পরিধি চক্রবর্তী ★ সাশ্রয় নিউজ : মুম্বইয়ের গ্ল্যামার দুনিয়ায় তারকাদের জীবন যতটা ঝলমলে দেখায়, তার আড়ালে থাকে অনেক অজানা গল্প, আত্মত্যাগ আর অপেক্ষা। বলিউডে নিজের পথচলা শুরু করেই এমনই একটি অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী পলক তিওয়ারি (Palak Tiwari)। অভিনেতা সলমন খানের (Salman Khan) সঙ্গে তাঁর কাজ করার সুযোগ পাওয়ার আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক অনবদ্য ত্যাগ। যা স্বেচ্ছায় করেছেন পলক। সলমন খানের ছবি ‘কিসিকা ভাই কিসিকা জান’ (Kisi Ka Bhai Kisi Ki Jaan)-এর মাধ্যমেই অভিনয়ের অভিষেক হয় পলকের। কিন্তু ক্যামেরার সামনে আসার আগেই তিনি ক্যামেরার পেছনে এক অন্য ভূমিকায় কাজ করেছেন। সলমনের প্রযোজনা সংস্থার ছবি ‘অন্তিম: দ্য ফাইনাল ট্রুথ’ (Antim: The Final Truth)-এ তিনি সহ-পরিচালকের (Assistant Director) দায়িত্ব সামলান। সেই সময়েই এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারে পলক জানান, ‘অন্তিম’-এ কাজের জন্য কোনও পারিশ্রমিক নেননি তিনি। তাঁর কথায়, “পয়সা আবার কী জিনিস! সলমন খানের উপস্থিতিতে আমি সেখানে থাকতে পারছি। এর পরেও আমি টাকা চাইব? আর তা ছাড়া, তখন আমি অনেকটাই ছোট ছিলাম। আমি কী এমন করতাম, যার জন্য ওরা আমাকে টাকা দেবে!” এই কথাতেই বোঝা যায়, তিনি শুধুমাত্র অভিজ্ঞতার টানেই কাজটি করেছিলেন, কোনও আর্থিক লাভের প্রত্যাশা ছিল না। বলিউডে প্রবেশের এই ধাপে অনেকেই লড়াই করেন স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য। আর পলক সেখানে সলমনের মতো সুপারস্টারের সঙ্গে কাজের সুযোগকে নিজেই যথেষ্ট বলে মনে করেন। সলমন খানের প্রতি তাঁর এই মুগ্ধতা এখানেই থামে না। পলক বলেন, “একটা গোটা ছবি আমি ওঁর (সলমন খানের) সঙ্গে করেছি। যখনই ওর সঙ্গে দেখা হয়েছে অথবা তিনি আমাকে কোনও মেসেজ পাঠিয়েছেন, আমি হতভম্ব হয়ে গিয়েছি। সাধারণত তারকাদের দেখে আমি হতভম্ব হয়ে যাই না। আমার সামনে যে কাউকে বসিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু, আমার সামনে সলমন খান থাকলে আমি বাক্রুদ্ধ হয়ে যাই। আমার ব্যক্তিত্ব সম্পূর্ণ বদলে যায়। তার পরে তিনিই আশ্বস্ত করে বলেন, ‘ধীরে সুস্থে কথা বলো’।” এতটাই স্নেহে ভরা সম্পর্কের আভাস মেলে পলকের কথায়। আজকের দিনে যেখানে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিযোগিতা, চেনাজানা আর সুযোগ পাওয়ার লড়াই চরমে। সেখানে এক নবাগত অভিনেত্রীর এমন স্বতঃস্ফূর্ত ভালবাসা আর কৃতজ্ঞতাবোধ সত্যিই ব্যতিক্রমী। স্মৃতি রোমন্থন করে পলক জানান, সহ-পরিচালকের ভূমিকায় কাজ করতে গিয়ে তিনি শুধু অভিনয় শেখেননি, বরং বোঝেন একটি ছবির পুরো প্রক্রিয়া কেমন করে চলে। আর সেই শেখার পথিকৃৎ ছিলেন সলমন খান নিজেই। এমনকী, অভিনেতার তরফে পাওয়া অনুপ্রেরণার কথাও বারবার উঠে এসেছে তাঁর কথায়। সালমানের দিক থেকে যে উৎসাহ এবং মমতা পেয়েছেন, তা পলকের বলিউডের প্রতি ভালোবাসাকে আরও দৃঢ় করেছে। আজ তিনি যখন পর্দায় নতুনদের মধ্যে এক পরিচিত মুখ হয়ে উঠছেন, তখন তাঁর এই যাত্রার প্রাথমিক দিনগুলোর স্মৃতি উঠে আসে, যেখানে টাকা নয়, অভিজ্ঞতা আর ভালবাসাই ছিল তাঁর মূল পুঁজি। পলকের মা শ্বেতা তিওয়ারি (Shweta Tiwari) নিজেও একজন জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী। সেই সুবাদে গ্ল্যামার জগৎ তার অচেনা ছিল না। কিন্তু বড়পর্দায় জায়গা করে নেওয়া, নিজের পরিচিতি গড়ে তোলা এবং একজন সুপারস্টারের সান্নিধ্যে কাজ করা, এসবই ছিল তাঁর জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। এই অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস ও শিক্ষা ভবিষ্যতে তাঁকে আরও মজবুত করবে বলেই মনে করছেন অনুরাগীরা। বলিউডের মতো প্রতিযোগিতাপূর্ণ দুনিয়ায় দাঁড়িয়ে, যেখানে অনেকেই কেবল পারিশ্রমিকের দিকেই নজর রাখেন, সেখানে পলকের এমন দৃষ্টিভঙ্গি যেন এক সদ্যস্নান তাজা হাওয়ার মতো। পলকের এই যাত্রা কেবল তাঁর নয়, এক প্রজন্মের প্রতিফলন। যারা সুযোগের কদর করে, শেখার জন্য প্রস্তুতি ও ধৈর্যের মূল্য বোঝে। সলমনের মতো মেন্টরের পাশে থেকে যাঁরা কৃতজ্ঞতা বজায় রাখতে জানে, তারাই ভবিষ্যতের বলিউড গড়বে নতুন ভাবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Salman Khan : ভক্তদের উদ্দেশ্যে কী বললেন সালমান




