সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নিউ ইয়র্ক : টেক দুনিয়ার অন্যতম বিতর্কিত এবং প্রভাবশালী উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক (Elon Musk) আবারও খবরের শিরোনামে। তবে এ বার কোনও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত বা টেসলা-স্পেসএক্স-এক্সের নয়া পরিকল্পনা নয়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনই আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি মাস্ক জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গিনী শিভন জিলিস (Shivon Zilis) ভারতীয় বংশোদ্ভূত (Indian-origin)। তথ্যটি সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কর্পোরেট মহল-সব জায়গায় শুরু হয়েছে আলোচনা।
শিভন জিলিস ২০১৭ সালে মাস্কের প্রতিষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা নিউরালিঙ্ক (Neuralink)-এ যোগ দেন। এখন তিনি শুধু ওই সংস্থার অন্যতম মুখ নয়, তিনি পরিচালন পর্ষদের (Board Member) একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, নিউরালিঙ্কের একাধিক উদ্ভাবনী গবেষণায় শিভনের রয়েছে প্রত্যক্ষ ভূমিকা। মাস্কের মতোই তিনি প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং অগ্রগামী মনোভাবাপন্ন। ইলন মাস্ক যেখানে একাধিক গ্লোবাল সংস্থার নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেখানে শিভনও আলাদা করে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন কঠোর পরিশ্রম এবং বৈপ্লবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে। আমেরিকার বিখ্যাত ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় (Yale University) থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা শিভনের রয়েছে গভীর প্রযুক্তিগত ব্যাকগ্রাউন্ড। নিউরালিঙ্কের গবেষণাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে তাঁর অবদান স্বীকৃত।
ইলন মাস্ক সম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে বলেন, “শিভনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু ব্যক্তিগত নয়, পেশাগত ক্ষেত্রেও সে একজন অসাধারণ পার্টনার। ওর মধ্যে এক অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা আছে, আর ও-ভারতীয় বংশোদ্ভূত, এটা আমার কাছে বিশেষ গর্বের।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই আলোচনার ঝড় উঠেছে বিশ্বজুড়ে। উল্লেখ্য যে, টেক দুনিয়ার অনেকেই মনে করেন, শিভনের ভারতীয় শিকড় নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিবিদদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। কারণ, বিশ্বের সর্বাধিক প্রভাবশালী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে একই লেভেলে দাঁড়িয়ে তিনি নিজস্ব দক্ষতায় সফল্য পেয়েছেন। নিউরালিঙ্ক, যার লক্ষ্য মানব মস্তিষ্ক এবং কম্পিউটারের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা, সেই সংস্থার অন্যতম কৌশলগত দায়িত্ব প্রায় একাই সামলাচ্ছেন শিভন। মাস্কও বারবার তাঁর কাজের প্রশংসা করেছেন। নিউরালিঙ্কের সম্প্রতি হওয়া পরীক্ষামূলক গবেষণাগুলিতে শিভন ছিলেন নেতৃত্বস্থানে।
শিভন জিলিসকে নিয়ে মাস্ক বলেন, ‘ও শুধু নিউরালিঙ্কের ভবিষ্যৎ গড়ছে তা-ই নয়, নিজের দক্ষতায় সারা বিশ্বের সামনে ভারতীয় প্রতিভার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।’ এই মন্তব্যও বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে, কারণ বহু বছর ধরেই আমেরিকায় প্রযুক্তি সংস্থাগুলিতে ভারতীয় পেশাজীবীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। যদিও মাস্ক ও শিভনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আগেও নানা জল্পনা ছিল, তবে প্রকাশ্যে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে মাস্ক এতখানি নির্দ্বিধায় মন্তব্য খুব কমই করেছেন। ফলে তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকেই দেখছেন তাঁদের সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে।
ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। স্পেসএক্স থেকে টেসলা, নিউরালিঙ্ক থেকে এক্স, সব ক্ষেত্রে একাধিক আলোচিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনেও একাধিকবার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে তাঁর। কিন্তু শিভন জিলিসের ভূমিকা একটু আলাদাই, কারণ তিনি মাস্কের পেশাগত সঙ্গী এবং একাধিক উদ্ভাবনের সহযাত্রী। ওয়াকিবহালমহলের মতে, শিভনের মতো উচ্চশিক্ষিত এবং প্রযুক্তিবিদ কোনও ব্যক্তিত্ব ইলন মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে এলে তা নিউরালিঙ্কের ভবিষ্যতের ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ করবে। প্রযুক্তির অগ্রগতিতে তাঁদের যুগ্ম নেতৃত্ব আরও জোরালো হবে বলে মনে করেন অনেকে। এক কথায়, ইলন মাস্কের এই নতুন মন্তব্য শুধু টেক দুনিয়ার গসিপ বাড়ায়নি, শিভন জিলিসের ভারতীয় শিকড়কে নতুন করে আলোচনার সামনে এনে দিয়েছে। টেক দুনিয়ায় ভারতীয় প্রতিভার প্রভাব যে দ্রুত বাড়ছে, তিনি তার আরেকটি উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi, Mission Sudarshan Chakra | উড়ুপিতে মোদীর কণ্ঠে ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ শত্রুর দুঃসাহস দেখালেই ভস্মীভূত করার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী




