Delhi explosion, Amit Shah statement | দিল্লি বিস্ফোরণ ঘটনায় তৎপরতা বাড়াল কেন্দ্র! অমিত শাহের কড়া নির্দেশ, ‘যে-ই দোষী হোক, খুঁজে বের করুন’

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দিল্লির বুকে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। গত সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লা -এর সামনে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে, তার ধাক্কা শুধু রাজধানী নয়, কাঁপিয়ে দিয়েছে গোটা প্রশাসনিক কাঠামোকে। বিস্ফোরণের কারণ ও পেছনের ষড়যন্ত্রের জাল নিয়ে এখন জোর তদন্ত চালাচ্ছে একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থা। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) দফায় দফায় বৈঠক করে নির্দেশ দিয়েছেন, “দিল্লি বিস্ফোরণের সঙ্গে যাঁরা যেভাবে যুক্ত, তাঁদের খুঁজে বের করতেই হবে। কেউই রেহাই পাবে না।”

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ বাইশ-তম কিস্তি)

বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শাহ নিজে ছুটে গিয়েছিলেন হাসপাতালে এবং পরে ঘটনাস্থলে। আহতদের অবস্থা জানতে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে দিল্লি পুলিশের কমিশনার সতীশ গোলচা (Satish Golcha), এনআইএ (NIA) -এর ডিজি সদানন্দ বসন্ত (Sadanand Basant), এবং ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (IB) অধিকর্তা তপন ডেকা (Tapan Deka)-র সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে বসেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন (Govind Mohan)। ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেন জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিদর্শক নলিন প্রভাত (Nalin Prabhat)। বৈঠকের পর শাহ তাঁর এক্স (X) পোস্টে লেখেন, “দিল্লির গাড়ি বিস্ফোরণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠক করেছি। এই ঘটনার নেপথ্যে যারা রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এবার তারা দেখবে আমাদের তদন্ত সংস্থাগুলির ক্রোধের প্রকাশ।”

অমিত শাহের এই বক্তব্যের পরেই গোটা প্রশাসনিক মহলে নেমেছে তৎপরতা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন প্রতিটি তদন্তকারী সংস্থা তাদের নিজস্ব তথ্য একত্রিত করে একটি সমন্বিত রিপোর্ট প্রস্তুত করছে। শাহের নির্দেশে এনআইএ, আইবি এবং দিল্লি পুলিশ যৌথভাবে তদন্তের কাজ চালাচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ (Rajnath Singh) মঙ্গলবার সকালে আলাদা বৈঠকে শাহের সঙ্গে কথা বলেন। মোদী জানান, “এই ঘটনার সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাদের শাস্তি হবেই। কোনও ষড়যন্ত্রকারীকে রেহাই দেওয়া হবে না।” রাজনাথ সিংহের কথায়, “এটি কেবল একটি বিস্ফোরণ নয়, এটি ভারতের নিরাপত্তার প্রতি চ্যালেঞ্জ। আমরা এর শিকড় পর্যন্ত যাব।”

অন্যদিকে, বিস্ফোরণের তদন্তে উঠে আসছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। প্রাথমিক অনুমান, গত সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লার কাছে পার্ক করা একটি হুন্ডাই আই২০ (Hyundai i20) গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, বিকেল তিনটে থেকে সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত ওই গাড়িটি একই জায়গায় পার্ক করে রাখা ছিল। ফুটেজে এক নীল-কালো টি-শার্ট পরা ব্যক্তিকে দেখা গিয়েছে, যিনি গাড়িটির আশপাশে ঘোরাফেরা করছিলেন।
তদন্তকারীরা এখন সেই ব্যক্তির পরিচয় অনুসন্ধান করছেন। সংবাদমাধ্যমের একাংশ দাবি করছে, ওই ফুটেজে দেখা গিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা (Pulwama)-এর এক চিকিৎসক উমর মহম্মদকে (Umar Mohammad)। যদিও এই তথ্য এখনও সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কোনও নাম বা পরিচয় প্রকাশ করার আগে তাঁরা প্রমাণ হাতে পেতে চান।

লালকেল্লার আশপাশের এলাকাগুলি এখন নিরাপত্তার ঘেরাটোপে। দিল্লি পুলিশ, এনএসজি (NSG), এবং বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড (Bomb Disposal Squad) মিলে ঘটনাস্থল ও সংলগ্ন জায়গা খতিয়ে দেখছে। গাড়ির ধ্বংসাবশেষ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য। প্রাথমিক রিপোর্টে ইঙ্গিত মিলেছে, বিস্ফোরকটি আইইডি (IED) টাইপের হতে পারে। এই ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলিতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। ইন্ডিয়া গেট (India Gate), সংসদ ভবন, রাষ্ট্রপতি ভবন এবং মেট্রো স্টেশনগুলিতে চলছে কড়া তল্লাশি। শাহের নির্দেশে রাজধানীর সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী। তদন্ত সংস্থা সূত্রে খবর, সোমবার রাতেই একাধিক সন্দেহভাজনের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এ পর্যন্ত চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। একাধিক মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করেছে এনআইএ। সূত্রের দাবি, উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল প্রমাণগুলি থেকে বিস্ফোরণের নেপথ্যে থাকা নেটওয়ার্কের খোঁজ মিলতে পারে। দিল্লি পুলিশ কমিশনার সতীশ গোলচা সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি। কোনও সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছি না। সিসি ক্যামেরা, কল রেকর্ড এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেস বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।”

অন্যদিকে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। লালকেল্লা এলাকায় ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের ভিড় এখন অনেকটাই কমে গিয়েছে। এক দোকানদার বলেন, “আমরা ভয় পাচ্ছি। হঠাৎ এমন বিস্ফোরণ হলে মানুষ কীভাবে নিশ্চিন্তে ব্যবসা করবে?” স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে কড়া পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন।

রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ (Jairam Ramesh) বলেন, “দেশের রাজধানীতে এমন ঘটনা দুঃখজনক। আশা করি সরকার শুধু দোষী ধরায় নয়, গোয়েন্দা ব্যবস্থার দুর্বলতাও খতিয়ে দেখবে।” অন্যদিকে বিজেপি (BJP) নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ (Ravi Shankar Prasad) বলেন, “অমিত শাহের নেতৃত্বে যে তদন্ত চলছে, তাতে খুব দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে পাওয়া যাবে। এই সরকার সন্ত্রাসের কাছে মাথা নোয়াবে না।” উল্লেখ্য যে, এই মুহূর্তে দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি এনআইএ এবং আইবি-র বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে নিয়মিত যাচ্ছেন। সূত্রের খবর, শাহ ব্যক্তিগতভাবে প্রতিদিন দুইবার করে রিপোর্ট নিচ্ছেন। বুধবার সকালেই আরও একটি পর্যালোচনা বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির পাশাপাশি প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট, ভারতের মাটিতে সন্ত্রাসের কোনও জায়গা নেই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায়, “এটা শুধু আইন-শৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটা দেশের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্ন। এই ঘটনার দায় কারও ঘাড়ে থাকলে, সে যত বড়ই হোক, তাকে ছাড়া হবে না।” তবে, দেশবাসীর এখন চোখ তদন্তের ফলাফলের দিকে। গাড়ি বিস্ফোরণের রহস্য উন্মোচন হলে তবেই মিলবে এই ভয়াবহ ঘটনার পেছনের আসল চিত্র।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Speech, Delhi Blast 2025 | ‘ষড়যন্ত্রকারীদের কাউকে রেয়াত নয়!’ দিল্লিকাণ্ডে নাশকতার ইঙ্গিত স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কাঁপছে প্রশাসনিক মহল

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন