তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : বাংলা ক্যালেন্ডারের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হল পৌষ সংক্রান্তি। এই দিন থেকেই সূর্যের উত্তরায়ণ শুরু হয়, যা জ্যোতিষ ও ধর্মীয় দৃষ্টিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। পৌষ মাসের শেষ দিনে সূর্য ধনু রাশি ত্যাগ করে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। সেই কারণেই পৌষ সংক্রান্তি ‘মকর সংক্রান্তি’ নামেও পরিচিত। জ্যোতিষ মতে, এই পরিবর্তন শুধু ঋতুচক্রের নয়, মানুষের জীবনশক্তি, মানসিক স্থিতি ও ভাগ্যপ্রবাহের উপরও প্রভাব ফেলে। আর ক’দিনের মধ্যেই শুরু হবে মাঘ মাস। তবে মাঘের সূচনালগ্নের আগের এই দিনটি বিশেষভাবে পবিত্র বলে ধরা হয়। শাস্ত্র মতে, উত্তরায়ণের সময় সূর্যের শক্তি পৃথিবীর উপর বেশি সক্রিয় থাকে। তাই পৌষ সংক্রান্তিতে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও আচার মেনে চললে জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন, মানসিক শান্তি এবং কর্মক্ষেত্রে উন্নতির সম্ভাবনা বাড়ে বলে বিশ্বাস।
জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দিনে সূর্যদেবকে প্রসন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সূর্যকে সমস্ত গ্রহের রাজা বলা হয়। জন্মকুণ্ডলীতে সূর্যের অবস্থান শক্তিশালী হলে ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বগুণ বৃদ্ধি পায়। সেই লক্ষ্যেই পৌষ সংক্রান্তিতে কিছু সহজ কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ টোটকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। পৌষ সংক্রান্তির সকালে সূর্যোদয়ের পূর্বে ঘুম থেকে ওঠা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করে সূর্যপ্রণাম করলে শরীর ও মন দু’টিই শুদ্ধ হয়। এই সময় সূর্যের উদ্দেশে জল অর্পণ করার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। জলে সামান্য লাল ফুল বা চন্দন মিশিয়ে গায়ত্রী মন্ত্র কিংবা সূর্যপ্রণাম মন্ত্র জপ করতে করতে অর্ঘ্য প্রদান করলে সূর্যের কৃপা লাভ হয় বলে বিশ্বাস। জ্যোতিষ মতে, এতে কর্মজীবনের বাধা কাটে এবং স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা কমে। এই দিন দানধ্যানের গুরুত্বও অপরিসীম। পৌষ সংক্রান্তিতে দান করলে তার ফল বহুগুণে ফিরে আসে, এমনটাই শাস্ত্রের ব্যাখ্যা। বিশেষ করে সূর্যের প্রতীক হিসেবে লাল রঙের জিনিস দান করা অত্যন্ত শুভ। লাল বস্ত্র, কালো ছোলা কিংবা কেশর দান করা যেতে পারে। তবে এগুলি সম্ভব না হলে, নিজের সাধ্যের মধ্যে লাল রঙের কোনও বস্তু দান করলেও শুভ ফল মেলে বলে জ্যোতিষীদের অভিমত। দানের মাধ্যমে শুধু পুণ্যলাভই নয়, মানসিক তৃপ্তিও অর্জিত হয়।
সন্ধ্যাবেলায় তুলসীগাছের সামনে প্রদীপ ও ধূপকাঠি জ্বালানোর রীতিও এই দিনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তুলসীকে হিন্দু ধর্মে পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে মানা হয়। পৌষ সংক্রান্তির সন্ধ্যায় তুলসীতলায় আলো জ্বালালে সংসারে শান্তি বজায় থাকে এবং নেতিবাচক শক্তির প্রভাব কমে বলে বিশ্বাস। অনেকেই মনে করেন, এই অভ্যাস নিয়মিত করলে পারিবারিক কলহ দূর হয় এবং আর্থিক স্থিতি মজবুত হয়। খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও এই দিন কিছু নিয়ম মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। পৌষ সংক্রান্তিতে গুড়ের তৈরি মিষ্টি, পিঠে বা পায়েস ঠাকুরকে নৈবেদ্য হিসেবে দেওয়ার প্রথা বহু পুরনো। গুড়কে সূর্যের উষ্ণতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। নৈবেদ্য দেওয়ার পর পরিবারের সকলে একসঙ্গে সেই প্রসাদ গ্রহণ করলে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয়। শাস্ত্র মতে, এই দিন বাড়ির শিশুদের আগে প্রসাদ খাওয়ানো অত্যন্ত শুভ। এছাড়া মকর সংক্রান্তির দিন নিরামিষ আহার গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আমিষ খাদ্য ও যে কোনও প্রকার নেশাদ্রব্য থেকে এই দিন দূরে থাকা উচিত বলে জ্যোতিষ শাস্ত্রের ব্যাখ্যা। এর ফলে শরীর যেমন শুদ্ধ থাকে, তেমনই মনও স্থির হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়মগুলি মেনে চললে সূর্যের শুভ প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়।
উল্লেখ্য, পৌষ সংক্রান্তি একটি তিথিই নয়, তা আত্মশুদ্ধি ও নতুন সূচনার দিকচিহ্ন। সূর্যের উত্তরায়ণের এই পুণ্যক্ষণে সহজ কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই জীবনে আসতে পারে রবি-সম দীপ্তি, এমনটাই বিশ্বাস জ্যোতিষমহলের।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Astrological Benefits of Chandan | চন্দনের আশ্চর্য প্রভাব: ভাগ্য ফেরাতে পারে এই ছয় টোটকা, জানুন কীভাবে করবেন




