দেবব্রত সরকার, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : মন্দারমণি সমুদ্র সৈকতে (Mandarmani Sea Beach) অবৈধ রিসোর্ট নির্মাণ এবং রাজবংশী (Rajbongshi) ও কামতাপুরি (Kamtapuri) ভাষার সরকারি স্বীকৃতি, দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজ্যসভা সরগরম হয়ে উঠেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) বৃহস্পতিবার তাঁর ফেসবুক পোস্টে জানান, সংসদের চলতি অধিবেশনে তিনি এই দু’টি বিষয়ই জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। একদিকে পরিবেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রশ্ন, দুই ইস্যুই স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) অভিযোগ করেন, মন্দারমণিতে দীর্ঘদিন ধরে No Development Zone -এ অবৈধভাবে রিসোর্ট, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আজ রাজ্যসভাতে আমার প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় পরিবেশ উন্নয়ন মন্ত্রকের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি! দুই বছর আগে NGT নির্দেশ দিলেও রাজ্য কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। আইনি মারপ্যাঁচকে ব্যবহার করে অবৈধ নির্মাণগুলিকে রক্ষা করা হয়েছে।’ তিনি যে ঘটনার কথা উল্লেখ করছেন তা ২০২২ সালের ২ মে জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনালের (NGT) নির্দেশ। সেই নির্দেশ অনুযায়ী একটি জয়েন্ট কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল। কমিটিতে থাকা বাধ্যতামূলক ছিল, জাতীয় কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NCZMA)
•পশ্চিমবঙ্গ কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (WCZMA)
• জাতীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (CPCB)
• পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (WBPCB)
• পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা শাসক (District Magistrate, East Midnapore)
এনজিটির নির্দেশ ছিল, যেসব নির্মাণ নথিহীন বা বেআইনি, সেগুলি অবিলম্বে ভেঙে ফেলার পাশাপাশি উপযুক্ত জরিমানা আদায় করতে হবে। সেই অর্থ ব্যয় করে সমুদ্র সৈকতের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশ পুনরুদ্ধার করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সব দাবি, অভিযোগ ও পরিবেশের বিপদের পরেও গত দুই বছরে কোনও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হয়নি বলে দাবি শমীকবাবুর। সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য-এর কথায়, ‘আজও অবৈধ রিসোর্ট ভাঙা হয়নি। প্রশাসন নীরব। পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, আর আইনের অপব্যবহার চলছে।’ উল্লেখ্য, এই ইস্যুতে পরিবেশবিদদের একাংশও বহুদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে মন্দারমণিতে লাগাতার বেআইনি নির্মাণ উপকূলের ইকোসিস্টেমকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জোয়ার, ভাটার প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে, ভাঙন বাড়ছে, বালিয়াড়ি সংকুচিত হচ্ছে। এমনকি স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অনেক রিসোর্ট মালিক রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া পেয়ে গিয়েছেন, যার ফলেই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে দেরি হচ্ছে।
এদিকে, শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) সংসদে দ্বিতীয় যে বিষয়টি তোলেন তা উত্তরবঙ্গের ভাষাগত পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তিনি বলেন, ‘রাজবংশী ও কামতাপুরি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, এ প্রশ্ন তুলেছি আমি।’ এর উত্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য, ‘রাজবংশী ও কামতাপুরি ভাষা সহ বিভিন্ন ভাষাকে ৮ম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব সরকারের বিবেচনায় রয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পরীক্ষা করা হচ্ছে।’ শমীকবাবুর মতে, এটি উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি। তাঁর কথায়, ‘আমার উদ্দেশ্য ছিল সংসদের ভিতরে উত্তরবঙ্গের দাবি সরকারি স্বীকৃতি পাক। মানুষের সাংস্কৃতিক অধিকারের প্রশ্নে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।’
রাজনৈতিক মহল বলছে, এই দু’টি ইস্যু আগামী দিনে আরও বড় বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। কারণ একদিকে পরিবেশ লঙ্ঘন নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযোগ উঠছে, অন্যদিকে ভাষাগত স্বীকৃতি প্রশ্নে কেন্দ্রের অবস্থান রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) -এর পোস্টকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপি দাবি করছে, রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ নির্মাণ রক্ষা করছে। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের পাল্টা বক্তব্য, বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টি বাড়িয়ে দেখাচ্ছে। তবে এখনও রাজ্যের পরিবেশ দপ্তরের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সব মিলিয়ে, মন্দারমণির অবৈধ রিসোর্টের ভবিষ্যৎ কোনদিকে যায় এবং রাজবংশী-কামতাপুরি ভাষা কত দ্রুত সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Waqf Amendment Act News, Samik Bhattacharya Facebook Post | ওয়াকফ আইনে স্বচ্ছতার বার্তা: শমীক ভট্টাচার্যর তোপ তৃণমূলের বিরুদ্ধে




