সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পাটনা : বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫ শেষ হলেও রেশ কাটছে না। কারণ এবারের ভোটে দেখা গেল অদ্ভুত এক প্রবণতা, বেশ কিছু কেন্দ্রে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে অতি সামান্য ব্যবধানে। কোথাও ২৭ ভোট, কোথাও ৩০, আবার কোথাও ৯৫ ভোটেই বদলে গিয়েছে ফলাফল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটের ছবি প্রমাণ করে যে বিহারের ভোটাররা এবার আরও বিচক্ষণ, এবং স্থানীয় ইস্যুগুলিই এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে।
সবচেয়ে কম ব্যবধানের জয় এসেছে ভোজপুর জেলার সন্দেশ কেন্দ্র থেকে। জনতা দল ইউনাইটেডের (JDU)) প্রার্থী রাধাচরণ শাহ (Radhacharan Shah) তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরজেডি-এর (RJD) দীপু সিংকে (Deepu Singh) হারিয়েছেন মাত্র ২৭ ভোটে। স্থানীয় মানুষদের বক্তব্য, এই কেন্দ্রে গ্রামবাংলার সমস্যা, রাস্তাঘাট ও কৃষিজীবীদের দাবি দাওয়াই ছিল মূল ভোট ইস্যু। ফল ঘোষণার পর রাধাচরণ শাহ বলেন, “এই জয়ের কৃতিত্ব আমার এলাকার মানুষদের। এত কম ব্যবধান আমাদের আরও দায়িত্বশীল করে তুলল।”
অনুরূপ ছবি দেখা গেছে রামগড় কেন্দ্রেও। এখানে বাসপা (BSP) -এর প্রার্থী মাত্র ৩০ ভোটে পরাস্ত করেন বিজেপি প্রার্থী অশোককুমার সিংহকে (Ashok Kumar Singh)। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই কেন্দ্রে ভোট কাটাকাটির ফলে শেষ মুহূর্তে পাল্টে যায় ফলাফল। বহু ভোটার জানান, উন্নয়ন বনাম বিরোধিতার মধ্যে বিভক্ত ছিল জনমত। অন্যদিকে অগিআঁও বিধানসভা কেন্দ্রেও ঘটে গেছে টানটান লড়াই। বিজেপি প্রার্থী মহেশ পাসওয়ান (Mahesh Paswan) মাত্র ৯৫ ভোটে হারিয়েছেন সিপিআইএমএল -এর (CPI-ML) প্রার্থী প্রকাশ রঞ্জনকে (Prakash Ranjan)। মহেশ পাসওয়ান প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “মানুষ যে আমাদের কাছে উন্নয়ন চায়, এই ফল তারই স্বীকৃতি।” সিপিআইএমএল অবশ্য অভিযোগ তোলে যে বেশ কয়েকটি বুথে পুনর্গণনার দাবি নাকচ হওয়ায় সঠিক ফল প্রকাশ পায়নি।
ঢাকা কেন্দ্রেও জমে ওঠে ভোটযুদ্ধ। এখানে আরজেডি প্রার্থী ফয়জল রহমান (Fayzal Rahman) ১৭৮ ভোটে পরাস্ত করেন বিজেপির পবন কুমার জয়সওয়াল (Pawan Kumar Jaiswal)। এলাকায় সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণ ও স্থানীয় ইস্যুর প্রতি আরজেডির ক্যাম্পেনকেই এই জয়ের কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ফারবিসগঞ্জে কংগ্রেস প্রার্থী মনোজ বিশ্বাস (Manoj Biswas) ২২১ ভোটে হারিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী বিদ্যাসাগর কেশরীকে (Vidyasagar Keshri)। একই ব্যবধানে জয় এসেছে চনপটিয়া কেন্দ্রেও, যেখানে কংগ্রেস প্রার্থী ২২১ ভোটে এগিয়ে গিয়েছেন তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চন্দেশ্বর প্রসাদ (Chandeshwar Prasad)
এর থেকে। কংগ্রেস শিবিরের দাবি, মানুষ এবার বিকল্প খুঁজেছে, আর সেটাই প্রতিফলিত হয়েছে ফলাফলে।
অন্যদিকে, রাজ্যের সামগ্রিক ছবিতে এনডিএ জোটের বিপুল সাফল্য। ২৪৩টি আসনের মধ্যে ২০২টি আসন জয় করে আবারও ক্ষমতায় ফিরেছেন নীতীশ কুমার (Nitish Kumar)। এনডিএ -এর নেতা ও জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমার বলেন, “বিহার উন্নয়নের পথে এগোবে-মানুষ আমাদের প্রতি যে আস্থা রেখেছে, আমরা তার মর্যাদা দেব।” বিরোধী মহাগঠবন্ধনের ঝুলিতে এসেছে মাত্র ৩৫টি আসন। এর মধ্যে আরজেডি পেয়েছে ২৫টি, আর কংগ্রেস মাত্র ৬টি আসন। বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধীদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং স্থানীয় নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে এই ফল হয়েছে।
বিহারের এই নির্বাচনে ক্ষুদ্র ব্যবধানের জয়-পরাজয় ভবিষ্যতের নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে, প্রতিটি ভোট মূল্যবান, এবং ছোট ছোট সামাজিক, অর্থনৈতিক ও স্থানীয় সমস্যাই এখন রাজনীতির কেন্দ্রে জায়গা করে নিচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলিও বুঝতে পারছে যে ভোটারদের মন জয় করতে হলে জমি পর্যায়ের কাজই একমাত্র পথ।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী



