সাশ্রয় নিউজ ★ ওয়াশিংটন, ৫ জুলাই: বিতর্ক, সমালোচনা, উল্লাস আর সামরিক উড়ানের গর্জন সব মিলিয়ে একজন অভিনব আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সই করলেন বহুচর্চিত ‘বড় ও সুন্দর বিল’-এ। যার আনুষ্ঠানিক নাম ‘Tax and Spending Cuts Act’। এই বিলের মধ্য দিয়ে আমেরিকায় চালু হল এক নতুন যুগ যেখানে করছাড়ের মোড়কে স্বাস্থ্য বিমার মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সুবিধায় ছেঁটে ফেলার আশঙ্কা প্রবল।শুক্রবার (স্থানীয় সময়) হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে আয়োজিত এক বিশাল সমর্থন-সমাবেশে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, “এই আইন আমাদের সেনা, সাধারণ নাগরিক, ব্যবসায়ী, প্রত্যেকের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে। আজ আমরা পেলাম আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় করছাড় ও খরচ কমানোর আইন। সীমান্ত সুরক্ষায় এটাই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। আমেরিকান জনগণ এত খুশি আগে দেখিনি।” অনুষ্ঠানের আবহেই আকাশে চক্কর দেয় আমেরিকার সামরিক বিমান ও বম্বার। যা সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছিল, সেই যুদ্ধবিমানগুলির প্রদর্শন যেন ছিল নতুন আইনের প্রতি প্রতীকী সমর্থন।
এই বিল ‘পাশ’ হয় হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টিটিভসে (House of Representatives) ২১৮-২১৪ ভোটে। তার আগেই সেনেটে তা অনুমোদিত হয়েছিল। অর্থাৎ ৪ জুলাই, আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসের আগেই সময়সীমা পূরণ করল রিপাবলিকানরা। আইনটি অনুযায়ী, করছাড়ের নীতিগুলি আরও শক্তভাবে চালু থাকবে, বিশেষ করে ২০১৭ সালের ট্রাম্প যুগের করছাড়গুলিকে স্থায়ী রূপ দেওয়া হল। পাশাপাশি সরকার যে ব্যয় করে নাগরিকদের স্বাস্থ্য বিমায়, তাতে বড়সড় কাটছাঁট হতে পারে। ফলে লক্ষ লক্ষ আমেরিকান নাগরিক তাদের স্বাস্থ্য বিমার অধিকার হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা।
এছাড়াও, অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প যে কঠোর অভিযান শুরু করেছিলেন, এই নতুন আইনের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে বলে মত বিশ্লেষকদের। “এটা কেবল একটি আর্থিক নীতি নয়, বরং এর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট হল,” বলেন আমেরিকান পলিসি অ্যানালিস্ট রাচেল জেনিংস (Rachel Jennings)। এই বিলকে ঘিরে রাজনৈতিক তাপমাত্রাও বেড়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন প্রযুক্তি ও বাণিজ্য জগতের এক বড় নাম ইলন মাস্ক (Elon Musk)। সরকারের খরচ কমাতে মাস্ককে দিয়েই তৈরি হয়েছিল একটি বিশেষ দফতর। কিন্তু এই নতুন বিলের ঘোরতর বিরোধিতা করেন তিনি। এমনকী সরকারি পদ থেকেও ইস্তফা দেন। মাস্কের অভিযোগ, “এই আইন আমেরিকার অর্থনীতিকে সঙ্কটের দিকে ঠেলে দেবে। লাখো মানুষ চাকরি হারাবেন। সরকারের খরচ কমানোর জন্য আমি যে পদক্ষেপ নিয়েছিলাম, সেগুলি ভেস্তে যাবে।” এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, “মাস্কের হুঁশিয়ারি আমলে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। দেশের স্বার্থে যা করণীয়, তাই করছি।”
এই বিবাদ এখন ট্রাম্প বনাম মাস্ক সঙ্ঘাতের রূপ নিয়েছে। মাস্কের মতো একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রকাশ্যে বিরোধিতা করায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশ্বের দৃষ্টি এখন আমেরিকার দিকে। কারণ এই বিলের বাস্তবায়ন কেবল আমেরিকার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক লগ্নিকারীদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ট্রাম্প যেভাবে দ্বিতীয় দফার শাসনকালে বাজেট কাটা ও অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা জোরদারের মতো বিষয়কে প্রাধান্য দিচ্ছেন, তা থেকেই স্পষ্ট তাঁর ভবিষ্যতের রাজনৈতিক অভিসন্ধি।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sasraya News Sunday’s Literature Spacial | Issue 72, 6th July 2025, Sunday | সাশ্রয় নিউজ রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল | ৬ জুলাই ২০২৫, সংখ্যা ৭২। রবিবার




