সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একদিনের সিরিজ় হারলেও এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে (T20 series) মুখে হাসি ফিরল ভারতের। চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল ৪৮ রানে হারিয়ে দিল অস্ট্রেলিয়াকে (Australia)। এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ভারত এখন ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল। সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচটি হবে শনিবার ব্রিসবেনে (Brisbane)।
তবে এই জয়ের পরও ভারতের চিন্তা রয়ে গেল ব্যাটিং নিয়ে। বিশ্বকাপ (T20 World Cup) এখন আর খুব দূরে নয়, কিন্তু এখনও পর্যন্ত ব্যাটিং অর্ডারে স্পষ্টতা দেখা যাচ্ছে না। গোল্ড কোস্টে ভারতীয় দল কোনও পরিবর্তন আনেনি, কিন্তু ব্যাটিং অর্ডারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করল গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) ও তাঁর কোচিং স্টাফ। উপরের দিকে শিবম দুবে (Shivam Dube) এবং মাঝে তিলক বর্মাকে (Tilak Varma) পাঠিয়ে অক্ষর পটেলকে (Axar Patel) নামানো হল আটে। ফলত, ব্যাটারদের ব্যর্থতা ঢেকে দিতে হল বোলারদের। অক্ষর পটেল ছিলেন এ দিনের নায়ক। প্রথমে ব্যাট হাতে মাত্র ১১ বলে ২১ রান করে ইনিংসকে সামলে তোলেন, পরে বল হাতে তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। ওয়াশিংটন সুন্দর (Washington Sundar) ও বরুণ চক্রবর্তীও (Varun Chakravarthy) সমানভাবে কার্যকর ছিলেন। ব্যাটে ভারত তুলেছিল ১৬৭/৮, কিন্তু বল হাতে ভারতের পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে কাজ করায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ১১৯ রানে।
গোল্ড কোস্টের মাটিতে এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নামল ভারত। ফলে পিচ নিয়ে ধারণা ছিল সীমিত। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ (Mitchell Marsh) নিজেও টসের পর স্বীকার করেন, “এই মাঠে আমরা খুব একটা খেলিনি। পিচ কেমন আচরণ করবে, তা বোঝা কঠিন।” কিন্তু দিনের শেষে দেখা গেল ভারতই পিচের চরিত্র ভাল বুঝে নিয়েছিল। পিচ ছিল মন্থর, বল সহজে ব্যাটে আসছিল না। শুভমন গিল (Shubman Gill) ও অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma) শুরু থেকেই টাইমিংয়ের সমস্যায় পড়েন। এলোমেলো বাউন্সের কারণে কোনো বল নিচু হয়ে আসছিল, কোনো বল আচমকাই উঠে যাচ্ছিল। ষষ্ঠ ওভারে মার্কাস স্টোইনিসের (Marcus Stoinis) একটি বাউন্সারে অভিষেকের হেলমেটে আঘাত লাগে। কনকাশন পরীক্ষা করানো হয় তাঁকে, তবু পাওয়ার প্লেতে প্রায় ৫০ রান তুলে দেন ভারতীয় ওপেনাররা। কিন্তু সেট হয়ে গিয়েও আউট হয়ে যান অভিষেক। গিল করেন ৪৬, যা এই সিরিজে তাঁর সর্বোচ্চ রান, তবে ৪০টির বেশি বল খেলেছেন, স্ট্রাইক রেট যা প্রত্যাশিত নয়। তিন নম্বরে সুযোগ পাওয়া শিবম দুবে ২২ বলে ১৮ রান করেন, যা মধ্য-অর্ডারে ভারতের গতি থামিয়ে দেয়। সূর্যকুমার যাদব (২০) ও তিলক বর্মাও (৫) ব্যর্থ। শেষ দিকে জিতেশ শর্মা (Jitesh Sharma) ও ওয়াশিংটন সুন্দরও বড় রান করতে পারেননি। অক্ষর পটেলকে আটে নামানো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গম্ভীরের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হলেও অক্ষর তাঁর সীমিত সুযোগে নিজের কাজটা করে দিয়েছেন। তাঁর ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংসই ভারতের ইনিংসকে ১৬০ পেরিয়ে নিয়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট প্রমাণিত হয়।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শুরুটা ছিল বিস্ফোরক। প্রথম তিন ওভারেই তারা বোঝাতে চেয়েছিল সহজে হার মানবে না। কিন্তু পঞ্চম ওভারেই অক্ষরের ঘূর্ণিতে শুরু হয় ধস। তিনি ফেরান ম্যাথু শর্টকে (Matthew Short)। রিভিউ নিয়ে সাফল্য পান সূর্যকুমাররা। এরপর বরুণ চক্রবর্তীর বলে মার্শের ক্যাচ পড়ে। পরপর ওভারে ইংলিস (Josh Inglis) ও মার্শ ফিরতেই ম্যাচের রঙ বদলে যায়। শিবম দুবের বলে টিম ডেভিড (Tim David) আউট হওয়ার পর অজিদের সব আশা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (Glenn Maxwell) -এর উপর ছিল। কিন্তু বরুণ তাঁকেও থামিয়ে দেন মাত্র ২ রানে। এরপর ওয়াশিংটন সুন্দর এলেন যেন শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে, ১৭তম ওভারে পরপর দুটি উইকেট তুলে নেন স্টোইনিস ও বার্টলেটকে (Xavier Bartlett)। এরপর বুমরাহর (Jasprit Bumrah) নিখুঁত ইয়র্কারে ডোয়ারশুইস (Ben Dwarshuis) ফিরতেই ভারতের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। ম্যাচের পর সূর্যকুমার বলেন, “পিচটা কঠিন ছিল, কিন্তু আমাদের বোলাররা অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছে। অক্ষর, বরুণ, সুন্দর, সবাই পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করেছে।” অক্ষর নিজেও বলেন, “আমরা জানতাম রান কম, কিন্তু উইকেটে লড়াইয়ের সুযোগ ছিল। আমি শুধু জায়গা অনুযায়ী বল ফেলতে চেয়েছি।”
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ বলেন, “ভারত আমাদের চেয়ে পিচের অবস্থা ভাল বুঝে ফেলেছিল। ব্যাটিংয়ে কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” উল্লেখ্য, সিরিজের শেষ ম্যাচে এখন ভারত যদি জয় পায়, তাহলে বিদেশে আরেকটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করবে। গম্ভীর ও সূর্যকুমারদের এই নতুন যুগের টি-টোয়েন্টি দল বিশ্বকাপের আগেই নিজেদের আত্মবিশ্বাস আরও শক্ত করতে চাইছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Harmanpreet Kaur pay cut | হরমনপ্রীতের আত্মত্যাগে মুগ্ধ ক্রিকেট বিশ্ব, দীপ্তিকে ছাড়ল ইউপি, কারা থাকলেন কোন দলে WPL নিলামের আগে?




