালের ১৩ মে। সেই দাম্পত্যে তাঁদের দুই পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। প্রথম কয়েক বছর সংসার স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীকালে পারিবারিক অশান্তি চরমে পৌঁছয়। ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে স্ত্রী ছোট সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হন। সেই সময় বড় ছেলে বাবার কাছেই থেকে যায়। এর কিছুদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলায়। অভিযোগ ওঠে, ওই ব্যক্তি তাঁর প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং নতুন স্ত্রীর সঙ্গে সংসার শুরু করেন। এই অবস্থায় মা আইনি পথে হাঁটেন এবং শেষ পর্যন্ত বড় সন্তানকেও নিজের কাছে নিয়ে আসেন। এরপরই বাবা পারিবারিক আদালতে আবেদন করেন, নাবালক পুত্রকে তাঁর হেফাজতে দেওয়ার জন্য।

আরও পড়ুন : Narendra Modi statement, Nitin Naveen BJP chief | ‘আমি প্রধানমন্ত্রী হতে পারি, কিন্তু বিজেপিতে আমি একজন কার্যকর্তা, নিতিন নবীনই আমার বস’ : দলের সভাপতির শপথ মঞ্চে সংগঠনের দর্শন স্পষ্ট করলেন মোদী

পারিবারিক আদালত বিষয়টি খতিয়ে দেখে আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়েই দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঘরে তোলা আইনত ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এই অবস্থায় নাবালক শিশুকে বাবার কাছে, অর্থাৎ সৎ মায়ের পরিবেশে পাঠানো শিশুর স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে। সেই রায়ের বিরুদ্ধেই বাবা ছত্তীসগঢ় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্টে শুনানির সময় আবেদনকারীর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, বাবা হিসেবে তিনি সন্তানের ‘স্বাভাবিক অভিভাবক’ (natural guardian)। তাঁর আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, সন্তানের লেখাপড়া ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। কিন্তু এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত জানায়, বাবা স্বাভাবিক অভিভাবক হলেও সেই অধিকার নিঃশর্ত নয়। বিশেষ করে, যখন তাঁর আচরণ থেকেই প্রমাণিত হয় যে তিনি প্রথম স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুরতা করেছেন। বিচারপতিরা পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘প্রথম স্ত্রীকে আইনত ডিভোর্স না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করা নিজেই এক ধরনের মানসিক নিষ্ঠুরতা। এর প্রভাব শুধু স্ত্রীর উপর নয়, সন্তানের উপরও পড়ে।’

আদালতের মতে, নাবালক সন্তানের কল্যাণই (welfare of the child) সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। মা জীবিত ও সন্তানের যত্ন নিতে সক্ষম থাকলে, শিশুকে সৎ মায়ের অধীনে পাঠানো মানেই তাকে অনিশ্চিত পরিবেশের মধ্যে ঠেলে দেওয়া। এই ধরনের পরিস্থিতিতে শিশুর মানসিক বিকাশ, নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতি বিঘ্নিত হতে পারে। ডিভিশন বেঞ্চ আরও জানায়, শুধু অর্থনৈতিক সহায়তা দিলেই একজন অভিভাবক নিজের দায়িত্ব শেষ করতে পারেন না। সন্তানের জীবনে মানসিক স্থিরতা, পারিবারিক নিরাপত্তা এবং ভালোবাসার পরিবেশ অপরিহার্য। একজন ব্যক্তি যখন নিজের বৈবাহিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, তখন তাঁর হাতে সন্তানের দায়িত্ব তুলে দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়।

এই রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আর্থিক সক্ষমতাকে সামনে রেখে অভিভাবকত্ব দাবি করা হয়। কিন্তু এই রায়ে পরিষ্কার যে নৈতিকতা ও পারিবারিক স্থিতিই মুখ্য।

আইনি মহলের একাংশের মতে, এই রায় শুধু ছত্তীসগঢ় নয়, গোটা দেশের পারিবারিক আইন সংক্রান্ত মামলাগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত, প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ের প্রবণতার বিরুদ্ধে এটি একটি শক্ত বার্তা। ছত্তীসগঢ় হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ আবারও মনে করিয়ে দিল, বিবাহ শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়ও। আর সেই দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করলে তার প্রভাব পড়ে সবচেয়ে বেশি নাবালক সন্তানের জীবনে, যাকে রক্ষা করাই আদালতের প্রধান দায়িত্ব।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sweta Bhattacharya | ‘সিঁথির সিঁদুর অক্ষত নিয়েই যেন মরতে পারি’ : বিয়ের এক বছর পূর্তিতে আবেগে ভাসলেন শ্বেতা ভট্টাচার্য

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন