সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ফরিদাবাদ : হরিয়ানার ফরিদাবাদে (Faridabad) প্রকাশ্যে এক ১৭ বছরের কিশোরীকে গুলি করার ঘটনায় অবশেষে ধরা পড়ল অভিযুক্ত যতীন মাংগলা (Jatin Mangla)। বুধবার তিনি পুলিশের গুলিতে পায়ে আহত হন, তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে সে অনুসরণ করছিল বলে অভিযোগ। সোমবার দুপুরে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি চালনার ঘটনা ঘটান ধৃত বলে উল্লেখ। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের বয়স ৩০ বছর। তার বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে, যার মধ্যে খুনের চেষ্টা (Attempt to Murder), অবৈধ অস্ত্র রাখা, এবং নারী নির্যাতনের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত। ঘটনাটির তদন্তে নামার পর থেকেই পুলিশ তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল। অবশেষে বুধবার সকালে এনকাউন্টার (Encounter) -এর সময় পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার পর ধরা পড়ে যতীন।ফরিদাবাদ পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (Deputy Commissioner of Police) নিতীশ আগরওয়াল (Nitish Agarwal) জানিয়েছেন, “অভিযুক্ত পালিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশ তাকে থামানোর চেষ্টা করলে সে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালাতে হয়। এতে তার পায়ে গুলি লাগে, এবং আমরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করি।” উল্লেখ্য, তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যতীন মাংগলা (Jatin Mangla) দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে ফলো করছিল এবং বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিল। মেয়েটি ফরিদাবাদেরই একটি স্কুলের ছাত্রী এবং ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা পরীক্ষা জেইই (JEE) -এর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পুলিশ জানায়, মেয়েটি বারবার অভিযুক্তের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার দুপুরে সে হঠাৎ গুলি চালায়। সোমবারের ঘটনার পরই আহত অবস্থায় ওই কিশোরীকে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, “গুলিটি মেয়েটির কাঁধে লেগেছিল, দ্রুত অস্ত্রোপচার করার ফলে বিপদ কেটেছে।”
অন্যদিকে, ধৃত যতীন মাংগলা পুলিশের জেরায় জানিয়েছে যে, সে “মেয়েটিকে ভালবাসত” এবং সে অন্য কারও সঙ্গে কথা বললেই রেগে যেত। তদন্তকারী আধিকারিকের ভাষায়, “এই ধরণের ‘অবসেসিভ বিহেভিয়ার’ই শেষ পর্যন্ত সহিংসতায় পরিণত হয়েছে।” ফরিদাবাদের পুলিশ কমিশনার (Police Commissioner) বিকাশ অরোরা (Vikas Arora) বলেন, “আমরা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। ফরিদাবাদ পুলিশ নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে একটিও আপস করবে না।”
এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, শহরে নারীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবার প্রশ্নের মুখে পড়ল। স্থানীয় মহিলা সংগঠন ‘নারী শক্তি অভিযান’ -এর (Nari Shakti Abhiyan) কর্মী অনিতা বর্মা (Anita Verma) বলেন, “প্রতিনিয়ত এই ধরনের স্টকিং, হুমকি বা হামলার ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।” পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ধৃত যতীনের বিরুদ্ধে অতীতে আরও দু’টি হেনস্তার অভিযোগ রয়েছে। তবে সে কখনও গ্রেফতার হয়নি। এবার আদালতের নির্দেশে তাকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ এখন তার ফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখছে, আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা জানার জন্য।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হরিয়ানায় নারী ও কিশোরীদের প্রতি অপরাধের ঘটনা বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজকর্মীরা। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বাস্তব জীবনে স্টকিং, ব্ল্যাকমেইল ও হুমকির ঘটনাগুলি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফরিদাবাদের কলেজ অধ্যাপক ড. রাজীব সিং (Dr. Rajeev Singh) মন্তব্য করেন, “এমন ঘটনার জন্য সামাজিক সচেতনতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা জরুরি। শুধুমাত্র পুলিশি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, সমাজকেও পরিবর্তন আনতে হবে।”
এখন পুরো শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েটির পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে এবং তার সাক্ষ্য নিরাপদে নেওয়া হবে। এই ঘটনার পর হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টর (Manohar Lal Khattar) প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোরতম সাজা নিশ্চিত করতে। উল্লেখ্য, ঘটনাটি ফের একবার মনে করিয়ে দিল, নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে সমাজকে আরও সচেতন ও সংবেদনশীল হতে হবে। ফরিদাবাদের রাস্তায় কিশোরীকে গুলি করা কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি এক ভয়ঙ্কর সামাজিক বার্তা, যেখানে “না” বলাটা এখনও নিরাপদ নয়।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : MPATGM India | দেশীয় প্রযুক্তিতে বড় সাফল্য! এমপিএটিজিএম পরীক্ষায় সবুজ সংকেত, আগামী বছরই সেনার হাতে ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র




