Mamata Banerjee new book on Prime Ministers | প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন বই আনছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

SHARE:

২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসন ভেঙে মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর থেকে রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে ২০১৪ সাল থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা তিনবার ক্ষমতায় এসেছেন নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। মমতা সরাসরি না হলেও তাঁর সঙ্গে পরোক্ষ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথাও আসতে পারে বইটিতে।

শুভ্রাংশু রায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : কলকাতার আন্তর্জাতিক বইমেলায় আগামী বছর প্রকাশিত হতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নতুন বই। বৃহস্পতিবার ধর্মতলার মেয়ো রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজেই তিনি সেই ঘোষণা করেছেন। এ বইয়ের বিশেষত্ব হল, ভারতের বিভিন্ন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতার নানা অজানা কাহিনি স্থান পাবে এর পাতায়। রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে নিজের ছাপ রেখেছেন মমতা, আর সেই অভিজ্ঞতার ফসল হিসেবেই নতুন লেখনী প্রকাশ্যে আসবে।

ছাত্র-যুবকদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, “আমি সাত বার এমপি হয়েছি। আমি দু’বার রেল মিনিস্টার হয়েছি, কোল মাইন মিনিস্টারও ছিলাম। আমি ইউথ ফোর্স মিনিস্টার হয়েছি, উইমেন-চাইল্ড মিনিস্টার হয়েছি। ন্যাশনাল উইমেন কমিশন আমার সময় তৈরি হয়েছিল। স্পোর্টস আকাডেমি আমার সময় তৈরি হয়েছিল। তাই আজ ছেলেমেয়েরা এত ভাল ফল করছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাকে শেখানোর দরকার নেই। আমি অনেক প্রধানমন্ত্রী দেখেছি। আমি একটা বইও লিখব, কে কেমন ছিলেন। পরের বইমেলাতেই বেরোবে।’

২০২৬ সালের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি থেকে, চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতি বছরই মুখ্যমন্ত্রী উদ্বোধন করেন এই মহা-আয়োজনের। সেখানেই তিনি নতুন বই প্রকাশ করবেন। এ বছর জানুয়ারিতেই তাঁর লেখা তিনটি বই বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত মমতার লেখা বইয়ের সংখ্যা ১৫৩-তে পৌঁছেছে। নতুন বইটি প্রকাশ পেলে সেটিই হবে তাঁর ১৫৪তম রচনা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর রাজনৈতিক জীবনের শুরুটা হয়েছিল ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে। ১৯৮৪ সালে যুব কংগ্রেস নেত্রী হিসেবে যাদবপুর লোকসভা থেকে প্রথম বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বামফ্রন্ট প্রার্থী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে (Somnath Chatterjee) হারিয়ে সংসদে প্রবেশ করেন মমতা। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন রাজীব গান্ধী (Rajiv Gandhi)। সেই প্রথম থেকেই জাতীয় রাজনীতির মূল স্রোতে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। এরপর ১৯৮৯ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের কারণে বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংহ (V.P. Singh) বা চন্দ্রশেখর (Chandra Shekhar)-এর নেতৃত্বাধীন সরকারে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ পাননি। কিন্তু ১৯৯১ সালে পিভি নরসিংহ রাও (P.V. Narasimha Rao) প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হন। যদিও বছরখানেকের মধ্যেই তিনি সেই দায়িত্ব ছেড়ে দেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর এইচ.ডি. দেবগৌড়া (H.D. Deve Gowda) ও ইন্দ্রকুমার গুজরাল (I.K. Gujral)-এর সময় সংসদে দক্ষিণ কলকাতার কংগ্রেস সাংসদ হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা নেন মমতা। কিন্তু ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন। এরপর অটলবিহারী বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee)-র প্রধানমন্ত্রীত্বকালে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। বিজেপির সঙ্গে জোটে সরকারে যোগ দিয়ে প্রথমে রেলমন্ত্রী হন, পরে কয়লা মন্ত্রকের দায়িত্বও সামলান। যদিও ২০০১ সালে ‘তেহলকা’ কেলেঙ্কারির পর তিনি মন্ত্রিসভা ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। ২০০৪ সালে বাজপেয়ী সরকারের পতনের পর আর মন্ত্রী হননি মমতা। কিন্তু ২০০৯ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ফের কেন্দ্রীয় সরকারে যোগ দেন ও দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের সময় ফের রেলমন্ত্রী হন। তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মনমোহন সিং (Manmohan Singh)।

২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসন ভেঙে মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর থেকে রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে ২০১৪ সাল থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা তিনবার ক্ষমতায় এসেছেন নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। মমতা সরাসরি না হলেও তাঁর সঙ্গে পরোক্ষ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথাও আসতে পারে বইটিতে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসন ভেঙে মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর থেকে রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে ২০১৪ সাল থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা তিনবার ক্ষমতায় এসেছেন নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। মমতা সরাসরি না হলেও তাঁর সঙ্গে পরোক্ষ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথাও আসতে পারে বইটিতে। অন্যদিকে, এখনও পর্যন্ত মমতা তাঁর বইগুলিতে কবিতা, গদ্য, চিত্রকলা, আত্মজীবনীমূলক নানা বিষয় নিয়ে লিখেছেন। কিন্তু এবার তিনি জাতীয় রাজনীতির অন্দরমহল ও প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে কাজ করার নেপথ্য অভিজ্ঞতা সামনে আনতে চলেছেন। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বইটি প্রকাশিত হলে তা শুধু সাহিত্যপ্রেমীদের জন্যই নয়, ইতিহাস ও রাজনীতির গবেষকদের কাছেও এক মূল্যবান দলিল হয়ে উঠবে। প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক জীবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কখনও কংগ্রেসের নেত্রী, কখনও বিজেপি-সমর্থিত মন্ত্রী, আবার কখনও বিরোধী জোটের মুখ। আর সেই পথ চলায় ভারতের প্রায় সব প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেসব অজানা গল্পই উঠে আসতে পারে এই নতুন বইয়ে।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mobile Recharge Cost in India | মোবাইল রিচার্জের বাড়তি চাপ: সংকটে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার, জরুরি পদক্ষেপের দাবি

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment