Jalpaiguri health crisis | হেপাটাইটিস ও ল্যাপ্টোস্পাইরার আতঙ্কে জলপাইগুড়ির চেকরভিটা

SHARE:

পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং নোংরা পরিবেশ এই রোগ ছড়ানোর বড় কারণ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, প্রতিদিন প্রায় ৩৫০-৪০০ রোগী বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। তিনি বলেন, “জ্বর, পেট ব্যথা, বমি এসব উপসর্গ নিয়ে অনেকে ভর্তি হচ্ছেন। পরীক্ষা করলেই অনেক ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস বা ল্যাপ্টোস্পাইরা ধরা পড়ছে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলেই অনেক রোগ এড়ানো সম্ভব।”

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) জেলার রাজগঞ্জের (Rajganj) সন্ন্যাসীকাটা গ্রামপঞ্চায়েতের চেকরভিটা (Chekervita) গ্রাম এখন কার্যত রোগের আঁতুড়ঘর। গত ১৫-২০ দিনের মধ্যে গ্রামটির অন্তত ১৫০ জন মানুষ একসঙ্গে হেপাটাইটিস (Hepatitis) ও ল্যাপ্টোস্পাইরা (Leptospira) রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে উল্লেখ।

শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ কেউ বাদ নেই এই সংক্রমণ থেকে। গ্রামীণ হাসপাতালগুলিতে রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। চিকিৎসকদের কথায়, রোগীদের মধ্যে বেশিরভাগই জন্ডিস, জ্বর, পেট ব্যথা ও বমিভাবের মতো উপসর্গ নিয়ে আসছেন। ইতিমধ্যেই লিভারের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হওয়া এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে, যা আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির মূল উৎস গ্রামেই থাকা একটি মুরগির হ্যাচারি (Poultry Hatchery)। স্থানীয়দের দাবি, হ্যাচারি থেকে ছড়াচ্ছে প্রবল দুর্গন্ধ, যা এতটাই অসহনীয় যে ঘরের ভেতর টিকে থাকা দায় হয়ে উঠেছে। তার ওপর হ্যাচারি থেকে প্রচুর মাছি উড়ে খাবারের উপর বসছে, যা সরাসরি সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করছে। এক বাসিন্দা ক্ষোভের সুরে বলেন, “হ্যাচারি থেকে এমন দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে যে নাক চেপে থাকতে হয়। চারপাশে মাছির উপদ্রব ভয়ঙ্কর, খাবারে বসে রোগ ছড়াচ্ছে।” আরেকজন গ্রামবাসী রাজগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালের (Rajganj Rural Hospital) সামনে দাঁড়িয়ে জানান, “এত মাছি যে মশারি টাঙিয়ে খেতে বসতে হয়। স্বাস্থ্য দফতর যদি এখনই ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে।”

পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং নোংরা পরিবেশ এই রোগ ছড়ানোর বড় কারণ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, প্রতিদিন প্রায় ৩৫০-৪০০ রোগী বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। তিনি বলেন, “জ্বর, পেট ব্যথা, বমি এসব উপসর্গ নিয়ে অনেকে ভর্তি হচ্ছেন। পরীক্ষা করলেই অনেক ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস বা ল্যাপ্টোস্পাইরা ধরা পড়ছে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলেই অনেক রোগ এড়ানো সম্ভব।”
-প্রতীকী চিত্র

স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং নোংরা পরিবেশ এই রোগ ছড়ানোর বড় কারণ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, প্রতিদিন প্রায় ৩৫০-৪০০ রোগী বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। তিনি বলেন, “জ্বর, পেট ব্যথা, বমি এসব উপসর্গ নিয়ে অনেকে ভর্তি হচ্ছেন। পরীক্ষা করলেই অনেক ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস বা ল্যাপ্টোস্পাইরা ধরা পড়ছে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলেই অনেক রোগ এড়ানো সম্ভব।” তবে শুধুমাত্র হাসপাতাল ভর্তি নয়, বহির্বিভাগেও ভিড় বেড়ে গিয়েছে। অনেক রোগীকে চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও, নতুন করে রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে অবিলম্বে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দিতে হবে, বিশেষত পানীয় জল ও খাবারের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে হেপাটাইটিস ও ল্যাপ্টোস্পাইরা, উভয়ই মারাত্মক রোগ ও চিকিৎসা না হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। হেপাটাইটিসে লিভারের ক্ষতি হয়, অন্যদিকে ল্যাপ্টোস্পাইরা রোগ কিডনি এবং স্নায়ুতন্ত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ছাড়া এই রোগ রোধ করা কঠিন।

গ্রামবাসীরা প্রশাসনের কাছে দাবি তুলেছেন, ওই হ্যাচারি অবিলম্বে বন্ধ করে গ্রামে জীবাণুনাশক ছড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে মাছি ও মশার দমন অভিযান চালানো প্রয়োজন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি, তবে স্বাস্থ্য দফতরের একটি দল প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয়দের কথায়, এই গ্রাম আগে এমন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখেনি। তারা মনে করছেন, গত কয়েক মাসে হ্যাচারির কার্যক্রম ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের অভাবই সংক্রমণের মূল কারণ। যতদিন পর্যন্ত উৎস নির্মূল না হবে, ততদিন বাসিন্দাদের সুস্থ হয়ে ওঠা ও পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়া, এই চক্র চলতেই থাকবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকরা সবাইকে জল ফুটিয়ে পান করার, খাবার ঢেকে রাখার, ঘরে মাছি-মশা প্রবেশ রোধ করার এবং অসুস্থ হলে অবিলম্বে হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে এই নির্দেশনা কতটা মানা হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। চেকরভিটার মানুষ এখন আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কারও জ্বর কমলেও, নতুন করে কারও অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। গ্রামের প্রতিটি পরিবার যেন এক অনন্ত অসুস্থতার চক্রে আটকে গেছে। রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রশাসনের তৎপরতা, স্বাস্থ্য দফতরের কার্যকর উদ্যোগ এবং স্থানীয়দের সচেতনতা, এই তিনের সমন্বয়ই এখন ওই গ্রামে একমাত্র সুস্থ্য আলো ফোটাতে পারে।

ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : Hina Khan cancer recovery, Hina Khan Rocky Jaiswal | কাজের ডাক মিলছে না, আক্ষেপ হিনা খানের! ক্যানসার পর কেরিয়ারের নতুন লড়াই অভিনেত্রীর

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন