Priyanka Chopra Nick Jonas, Indian kadha benefits : নিক জোনাসকে ‘অর্ধেক ভারতীয়’ বানালেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, সেলেব দাম্পত্যের গল্পে ঘরোয়া কাড়া থেকে উৎসবের রঙ

SHARE:

নিক জোনাস ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : বলিউড ও হলিউডের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি প্রিয়াঙ্কা চোপড়া (Priyanka Chopra) এবং নিক জোনাস (Nick Jonas) এই নাম দু’টি একসঙ্গে এলেই অনুরাগীদের মনে ভেসে ওঠে জমাটি রসায়ন, খুনসুটি আর ভালোবাসায় মোড়া দাম্পত্যের ছবি। সমাজমাধ্যমে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা মুহূর্ত ভাগ করে নিতে কখনওই পিছপা হন না এই তারকা যুগল। কখনও নিকের কনসার্টে দর্শকাসনে বসে প্রিয়াঙ্কার প্রাণখোলা নাচ, আবার কখনও বিদেশের কোনও স্টুডিয়োতে প্রিয়ঙ্কার ফটোশুট চলাকালীন ক্যামেরার পিছনে দাঁড়িয়ে স্ত্রীর ছবি তুলতে দেখা যায় নিককে। এইসব ছোট ছোট মুহূর্তই অনুরাগীদের কাছে তাঁদের সম্পর্ককে আরও আপন করে তোলে।

আরও পড়ুন : Priyanka Chopra Baranasi budget | ১৩০০ কোটির ‘বারাণসী’ কি প্রিয়াঙ্কার জন্যই? কপিল শর্মার প্রশ্নে চর্চা

প্রিয়াঙ্কা নিজেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে মাঝেমধ্যেই তাঁদের দাম্পত্যের অজানা গল্প শোনান। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানালেন, কী ভাবে তিনি নিককে ধীরে ধীরে ‘ভারতীয়’ করে তুলেছেন। কথার ছলে প্রিয়াঙ্কার এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই নেটদুনিয়ায় চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার কর্মসূত্রে বসবাস বিদেশে। তবে হাজার মাইল দূরে থাকলেও নিজের দেশের সংস্কৃতি, উৎসব ও ঘরোয়া অভ্যাস যে তিনি ভোলেননি, তা বারবার প্রমাণ করেছেন। নিককে সঙ্গী করেই প্রিয়ঙ্কা বিদেশের মাটিতে পালন করেন দিওয়ালি, করবা চৌথ, হোলি-সহ একাধিক ভারতীয় উৎসব। আলোর সাজ, পুজোপাঠ, ঐতিহ্যবাহী খাবার কিংবা পোশাক, সব ক্ষেত্রেই থাকে ভারতীয় ছোঁয়া। আর সেই রীতিনীতিতে নিক জোনাসও যে বেশ সাবলীল হয়ে উঠেছেন, তা অভিনেত্রীর কথাতেই স্পষ্ট।

এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কাকে মজার ছলে প্রশ্ন করা হয়, নিকের উপর তিনি কখনও ভারতের মা-ঠাকুরমাদের পুরনো ঘরোয়া টোটকা প্রয়োগ করেছেন কি না। এই প্রশ্নের উত্তরে হাসিমুখে প্রিয়ঙ্কা বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে কেউ অসুস্থ হলে সঙ্গে সঙ্গে কাড়া বানানোর রেওয়াজ রয়েছে। নিক যেখানেই থাকুক না কেন, সর্দি-কাশি হলেই ও কাড়া আর গরম জল খায়।’ এই কথা বলেই অভিনেত্রী মজা করে যোগ করেন, তিনি নিককে প্রায় অর্ধেক ভারতীয় বানিয়ে ফেলেছেন। এই মন্তব্যেই ধরা পড়ে প্রিয়াঙ্কার শিকড়ের টান। আধুনিক জীবনযাত্রার মাঝেও ভারতীয় ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতির উপর যে তাঁর বিশ্বাস অটুট, তা স্পষ্ট। ভারতে সর্দি-কাশি, শরীর দুর্বল লাগা কিংবা ঋতু পরিবর্তনের সময় বাড়ির বড়রা আজও কাড়া খাওয়ার পরামর্শ দেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই অভ্যাসের পেছনে রয়েছে আয়ুর্বেদের (Ayurveda) দীর্ঘ ইতিহাস।

