সাশ্রয় নিউজ ★ ঢাকা : বাংলাদেশে চলমান বিদ্যুৎ সঙ্কটের নিরসনে এবার নতুন কৌশলে পা বাড়াল ইউনূস সরকারের (Yunus Government)। ভারতের উপর নির্ভরতা কমানোর চিন্তা থাকলেও বাস্তবে সেই নির্ভরতার পরোক্ষ উপস্থিতি থেকেই যাচ্ছে। এবার ভারতের ট্রান্সমিশন লাইন ব্যবহার করে নেপাল (Nepal) থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করতে চলেছে বাংলাদেশ (Bangladesh)। ২০২৩ সালের অক্টোবরে একটি ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ভারত (India), নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে। সেই চুক্তির আওতায় ভারত তার ৪০০ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন ব্যবহারের অনুমতি দেয় বাংলাদেশকে। আর এবার সেই লাইন ব্যবহার করেই নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানি শুরু হচ্ছে বলে সূত্র মারফৎ খবর।
বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ (Nasrul Hamid) এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা বিভিন্ন উৎস থেকে সাশ্রয়ী দামে বিদ্যুৎ সংগ্রহের চেষ্টা করছি। নেপালের সঙ্গে এই উদ্যোগ আমাদের বিকল্প জোগান নিশ্চিত করবে।” বর্তমানে বাংলাদেশ ভারতের আদানি গ্রুপের (Adani Group) কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনে থাকে। ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) গোড্ডায় (Godda) আদানি গোষ্ঠী একটি ১৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করেছে, যেখান থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় বাংলাদেশে। তবে সেই বিদ্যুতের দাম নিয়ে বিগত ক’য়েক মাস ধরেই অসন্তোষ দেখা দিয়েছে ঢাকার তরফে। সূত্র মারফৎ জানা যায়, আদানির (Gautam Adani) বিদ্যুৎ সরবরাহের ইউনিট প্রতি খরচ ৮.৭ বাংলাদেশি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় তা বাংলাদেশি উৎপাদনের তুলনায় ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। এই ব্যয় বোঝা লাঘবের চিন্তাতেই বিকল্প হিসেবে নেপালের জলবিদ্যুৎ বেছে নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নেপাল থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের দাম হবে ইউনিট প্রতি প্রায় ৭ টাকা, যা অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ সস্তা। তবে এখানেই রয়েছে এক মজার বিপরীত। ভারত থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ না কিনলেও, ভারতের ট্রান্সমিশন লাইন ব্যবহার করেই সেই বিদ্যুৎ ঢুকবে বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে। অর্থাৎ ভারতকে বাইপাস করার চেষ্টা হলেও, ভারতের ভূগোল ও পরিকাঠামো ছাড়া সেই চেষ্টাও অসম্পূর্ণ।
জুন থেকে নভেম্বর এই পাঁচ মাস ধরে চলবে বিদ্যুৎ আমদানির এই নতুন অধ্যায়। ভবিষ্যতে এই পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে কি না, তা নির্ভর করবে বাংলাদেশের প্রয়োজন ও অর্থনৈতিক বিবেচনার উপর বলে উল্লেখ। বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞ মিজানুর রহমান (Mizanur Rahman) বলছেন, “এটা একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। ভারতকে বাইপাস করার ইচ্ছা থাকলেও, বর্তমানে বিদ্যুৎ আমদানির বাস্তবতা হল, ভারতকেই ভরসা করে বাইরের বিদ্যুৎ আনতে হচ্ছে। কিন্তু এতে বাংলাদেশের খরচ কমবে, এটাই প্রধান সাফল্য।” এই চুক্তি নিঃসন্দেহে দক্ষিণ এশিয়ার বিদ্যুৎ বাজারে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে। কিন্তু এতে বাংলাদেশ ঠিক কতটা লাভবান হবে, আর কতটা সত্যিই ভারতনির্ভরতা কমবে, তার উত্তর সময়ই দেবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Alia Bhatt : দ্বিতীয়বার মা হচ্ছেন আলিয়া!




