Waqf Amendment Act News, Samik Bhattacharya Facebook Post | ওয়াকফ আইনে স্বচ্ছতার বার্তা: শমীক ভট্টাচার্যর তোপ তৃণমূলের বিরুদ্ধে

SHARE:

দেবব্রত সরকার ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : বিজেপি’র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) ওয়াকফ সম্পত্তি সংক্রান্ত ইস্যুতে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন। শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, কেন্দ্র সরকারের ‘সংশোধিত ওয়াকফ আইন’ দীর্ঘ দশক ধরে চলা দখলদারি, অস্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক তোষণের অবসান ঘটাতে সক্ষম হবে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, তৃণমূল সরকার প্রথমে এ আইনের বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা মেনে চলতে রাজি হয়েছে। শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) পোস্টে লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে যে অপশাসন, দখলদারি ও অস্বচ্ছতা দশকের পর দশক ধরে চলেছে- তার পরিসমাপ্তির পথ খুলে দিয়েছে কেন্দ্রের ‘সংশোধিত ওয়াকফ আইন’। তৃণমূল প্রথমে এই আইনের বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত মাথা নত করেছে।কারণ আইন, সত্য ও সংবিধান কোনও রাজনৈতিক দলের খেয়ালখুশির ওপর চলে না।’ তাঁর দাবি, আইন বলবৎ হওয়ায় রাজ্য সরকার এখন বাধ্য হয়েই জেলার জেলা শাসকদের (DM) কাছে কেন্দ্রের নির্দেশিকা পাঠাচ্ছে।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি লেখেন, ‘ওয়াকফ সম্পত্তি কোনও রাজনৈতিক দলের ভোট-ব্যাঙ্কের হাতিয়ার নয়, এটি সংখ্যালঘু সমাজের আস্থা, বিশ্বাস ও ধর্মীয় পরিকাঠামোর ভিত্তি। আর সেই সম্পত্তিই বছরের পর বছর তৃণমূলের দুর্নীতি, দখলদারি, জমি হাঙর ও রাজনৈতিক তোষণের শিকার হয়েছে।’ তাঁর অভিযোগ, অনেক মানুষের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, বহু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দুর্নীতির চক্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু অস্বচ্ছতা এবং নথিবদ্ধতার অভাবে সেগুলোর কোনও সঠিক হিসাব কখনো প্রকাশ পায়নি। শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) কেন্দ্রের নতুন ‘উমিদ’ পোর্টালের প্রশংসা করে লিখেছেন, ‘এই পোর্টালে জমির প্রকৃত খতিয়ান, সীমানা, মোতোয়াল্লির তথ্য, বাজারমূল্য, সব কিছু ডিজিটাল রেকর্ডে থাকবে। ফলে আর কোনও নেতা, দালাল বা দখলদার রাতারাতি ওয়াকফ সম্পত্তি গিলে খেতে পারবে না।’ ডিজিটাইজেশনের ফলে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াকফ বোর্ডের অস্বচ্ছতা এবং নথিভুক্ত না থাকা তথ্যের সমস্যা অনেকটাই দূর হবে বলে তিনি মত দেন।

তৃণমূলের অবস্থান নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সুপ্রিম কোর্ট এই আইনের উপর স্থগিতাদেশ দেয়নি। আইন যেহেতু বলবৎ হয়েছে, তাই তা মেনে চলতে সরকার দায়বদ্ধ। তৃণমূলের দ্বিচারিতা আজ প্রকাশ্যে, মুখে বিরোধিতা, অন্তরে আতঙ্ক, আর বাস্তবে কেন্দ্রের করা আইনের কাছে আত্মসমর্পণ।’ তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তৃণমূল নেতৃত্ব বুঝে গিয়েছে : এখন আর রাজনৈতিক স্বার্থে ওয়াকফ জমি ব্যবহারের সুযোগ নেই। উল্লেখ্য, সংশোধিত ওয়াকফ আইনকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে যখন তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ চলছে, ঠিক তখনই শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) জোর দিয়ে বলেন, ‘সংশোধিত ওয়াকফ আইন কোনও ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপ করে না। বরং ধর্মীয় সম্পদকে সুরক্ষা দেয়। যারা বিরোধিতা করছেন, তাঁরা ভয় পাচ্ছেন। কারণ স্বচ্ছতার আলো পড়লে বছরের পর বছর চালানো তাদের লুকোনো রাজনীতি ও কায়েমী স্বার্থ উন্মোচিত হয়ে যাবে।” তিনি আরও দাবি করেন, সংখ্যালঘুদের প্রকৃত স্বার্থরক্ষা মানে তাদের সম্পত্তিকে দুর্নীতি এবং দখলদারির হাত থেকে মুক্ত করা। তার জন্য স্বচ্ছ আইন, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল নথিবদ্ধতা অপরিহার্য। তাঁর কথায়, ‘সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি রক্ষাই সত্যিকার অর্থে সংখ্যালঘু স্বার্থ রক্ষা। কেন্দ্র সেই সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়াকফ আইনের সংশোধন শুধু আইনি প্রয়োজন নয়, এটি ন্যায়, স্বচ্ছতা ও সমাজের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম।’

রাজনৈতিক মহলে শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) এই মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিজেপি মনে করছে, এই আইন ওয়াকফ সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। অপরদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকা এবং ‘উমিদ’ পোর্টালের স্বচ্ছতা ভবিষ্যতে রাজ্যের জমি-ব্যবস্থা এবং ওয়াকফ প্রশাসনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রাজ্য রাজনীতিতে ওয়াকফ ইস্যু বরাবরই গুরুতর গুরুত্ব বহন করে এসেছে। শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উত্তপ্ত করল বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষকদের একাংশ। আসন্ন ভোটকে কেন্দ্র করে এই ইস্যু রাজনৈতিক আলোচনায় আরও জায়গা করে নেবে, এমনটাই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Samik Bhattacharya Facebook Post, Bengal Health System Crisis | স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পতনই কি এগিয়ে বাংলার পরিচয়? শমীক ভট্টাচার্য-এর তীব্র কটাক্ষ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন