সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও শক্তপোক্ত পথেই এগোচ্ছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত আন্তরিক, উষ্ণ এবং ইতিবাচক কথোপকথন হয়েছে। এই বার্তা সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে দুই দেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সমীকরণ এবং চলমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর পোস্টে লেখেন, “প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক ও ফলপ্রসূ কথা হয়েছে। আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্য ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করে যাবে।” মোদীর এই বক্তব্য ঘিরে নতুন করে জোরদার হয়েছে জল্পনা, দুই দেশের সম্পর্ক কি এবার নতুন স্তরে পৌঁছাচ্ছে?
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি- বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, বাণিজ্যনীতি, প্রযুক্তি- সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে স্বার্থ একাধিক ক্ষেত্রেই মিলছে। ফলে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের এই কথোপকথন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যে আগের চেয়ে আরও আন্তরিক, তারই ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী। একাধিক সূত্র মনে করছে, ট্রাম্প-মোদী কথোপকথনে বাণিজ্য চুক্তি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, ৫জি-৬জি প্রযুক্তি সহযোগিতা, এবং ভারত-আমেরিকা স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবুও মোদীর পোস্টে “দ্বিপাক্ষিক অগ্রগতি পর্যালোচনা” কথাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক গত এক দশকে যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, মোদী-ট্রাম্প যুগে তা আরও দৃঢ় হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, যৌথ সামরিক মহড়া, গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর ক্ষেত্রে দুই দেশের সহমত আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। এ ছাড়া বিশ্ব মন্দা- পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে মোকাবিলায় ভারত–আমেরিকার সমন্বিত ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার আবহে মোদী-ট্রাম্প সরাসরি যোগাযোগ একধরনের মনস্তাত্ত্বিক স্থিতি তৈরি করে। বিশেষত পশ্চিম এশিয়া, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত, চীন-ইন্দো-প্যাসিফিক উত্তেজনার মাঝে এই দুই প্রভাবশালী দেশের সহযোগিতা শান্তি ও স্থিতিশীলতার বার্তা বহন করে। মোদীর কথায়, “বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র আগামী দিনেও একসঙ্গে কাজ করবে” এই মন্তব্যের মধ্যেই ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক দিকনির্দেশের ইঙ্গিত স্পষ্ট। এদিকে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের দ্রুত আর্থিক অগ্রগতি, ‘গ্লোবাল সাউথ’-এ ভারতের নেতৃত্ব, এবং প্রযুক্তি- ক্ষেত্রে ভারতের উত্থানকে কেন্দ্র করেই আমেরিকার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্ব বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে মোদী-ট্রাম্প কথোপকথন শুধু একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার মেরুদণ্ড।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়াতেও তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষত ভারতীয় নেটিজেনদের বড় অংশ এই কথোপকথনকে দুই দেশের সম্পর্কের আরও শক্তিশালী অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বিশ্বের দুই বৃহৎ গণতন্ত্রের সহযোগিতা কেবল রাজনৈতিক দিক থেকে নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যখন ভূরাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে, তখন ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই মোদীর এই বার্তা নতুন কূটনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করছে। আগামী দিনে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ-হোক তা প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা বা শান্তিরক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে, তা স্পষ্ট।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Salon the Bengal, art exhibition Kolkata |নিত্যনতুন রঙে শিল্পের ভুবন: স্যালন দ্য বেঙ্গল গ্রুপ –এর ৫ দিনের আর্ট এক্সিবিশন