ভারতের প্রাচীন চিকিৎসাশাস্ত্রে নানা ধরনের কাড়ার উল্লেখ পাওয়া যায়। নিয়ম মেনে সঠিক উপকরণ দিয়ে কাড়া তৈরি করে খেলে শরীরের প্রদাহ কমে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং হজমশক্তিও ভাল থাকে বলে মনে করা হয়। শুধু তাই নয়, অনেকের মতে এই ধরনের পানীয় নিয়মিত খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার কথায় উঠে আসা সেই ঘরোয়া কাড়া নিয়েই এখন কৌতূহল তুঙ্গে।
কাড়া। রেসিপি। ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী

ভারতের প্রাচীন চিকিৎসাশাস্ত্রে নানা ধরনের কাড়ার উল্লেখ পাওয়া যায়। নিয়ম মেনে সঠিক উপকরণ দিয়ে কাড়া তৈরি করে খেলে শরীরের প্রদাহ কমে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং হজমশক্তিও ভাল থাকে বলে মনে করা হয়। শুধু তাই নয়, অনেকের মতে এই ধরনের পানীয় নিয়মিত খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার কথায় উঠে আসা সেই ঘরোয়া কাড়া নিয়েই এখন কৌতূহল তুঙ্গে। কী ভাবে এই কাড়া বানানো হয় এবং তাতে কী কী উপকরণ লাগে, তা জানতে আগ্রহী সাধারণ মানুষও।

এই কাড়া বানাতে প্রথমেই প্রয়োজন এক লিটার জল। তার সঙ্গে দিতে হবে ৪ থেকে ৫টি গুলঞ্চলতার (Giloy) ডাল। আয়ুর্বেদে গুলঞ্চকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম উপাদান হিসেবে ধরা হয়। এর সঙ্গে যোগ করতে হবে এক চা চামচ কাঁচা হলুদ বাটা, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। আদাবাটা শরীর গরম রাখতে সহায়ক, তাই এক চামচ আদাবাটাও ব্যবহার করা হয়। স্বাদ ও গুণ বাড়াতে দেওয়া হয় ৭-৮টি তুলসী পাতা, এক চা চামচ দারচিনির গুঁড়ো, ৩-৪টি ছোট এলাচ এবং আধ চামচ গোলমরিচ। শেষে প্রয়োজন এক চা চামচ মধু। প্রস্তুত প্রণালিও খুব জটিল নয়। জল গরম করে তাতে গুলঞ্চ, দারচিনি, ছোট এলাচ, আদা, কাঁচা হলুদ-সহ সব উপকরণ দিয়ে ৭ থেকে ৮ মিনিট ফোটাতে হয়। ভাল করে ফুটলে জলের রং বদলে সুন্দর গাঢ় আভা নেয়। তার পর গ্যাস বন্ধ করে মিশ্রণটি ঠাণ্ডা হতে দিতে হয়। ঠাণ্ডা হলে বোতলে ভরে সারা রাত ফ্রিজে রাখা যায়। খাওয়ার সময় এক কাপ মতো কাড়া গরম করে তার মধ্যে মধু ও গোলমরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে পান করতে হয়।

উল্লেখ্য যে, প্রতিদিন দুপুরে বা রাতে খাওয়ার আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পরে এই কাড়া খেলে হজম ভালো হয় এবং শরীর ভারী লাগে না। তাই সর্দি-কাশির পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছেও এই পানীয় বেশ জনপ্রিয়। প্রসঙ্গত, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাসের দাম্পত্যের গল্পে এই কাড়ার উল্লেখ যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়, ভালবাসার সঙ্গে সঙ্গে সংস্কৃতির আদানপ্রদানও সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলে। একদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের কাজের মাধ্যমে পরিচিতি, অন্যদিকে ঘরের কোণে আয়ুর্বেদের কাড়া, এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই প্রিয়ঙ্কা-নিক জুটির আলাদা আকর্ষণ।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Priyanka Chopra Kapil Sharma | মুম্বইয়ে ফিরেই কপিলকে ‘তৈরি থাকার’ বার্তা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া! নতুন শো-কাণ্ডে কেন সতর্ক করলেন দেশি গার্ল?

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন