প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বিশাখাপত্তনাম : একদিনের বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রথমবার মাঠে নামা, স্বাভাবিক ভাবেই প্রত্যাশার চাপ ছিল প্রবল। সেই চাপকে সঙ্গী করেই বিশাখাপত্তনমে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শ্রীলঙ্কার (Sri Lanka) বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল ভারতীয় মহিলা দল (India Women’s Team)। কিন্তু মাঠের ফলাফল বলছে অন্য কথা। বিশ্বকাপ জয়ের আত্মবিশ্বাস, নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর জেমাইমা রদ্রিগেজ়ের (Jemimah Rodrigues) অনবদ্য ব্যাটিংয়ে হাসতে হাসতেই ম্যাচ জিতে নিল হরমনপ্রীত কৌরের (Harmanpreet Kaur) নেতৃত্বাধীন ভারত। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নীল জার্সিধারীরা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে তুলতে পারে মাত্র ১২১ রান। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত ৩২ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নেয়। স্কোরবোর্ডের ব্যবধান যতটা সহজ দেখাচ্ছে, ম্যাচের গল্পও ঠিক ততটাই একপাক্ষিক।
এই ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন স্মৃতি মন্ধানা (Smriti Mandhana)। ব্যক্তিগত জীবনের ঝড় কাটিয়ে মাত্র ১৪ দিন পর মাঠে নামা ভারতীয় সহ-অধিনায়কের দিকে ক্যামেরার নজর ছিল শুরু থেকেই। অনুশীলনে তাঁকে দেখা গিয়েছিল মনোযোগী, সতীর্থদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টাও করেছেন। কিন্তু ম্যাচ শুরু হতেই বোঝা যায়, আজকের দিনে ব্যাট হাতে ছন্দ পুরোপুরি তাঁর সঙ্গ দিচ্ছে না। ফিল্ডিংয়েও কিছুটা অস্বস্তিতে দেখা যায় মন্ধানাকে। একটি ক্যাচ হাতছাড়া হয়, একবার বল হাতে লেগে বাউন্ডারিতে চলে যায়। ওপেন করতে নেমে শুরুতে বল টাইমিং করতে তিনি সমস্যায় পড়েন। বেশ কয়েকটি বল ব্যাটের কানায় লেগে যায়। চোখ বন্ধ করে মারতে যাওয়া শট অনেক সময়ই ঠিক জায়গায় পড়ছিল না। যদিও শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আটাপাট্টু (Chamari Athapaththu)-এর এক ওভারে দু’টি চার মেরে কিছুটা গতি বাড়ান স্মৃতি। শেষ পর্যন্ত ২৫ বলে ২৫ রান করে ইনোকা রণবীরা (Inoka Ranweera)-র বলে বড় শট খেলতে গিয়ে নীলাক্ষী ডি’সিলভা (Nilakshi de Silva)-এর হাতে ক্যাচ তুলে দেন মন্ধানা। তবে আউট হওয়ার আগেই তিনি একটি ঐতিহাসিক নজির গড়ে ফেলেন। মহিলাদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে ৪০০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন স্মৃতি। এই তালিকায় তাঁর উপরে শুধু নিউ জিল্যান্ডের সুজি বেটস (Suzie Bates)। উল্লেখযোগ্য ভাবে, সুজির তুলনায় কম বল খেলেই এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন ভারতীয় তারকা।
মন্ধানার পাশাপাশি ব্যর্থ হন আর এক ওপেনার শেফালি বর্মা (Shafali Verma)। মাত্র ৯ রান করেই তিনি প্যাভিলিয়নে ফেরেন। কিন্তু দুই ওপেনারের ব্যর্থতায় এক মুহূর্তের জন্যও চাপে পড়েনি ভারত। কারণ ক্রিজে তখন জেমাইমা রদ্রিগেজ়। প্রথম বল থেকেই আত্মবিশ্বাসী মেজাজে খেলতে শুরু করেন জেমাইমা। একের পর এক সিঙ্গল-ডাবল, খারাপ বল পেলেই নিখুঁত বাউন্ডারি, তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। মন্ধানা আউট হওয়ার পর দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়, আর সেই সুযোগেই রানের গতি বাড়ান তিনি। শ্রীলঙ্কার কোনও বোলারই তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারেননি।
শিশির পড়ায় ব্যাটিং আরও সহজ হয়ে যায় ভারতের জন্য। সেই সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগান জেমাইমা। ৪৪ বলে অপরাজিত ৬৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ১০টি ঝকঝকে চার। জয়সূচক রানটিও আসে তাঁর ব্যাট থেকেই। তাঁকে দারুণ ভাবে সঙ্গ দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর, যিনি ১৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। মাত্র ১৪.৪ ওভারে ম্যাচ শেষ করে দেয় ভারত। বোলিংয়ে শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কাকে চাপে রাখে ভারত। একদিনের বিশ্বকাপে নজর কাড়া ক্রান্তি গৌড় (Kranti Goud) প্রথম ধাক্কা দেন শ্রীলঙ্কা শিবিরে। অধিনায়ক চামারি আটাপাট্টুকে আউট করে ছোট ফরম্যাটে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট তুলে নেন তিনি। সেই ধাক্কা সামলাতে পারেনি শ্রীলঙ্কা।
অন্যদিকে, এই ম্যাচেই ভারতের জার্সিতে অভিষেক হয় বৈষ্ণবী শর্মার (Vaishnavi Sharma)। চলতি বছর অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে ১৭ উইকেট নেওয়া এই বাঁহাতি স্পিনার সুযোগ পেয়েই নিজের জাত চিনিয়ে দেন। উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে শ্রীলঙ্কার রানগতি আটকে রাখেন তিনি। অরুন্ধতী রেড্ডি (Arundhati Reddy), দীপ্তি শর্মা (Deepti Sharma), শ্রীচরণী (Sricharani)-দের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত ১২১ রানেই থেমে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। এই জয়ের মধ্যেও ভারতের জন্য সামান্য চিন্তার জায়গা ফিল্ডিং। ম্যাচে মোট তিনটি ক্যাচ পড়ে যায়। শ্রীচরণী একাই দু’টি সহজ ক্যাচ ফেলেন, একটি ক্যাচ ছাড়েন মন্ধানা। নইলে শ্রীলঙ্কাকে আরও কম রানে আটকে দেওয়া যেত। তবে সিরিজ়ের প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করায় আত্মবিশ্বাস যে তুঙ্গে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Jemimah Rodrigues Smriti Mandhana | বন্ধুর কান্নায় ভেঙে পড়লেন জেমিমা, স্মৃতি মন্ধানার কঠিন সময়ে বিগ ব্যাশ ছেড়ে পাশে থাকার সিদ্ধান্ত



