Typhoon Kalmaegi, Philippines storm 2025, Vietnam evacuation | টাইফুন কালমায়েগির তাণ্ডবে ফিলিপিন্সে নিহত ১৪২, ভিয়েতনামে সতর্কতা জারি : ২০২৫ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়

SHARE:

টাইফুন কালমাইয়েগি। ফিলিপাইন।

সাশ্রয় নিউজ ★ ম্যানিলা: প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় কালমায়েগি (Typhoon Kalmaegi) তাণ্ডব চালাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। ফিলিপিন্সের (Philippines) মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৪২ জন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১২৭ জন। ঘূর্ণিঝড়ের ধ্বংসযজ্ঞে ঘরবাড়ি ভেসে গেছে, সেতু ভেঙে পড়েছে, লক্ষাধিক মানুষ গৃহহীন। এখন সেই ঝড় ক্রমশ এগিয়ে চলেছে ভিয়েতনামের (Vietnam) উপকূলের দিকে, যেখানে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।

দুর্যোগ বিষয়ক আন্তর্জাতিক ডাটাবেস ইএম-ড্যাট (EM-DAT) জানিয়েছে, টাইফুন কালমায়েগি ২০২৫ সালের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়গুলির মধ্যে অন্যতম। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই ঝড়টি এ বছর বিশ্বজুড়ে সংঘটিত সবচেয়ে মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফিলিপিন্সের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর (National Disaster Risk Reduction and Management Council) জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রীয় বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার, যা পুরো দ্বীপজুড়ে ধ্বংসস্তূপের চিহ্ন রেখে গিয়েছে। ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফের্ডিনান্ড মার্কোস জুনিয়র (Ferdinand Marcos Jr.) বলেছেন, “দেশ এখন এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি। আমরা যা দেখছি, তা কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, এটি মানবিক সংকট।” তিনি আরও জানান, উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা একযোগে কাজ করছে।

আরও পড়ুন : 8th Pay Commission 2026 | অষ্টম বেতন কমিশনে মোদী মন্ত্রিসভার অনুমোদন: ২০২৬ থেকে কার্যকর নতুন বেতন কাঠামো, উপকৃত হবেন লক্ষ লক্ষ কর্মী ও পেনশনভোগী

জাতীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সরকারিভাবে ১১৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সেবু (Cebu) প্রাদেশিক প্রশাসন আরও ২৮ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে, যা এখনো কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪২। এখনও অন্তত ৫ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায়। ঘূর্ণিঝড়ের পর দেখা দিয়েছে তীব্র বন্যা। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ, পানীয় জলের সংকট, ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ম্যানিলা টাইমস (Manila Times) জানিয়েছে, কিছু এলাকায় ৩-৪ মিটার উচ্চতার ঢেউয়ে গোটা গ্রাম ডুবে গেছে। অনেক জায়গায় উদ্ধারকর্মীরা নৌকায় করে মানুষ সরিয়ে নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ একুশ-তম কিস্তি)

ফিলিপিন্সের আবহাওয়া দপ্তর (PAGASA) জানিয়েছে, কালমায়েগি এখনও সক্রিয় অবস্থায় আছে এবং এর প্রভাব আগামী কয়েকদিন ধরে চলবে। সংস্থার মুখপাত্র আনা মেরি রামিরেজ (Ana Marie Ramirez) বলেন, “এটি কেবল একটি ঝড় নয়, এটি একটি দুর্যোগের চেন তৈরি করেছে। ভূমিধস, বন্যা, ঘরবাড়ি ধ্বংস, যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।”এদিকে, ঝড়ের পরবর্তী গন্তব্য ভিয়েতনাম। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া ব্যুরো জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এটি মধ্য ভিয়েতনামের উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে, যেখানে আট মিটার (২৬ ফুট) পর্যন্ত উঁচু ঢেউ এবং প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভিয়েতনাম সরকার ইতিমধ্যে উপকূলীয় প্রদেশগুলো: কুয়াং ন্যাই (Quang Ngai), দানাং (Da Nang)থুয়া থিয়েন হুয়ে (Thua Thien Hue)  থেকে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিন (Pham Minh Chinh) জানিয়েছেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য এখন মানুষের জীবন বাঁচানো। সম্পদের ক্ষতি পূরণ করা যাবে, কিন্তু একটি প্রাণের বিকল্প নেই।”

আবহাওয়াবিদদের মতে, টাইফুন কালমায়েগির শক্তি ও গতি তুলনাহীন। এটি ২০২২ সালের টাইফুন রাই (Typhoon Rai)-এর পর সবচেয়ে ভয়াবহ ঝড়। ইতিমধ্যেই সমুদ্র উত্তাল, জাহাজ চলাচল বন্ধ, মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক দপ্তর (UNOCHA) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্ধার সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ইউনিসেফ (UNICEF) এবং রেড ক্রস (Red Cross) ইতিমধ্যে জরুরি সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা করেছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র পাঠানো শুরু হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায়।

ফিলিপিন্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ লেইতে (Leyte) এবং সামার (Samar) সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, “অনেক গ্রাম সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। উদ্ধারকারীরা কাদা ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এখনও দেহ খুঁজে বের করছেন।” উল্লেখ্য, প্রবল বর্ষণ ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে বহু রাস্তা অচল হয়ে পড়েছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বেশ কয়েকটি জেলা। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, আগামী সপ্তাহে দ্বিতীয় দফা ভূমিধস হতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

বিশ্বের জলবায়ুবিদরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়ের এই অস্বাভাবিক তীব্রতা জলবায়ু পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সমুদ্রের উষ্ণতা ঘূর্ণিঝড়কে আরও ভয়ানক করে তুলছে। ভবিষ্যতে এমন আরও ঝড় দেখা যেতে পারে।” তবে এই মুহূর্তে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের চোখ কালমায়েগির গতিপথে। ফিলিপিন্স বিধ্বস্ত, ভিয়েতনাম প্রস্তুত,  প্রার্থনা একটাই, যেন আর প্রাণহানি না ঘটে।

ছবি : সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : Gaza ceasefire warning, Donald Trump Hamas warning | ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি: ‘শুধরে না গেলে হামাসকে সমূলে নির্মূল করা হবে’ শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত!

Sasraya News
Author: Sasraya News