সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: দেশের ব্যাঙ্কগুলিতে বছরের পর বছর ধরে আটকে থাকা দাবিদারহীন আমানত (Unclaimed Assets) এবার সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে প্রকৃত মালিকের হাতে। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এই বৃহৎ উদ্যোগের সাফল্যের কথা জানিয়ে দেশবাসীকে নিজ নিজ অর্থ দাবি করার আহ্বান জানান। কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন প্রকল্প চালুর তিন মাসে ইতিমধ্যেই ফেরত গেছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা, এমন তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই।
আরও পড়ুন : Israel Death Penalty Bill | ইজরায়েলে ‘সন্ত্রাসে মৃত্যুদণ্ড’ বিল ঘিরে তীব্র বিতর্ক
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে মোদী লিখেছেন, আপনার অর্থ, আপনার অধিকার। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা দাবিদারহীন আমানত তুলে নেওয়ার এটাই সঠিক সময়।” তাঁর এই বার্তা স্পষ্ট করে দিল যে ব্যাঙ্কে বছরের পর বছর শুয়ে থাকা বিশাল অঙ্কের টাকা এখন সাধারণ মানুষের কাছে ফেরত পৌঁছে দিতে সরকার কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে এই নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ। অল্প ক’টি ধাপেই এখন গ্রাহক জানতে পারছেন তাঁর নামে কোনও দাবিদারহীন আমানত রয়েছে কি না। অনেকেই ইতিমধ্যেই নিজের হারিয়ে যাওয়া অর্থ ফিরে পেয়েছেন। সরকারের দাবি, মানুষের আর্থিক অধিকার সুরক্ষিত রাখতেই নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান, দেশের বিভিন্ন ব্যাঙ্কে ৭৮ হাজার কোটি টাকার মতো আমানত বহু বছর ধরে দাবিদারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে আলাদা আলাদা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসেব আরও বিস্ময়কর:
* বিমা কোম্পানিগুলিতে দাবিদারহীন টাকার অঙ্ক ১৪ হাজার কোটি টাকা,
* মিউচুয়াল ফান্ড সংস্থাগুলির কাছে রয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা,
* এবং শেয়ার ডিভিডেন্ড হিসেবে পড়ে রয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর কথায়, “যারা এত দিন নিজেদের অ্যাকাউন্ট বা বিনিয়োগ সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন না, বা ভুলে গিয়েছিলেন, তাঁদের জন্য এই প্রকল্প এক বড় সুযোগ। মাত্র কয়েকটি ধাপেই তাঁরা তাঁদের প্রাপ্য অর্থ এখন হাতে পাচ্ছেন।”
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-এর নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সেভিংস অ্যাকাউন্টে ১০ বছর ধরে লেনদেন না হলে অথবা কোনও ফিক্সড ডিপোজিট মেয়াদ পূর্তির পর ১০ বছরের মধ্যে দাবি করা না হলে সেই অর্থকে ‘দাবিদারহীন আমানত’ বা Unclaimed Asset হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই সমস্ত টাকাই ব্যাঙ্কের কাছে জমে থাকত। অনেক সময় গ্রাহকের মৃত্যু, ঠিকানা পরিবর্তন, তথ্যের অভাব, অথবা নথিপত্র হারিয়ে যাওয়ার কারণেও অর্থ থেকে যেত অদাবিকৃত। তবে, নতুন প্রকল্প চালুর পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। কেন্দ্র সরকারের তৈরি করা নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে নাম, মোবাইল নম্বর বা PAN নম্বর দিয়ে সহজেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে নিজের দাবিদারহীন আমানতের তথ্য। সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তারপর যাচাই করে অর্থ ফেরত দিচ্ছে প্রকৃত মালিককে।
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বহু পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অর্থের কোনও হদিস পাচ্ছিলেন না। অনেক ক্ষেত্রেই টাকার প্রকৃত মালিক সম্পর্কে ব্যাঙ্ক নিশ্চিত হতে পারছিল না। এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে সেই সমস্যার সমাধান হচ্ছে। এদিন প্রধানমন্ত্রী জানান, “আরও বহু মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসবেন। সরকার চাইছে এক টাকাও যেন অযথা ব্যাঙ্কে পড়ে না থাকে। মানুষের অধিকার মানুষের কাছেই ফিরে আসবে।”
সরকারের এই পদক্ষেপে বহু সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন। বিশেষ করে যাঁরা প্রবাসী, যাঁরা পুরনো অ্যাকাউন্ট ভুলে গিয়েছিলেন বা তথ্যের অভাবে অর্থ দাবি করতে পারছিলেন না—তাঁদের কাছে এই প্রকল্প বড় সহায়ক হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, আর্থিক সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত এবং জনগণের হারিয়ে যাওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার এই উদ্যোগ অদূর ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিকেও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই বার্তা তাই শুধু সচেতনতার নয়, এটি দেশের সমস্ত গ্রাহকের প্রতি সরকারের সরাসরি আহ্বান। তিনি স্পষ্ট বলেন, “এইটিই আপনার প্রাপ্য অর্থ ফেরত পাওয়ার সর্বোত্তম সময়।”
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi and PM Benjamin Netanyahu discuss strategic partnership | ভারত-ইসরায়েল কূটনীতিতে নতুন গতি: নরেন্দ্র মোদী–নেতানিয়াহুর আলোচনায় জোর সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা ও শান্তিপ্রক্রিয়ায় সমর্থন




