Kasba Rape Case | কসবায় ধর্ষণকাণ্ডে ফুঁসছে ছাত্র সমাজ, শাসকদলের দিকে তির বিরোধীদের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা : কসবায় আইন কলেজে তরুণী ধর্ষণের (Kasba Rape Case) ঘটনায় রাজ্য জুড়ে উত্তাল রাজনীতি। এক বছর আগে আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ-খুনের ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনার তুলনা টেনে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে এসএফআই (SFI)। শুক্রবার তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মূল অভিযুক্তের পরিচয় প্রথমে ‘এম’ বলা হলেও পরে প্রকাশ্যে আসে তার পুরো নাম। সূত্রের খবর, অভিযুক্ত ব্যক্তি তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP)-এর নেতা। এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে (Debanjan De) বলেন, ‘‘সাউথ কলকাতা ল’ কলেজে তৃণমূলের ছত্রছায়ায় অপরাধচক্র তৈরি হয়েছে। আরজি করের ঘটনার পরও ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে শাসকদলের ভাবনা নেই। এখানেও একই ঘটনা ঘটল। মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কলেজে ২০-৩০টি দুর্নীতি, শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের হুমকির অভিযোগ রয়েছে।’’

অন্যদিকে বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপি (ABVP) দাবি করেছে, মূল অভিযুক্ত দক্ষিণ কলকাতা টিএমসিপি-র সম্পাদক পদে রয়েছেন। সংগঠনের এক নেতা জানান, ‘‘ভোট লুটের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি ছাত্রীদের ভয় দেখানো ও শ্লীলতাহানির মতো অপরাধেও তার নাম আছে।’’ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য (Trinankur Bhattacharya) এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘যে অভিযুক্তের কথা বলা হচ্ছে, সে কলেজের কর্মচারী। ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যুক্ত নয়। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তৃণমূল এমন কোনও অপরাধ বরদাস্ত করে না।’’ দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ও যুব সংগঠনের সভাপতি সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায় (Sarthak Bandopadhyay) বলেন, ‘‘অভিযুক্তদের সঙ্গে ছাত্র পরিষদের কোনও যোগ নেই। আইন অনুযায়ী শাস্তি হোক।’’

কসবা ধর্ষণকাণ্ডকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুর আড়াইটেতে কসবা পোস্ট অফিসের সামনে জমায়েতের ডাক দেয় ডিএসও (DSO)। বিকেল ৪টেয় কসবা থানার সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে অভয়া মঞ্চ। রাজ্যের নারী নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে মহিলারা সুরক্ষিত নন। দক্ষিণ কলকাতার কলেজের ছাত্রী ধর্ষণ প্রমাণ করছে এই সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতা পুলিশের কমিশনার দীঘার রথ উৎসবে মমতার পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে ভাববার সময় নেই।’’ অন্যদিকে, কংগ্রেসও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার (Shubhankar Sarkar) বলেন, ‘‘পুলিশ-প্রশাসন যদি সক্রিয় থাকত, তা হলে এমন ঘটনা ঘটত না। শাসকদলের নেতারা যখন প্রকাশ্যে পুলিশকে হুমকি দেন, তখন বোঝা যায় প্রশাসনের কী দশা।’’ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সমাজ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘এ ধরনের জানোয়ারদের পিঠের চামড়া গুটিয়ে দেওয়া উচিত। পুলিশ যেন সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করে। বিরোধীদের এই নিয়ে বলার নৈতিক অধিকার নেই, কারণ এদের শাসনকালেও এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে তৃণমূল এই ধরনের অপরাধ বরদাস্ত করবে না।’’ তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Bandopadhyay) বলেন, ‘‘ধর্ষণ করে কিছু পুরুষ। আইন দিয়ে সমাজ পরিবর্তন হবে না, মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করা উচিত।’’ এখন দেখার, পুলিশের তদন্ত কোন দিকে গড়ায়, এবং সমাজ ও রাজনীতি মিলে এই ঘটনার কী পরিণতি টানে। ততদিন পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, কলেজ চত্বর কী ছাত্রছাত্রীদের জন্য আদৌ নিরাপদ?

ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : Puri Ratha Yatra | জনসমুদ্রে প্রভু জগন্নাথদেবের অবগাহন

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন