S. Jaishankar | ভারত পশ্চিমা দেশগুলোর নৈতিক শিক্ষা প্রত্যাখ্যান করছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর (S. Jaishankar) পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে ভারতীয় অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বা ‘ফ্রি পরামর্শ’ দেওয়ার প্রবণতাকে কঠোরভাবে নাকচ করেছেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে চলমান বিতর্ক ও সমালোচনার প্রেক্ষিতে মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, ‘যারা ভারতকে পাঠ দিচ্ছে, তাদের উচিত প্রথমে নিজেদের অঞ্চলে সহিংসতা এবং অস্থিরতার মাত্রা মূল্যায়ন করা।’ তিনি আরও যুক্তি দেখিয়েছেন যে ভারত একটি পরিপক্ক গণতন্ত্র যা নিজের চ্যালেঞ্জগুলো স্বাধীনভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম এবং বাইরের কোনও শক্তি থেকে নৈতিক দিকনির্দেশনার প্রয়োজন নেই। শ্রী জয়শঙ্কর (S. Jaishankar) বলেন, ‘আমাদের গণতন্ত্র পরিপক্ক। এবং আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো আমরা নিজস্ব নীতি ও কাঠামোর মাধ্যমে সমাধান করি। অন্য দেশ থেকে আসা অপ্রয়োজনীয় পরামর্শ আমাদের প্রয়োজন নেই।’ তাঁর এই মন্তব্যগুলো ভারতের ধারাবাহিক নীতি, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বৈশ্বিক মঞ্চে সমমানের, সম্মানজনক অংশগ্রহণের দাবিকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে।

আরও পড়ুন : India–New Zealand Free Trade Agreement | মাত্র ন’মাসেই ঐতিহাসিক সাফল্য, ভারত–নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

এই মন্তব্য এমন সময়ে যখন পশ্চিমা দেশগুলো ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সমালোচনা করছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়গুলোকে তুলে ধরছে। জয়শঙ্কর (S. Jaishankar) পরিষ্কার করেছেন যে, অন্য দেশের অভিমত ও সমালোচনা ভারতকে নিজের নীতি ও প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তন করতে প্রভাবিত করবে না। তিনি বলেন, ‘যেখানে সহিংসতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বা প্রশাসনিক ব্যর্থতার ঘটনা ঘটছে, সেই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো নিয়ে অন্যদের নাক গলানো অগ্রহণযোগ্য।’ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্যে ভারতীয় কূটনীতির স্বাধীনতা এবং শক্তিশালী অবস্থান প্রতিফলিত হয়েছে। জয়শঙ্কর (S. Jaishankar) বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বমঞ্চে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করি, কিন্তু আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলিতে হস্তক্ষেপ বা নৈতিক দিকনির্দেশনা আমরা গ্রহণ করি না। এটি আমাদের সার্বভৌমত্বের মূল ভিত্তি।’ এই বক্তব্য ভারতের growing assertiveness বা বেড়ে ওঠা আত্মবিশ্বাসী কূটনীতি এবং সমান ও সম্মানজনক বৈশ্বিক অংশগ্রহণের উপর জোরের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘ভারতীয় গণতন্ত্র সব স্তরে শক্তিশালী, এবং আমরা জনগণের কল্যাণ, আইন শৃঙ্খলা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে আমাদের নিজস্ব কাঠামো ব্যবহার করি। বাইরের চাপের প্রয়োজন নেই। আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াগুলো স্বতন্ত্র এবং কার্যকর।’ জয়শঙ্করের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের অবস্থানকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেছে, যেখানে দেশটি অন্য দেশ থেকে অপ্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রত্যাখ্যান করছে।

বিশ্বব্যাপী সমালোচনার প্রেক্ষাপটে ভারত তার নীতি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জয়শঙ্কর (S. Jaishankar) বলেছেন, ‘ভারত তার কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো নিজস্ব স্বার্থ এবং দেশের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে নেবে।’ এ ধরনের অবস্থান ভারতকে একটি সক্রিয়, আত্মনির্ভর এবং সম্মানজনক বৈশ্বিক অংশগ্রহণকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, জয়শঙ্করের (S. Jaishankar) এই কড়া মন্তব্য ভারতের increasing confidence বা বেড়ে ওঠা কূটনৈতিক আত্মবিশ্বাসের পরিচায়ক। এটি নির্দেশ করছে যে ভারত এখন অন্য দেশের নৈতিক দিকনির্দেশনা বা unsolicited advice মেনে চলবে না এবং নিজের অভ্যন্তরীণ নীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোতে দৃঢ়ভাবে টিকে থাকবে।

এছাড়া, ভারতের এই অবস্থান বিশ্বমঞ্চে একটি precedent স্থাপন করছে, যেখানে সার্বভৌমত্ব, সমান অংশগ্রহণ এবং সম্মানজনক কূটনীতি মূল নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। জয়শঙ্করের (S. Jaishankar) মন্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে যে ভারত নিজের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে স্বাধীন এবং স্বায়ত্তশাসিত। শ্রী জয়শঙ্করের (S. Jaishankar) বক্তব্য স্পষ্ট করে যে, ভারত তার গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে এবং আন্তর্জাতিক চাপ বা সমালোচনায় প্রভাবিত হবে না। এই বক্তব্য ভারতের growing global stature বা বৈশ্বিক মর্যাদা এবং self-reliant foreign policy কে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Celina Jaitly abuse case | অজি স্বামীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ: ভয়াবহ নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরে নীরবতা ভাঙলেন সেলিনা জেটলি

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন