সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি: জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক ঐতিহাসিক সাফল্য পেল ভারত। ২০৩০ সালের পূর্ব নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অনেক আগেই দেশ অর্জন করল ২৪২.৮ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা। এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছোঁয়ার খবর নিজেই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় কয়লা, খনি ও নবায়নযোগ্য শক্তিমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী (Pralhad Joshi)। সোশ্যাল মিডিয়া এক্স (X) মাধ্যমে তিনি লেখেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র নেতৃত্বে জলবায়ু নিয়ে ভারত তার লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছে।”
উল্লেখ্য, প্যারিস চুক্তির (Paris Agreement) প্রেক্ষিতে ভারত যে জাতীয় প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছিল, তার অন্যতম বড় অংশ ছিল ‘নন-ফসিল ফুয়েল’-নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করা। সেই লক্ষ্যে এগোতে গিয়েই মধ্যবর্তী ধাপে ২০৩০-এর আগেই ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা পুনর্নবীকরণযোগ্য উৎস থেকে পাওয়ার লক্ষ্য ছিল। এই লক্ষ্য পূরণের পথে ভারত যে অভূতপূর্ব অগ্রগতি করেছে, তা কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ঘোষণা করা এই সাম্প্রতিক ডেটাতেই পরিষ্কার। প্রহ্লাদ যোশী বলেন, “এই অর্জন শুধুমাত্র একটি সংখ্যা নয়, এটা ভারতীয় শক্তিনীতির রূপান্তরের একটি বড় চিহ্ন। একদিকে আন্তর্জাতিক স্তরে শক্তি নিরাপত্তার নতুন সংজ্ঞা তৈরি করছে ভারত, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের গ্রিন জার্নিরও নেতৃত্ব দিচ্ছে।” তাঁর মতে, এই অর্জন ভারতের আত্মনির্ভর শক্তি-ভবিষ্যতের দিকেও এক দৃঢ় পদক্ষেপ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও বলেন, “মোদীজি (Narendra Modi)-র পরিকল্পিত দিশায় এগোতে গিয়ে ভারত তার ‘গ্রিন টার্গেট’ আগেভাগেই ছুঁতে শুরু করেছে। এই গতিতে এগোলে ২০৩০-এর ৫০০ গিগাওয়াটের লক্ষ্যমাত্রাও সময়ের আগেই পূরণ হবে।”
বিগত দশকে ভারতের নবায়নযোগ্য শক্তির পরিকাঠামো যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রশংসিত হয়েছে বারবার। সৌরশক্তি (Solar Power), বায়ুশক্তি (Wind Energy), জলবিদ্যুৎ (Hydropower) এবং বায়োমাস (Biomass), এই চারটি ক্ষেত্রেই গত পাঁচ বছরে ভারতের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। ২০২৪ সালের মধ্যেই ২ লক্ষ ৪২.৮ গিগাওয়াটে পৌঁছনো মানে, মনে রাখা দরকার যে, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৪৫ শতাংশ এখন আসে নন-ফসিল ফুয়েল উৎস থেকে।
এখানেই থেমে থাকছে না সরকার। জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের (National Power Grid) সম্প্রসারণ, সবুজ হাইড্রোজেন (Green Hydrogen) উৎপাদনের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ সব মিলিয়ে ভারতের ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ইকোসিস্টেম’ আরও সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা চলছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জলবায়ু রাজনীতিতে ভারতের এই সাফল্য একটি ‘পজিশনাল অ্যাডভান্টেজ’ তৈরি করবে। ভারত যেভাবে নন-ফসিল শক্তির ক্ষেত্রে অগ্রণী হয়ে উঠছে, তা শুধু পরিবেশ রক্ষাই নয়, তবে ভবিষ্যতের শক্তি কূটনীতিতেও দেশকে নেতৃত্ব দিতে সাহায্য করবে। ‘ইন্টারন্যাশনাল রিনিউয়েবল এনার্জি এজেন্সি’ (IRENA)-র সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে নবায়নযোগ্য শক্তির সবচেয়ে দ্রুততর প্রসার ঘটেছে ভারত, চীন (China) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (United States)। তবে ভারতের বিশেষত্ব হল, এখানে এই প্রসার ঘটছে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার অধীনে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে। গ্রামীণ ভারতেও সৌরবিদ্যুৎ এবং মাইক্রো-গ্রিড প্রকল্পগুলি কার্যকর হয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
এত দ্রুত অগ্রগতির পিছনে একাধিক সরকারি প্রকল্পের ভূমিকা আছে, যেমন ‘কুশল ভারত’, ‘সৌর মিশন’, ‘জাতীয় হাইড্রোজেন মিশন’, ও ‘উজ্জ্বলা’-র মতো নানা প্রকল্প। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্য সরকারও স্থানীয় পর্যায়ে নবায়নযোগ্য শক্তিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। যদিও কিছু বিশেষজ্ঞ পরিকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ ও নীতি বাস্তবায়নের গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তবু এত বড় মাইলফলকে পৌঁছনো নিঃসন্দেহে ভারতীয় শক্তি ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে রইল।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Bankura Flood 2025 | দ্বারকেশ্বর গিলে নিল প্রাণ, টানা বৃষ্টিতে ভাসছে বাঁকুড়া, সেতু-রাস্তা বন্ধ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন




